০৪:১৮ পি.এম
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সোমবার রাজধানীর তথ্য ভবনের ডিএফপি সম্মেলন কক্ষে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘বাকশালী শাসনে সংবাদপত্র বন্ধের কালো দিবস’ স্মরণে এবং ‘ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় মিডিয়ার ব্যার্থতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, 'বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দাঁড়িয়ে একটি স্বাধীন এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপরিহার্য।'
তিনি বলেছিলেন, এই কমিশন মিডিয়ার প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বাতলে দেবে। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর দায়িত্বশীলতার সীমারেখাও নির্ধারণ করবে।
সেই সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বললে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহুমতের সহবস্থানের কথা আসে। আবার গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতার কথা বললে গণমাধ্যমের জবাবদিহিতার কথাও চলে আসে। বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টি না থাকলে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন এবং দায়িত্বশীল কমিশন গঠন সম্ভব হবে না।’
আরও পড়ুন: ২ বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত, ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৭টি প্রমাণিত
তিনি অতীতে উদাহরণ টেনে বলেন, এক সংবাদপত্র পাঠক হিসেবে তার কাছে মনে হয়েছে অতীতে সব উদ্যোগ ছিল আংশিক। কারণ, তা কখনো পূর্ণাঙ্গতা পায়নি এবং কোনো কাঠামো তৈরি করেনি, ফলে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। এর দায় বিগত সরকারের।
তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, অতীতে আতাউর রহমান খানের অধীনে একটি প্রেস কমিশন গঠন করা হয়েছিল, কিন্তু সেই কমিশনের রিপোর্ট ও সুপারিশ কখনো প্রকাশ পায়নি। তিনি সাবেক একজন বিজ্ঞ বিচারপতির নেতৃত্বে নতুন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। এই কমিশনে তথ্য ও আইন মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল, সংবাদপত্রগুলোর ট্রেড ইউনিয়ন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধি থাকতে পারে।
তিনি বলেন, এই নতুন কমিশন নীতি, আইন ও কাঠামো প্রণয়ন করবে। এটি গণমাধ্যমের পেশাগত ও বাণিজ্যিক উভয় দিকের বিকাশের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে এবং এথিক্যাল জার্নালিজমকে উত্সাহিত করবে।
উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ব্রিটিশ ‘অফিস অব কমিউনিকেশন’ কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন’ কিভাবে তাদের নীতি ও বিধিমালা সমৃদ্ধ করেছে, তা সকলকে মেনে চলতে বাধ্য করে। ফলে একদিকে তাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে স্বাধীনতাকে নৈরাজ্যের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য দায়িত্বশীলতার সীমারেখাও তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় 'হাত ধোয়ার নায়ক হোন' শ্লোগানে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
তিনি আরও জানান, জাতীয় সম্পাদক কাউন্সিল, মালিক সমিতি, সম্পাদকদের সংগঠন, সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে তিনি ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করছেন। লক্ষ্য ও কাঠামোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে এক মঞ্চে রেখে ঐক্যমত তৈরি করতে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সেমিনারে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল।
প্রধান প্রবন্ধে মারুফ কামাল খান সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে গণতন্ত্রের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন বাকশাল গঠনের পর দেশের সব সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, সত্যিকার অর্থে মিডিয়ার স্বাধীনতা মানে নিজের মত প্রকাশ করার অধিকার। যদি কেউ দ্বিমত পোষণ করে, তার প্রতিবাদ লেখার মাধ্যমে হবে, কিন্তু কোনো শক্তির মাধ্যমে কণ্ঠরোধ করা যাবে না।
আরও পড়ুন: রিজভী: গ্যারান্টি ক্লজের অভাবে তিস্তার পানি পায়নি বাংলাদেশ
তিনি যুক্ত করেন, যারা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী ছিল এবং হত্যাকাণ্ডকে মিডিয়ায় জায়েজ করতে চেয়েছে, তাদের সঙ্গে কোনও আপস নেই। তাদের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন