প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার একজন যুবককে ইতালি নেওয়ার প্রলোভনে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা দীর্ঘ ২ বছর ধরে জিম্মি রেখেছিল। অবশেষে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ইন্টারপোল এবং লিবিয়া পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-এর যৌথ উদ্যোগে ভুক্তভোগী যুবক পরিবারে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।
ফেরত আসা যুবক নাবিদুল ইসলাম ফাহিম, যিনি বাপ্পু নামে পরিচিত, তার বয়স ২৩ বছর। তিনি নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার বাংলাপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীন সিকদার ও রাজিয়া সুলতানা (কল্পনা) দম্পতির পুত্র।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ জুন) ভোরে নাবিদুল ইসলাম ফাহিম, অর্থাৎ বাপ্পু, দেশে পৌঁছান। সকাল ৬টার সময় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পেকুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা তাকে গ্রহণ করেন।
স্বজনরা জানান, গত ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই সংগঠিত মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে বাপ্পুকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখানো হয়। উন্নত জীবনের আশ্বাস দিয়ে প্রথমে তাকে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর এই চক্রটি তাকে জিম্মি করে এবং পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে। তাদের দাবির মুখে পরিবার তিন দফায় মোট ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে, কিন্তু এরপরও চক্রটি আরও অর্থ দাবি করে। এই কারণে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়। সেই দীর্ঘ সময় ধরে বাপ্পু মানবপাচারকারী চক্রের হাতে নির্যাতিত হন এবং মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়েছিলেন।
এ বিষয়ে বাপ্পুর মা বাদী হয়ে গত ২০২৫ সালে নভেম্বর মাসে মানবপাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যের নাম উল্লেখ করে পেকুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তের সূত্র ধরে ভিকটিমকে উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শেষে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এনসিবি (ইন্টারপোল বাংলাদেশ) বিষয়টি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লিবিয়া পুলিশের এনসিবির কাছে উপস্থাপন করে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ইন্টারপোল এবং লিবিয়া পুলিশের এনসিবির সমন্বিত উদ্যোগে বাপ্পুর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কূটনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
পেকুয়া থানার ওসি মেহেদী হাসান এই ব্যাপারটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মানবপাচার মামলাটি রুজুর পর বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ইন্টারপোল-বাংলাদেশ এবং লিবিয়া পুলিশ এনসিবির সমন্বিত উদ্যোগে মাত্র সাত মাসের মধ্যে ভিকটিমকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এটি মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ।’
ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন