ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে নিখোঁজ যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে


বরিশালে নিখোঁজ যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে

বরিশালের কালিজিরা নদী থেকে নিখোঁজ নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত সোমবার (১৫ জুন) সকালে এই মরদেহটি নগরীর কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড় থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাজমুল বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাকরকাঠি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রশিদ মোল্লার ছেলে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়রা সকালে কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড়ে একটি বস্তায় অর্ধেক বন্দি অবস্থায় মরদেহটি ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল এসে বস্তাবন্দি অবস্থায় নাজমুলের মরদেহটি উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৩ জুন) সকালে নাজমুল প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দুপুরে নাজমুলের ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি উত্তর দেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে রোববার (১৪ জুন) নিহতের বাবা আব্দুল রশিদ মোল্লা বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের স্ত্রী নীপা বেগম জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে নাজমুল বাড়িতে এসে সন্তানকে দেখে যান। রাতে আমাদের নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। নাজমুলের কোনো শত্রু ছিল না, তাহলে কেন এভাবে ওকে মেরে ফেলা হলো।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা জানিয়েছেন, সুরতহাল শেষে মরদেহটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশের এই সহকারী কমিশনার।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশকে বেনজীর ফিরিয়ে নিতে বলল সংযুক্ত আরব আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


বাংলাদেশকে বেনজীর ফিরিয়ে নিতে বলল সংযুক্ত আরব আমিরাত

দুবাইতে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘এনসিবি আবুধাবি’ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ‘এনসিবি ঢাকা’ শাখায় এই আহ্বান জানানো হয়েছে, যার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন (এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট) পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়েছিল। সে সময় আদালত দেশের ‘ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬’-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল।

চিঠিতে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ (নং- A-5174/4-2025) অনুযায়ী বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারের পর ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমের সাহায্যে বাংলাদেশ সরকারকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ জমা দিতে হবে। অন্যথায় আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য মূল অনুরোধপত্রের সঙ্গে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সম্পূর্ণ আরবি ভাষায় অনুবাদ করে, উপযুক্ত স্বাক্ষর ও সিলমোহরসহ জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিসমূহ নিম্নরূপ উল্লেখ করা হয়েছে:

১. অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, বিস্তারিত বিবরণ, ছবি এবং তার জাতীয়তা ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য।

২. যে অপরাধের জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, বাংলাদেশের আইনে তার সুনির্দিষ্ট ধারা, সর্বোচ্চ শাস্তি এবং সীমাবদ্ধতার সংবিধির কপি।

৩. বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা।

৪. মামলার ঘটনার বিবরণ, অপরাধের ধরন, সময় ও স্থান উল্লেখপূর্বক তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি।

৫. যদি ব্যক্তিটি ইতোমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন, তবে আদালতের রায় এবং সাজা কার্যকরের আনুষ্ঠানিক অনুলিপি।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর আহমেদ। তিনি লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে দুবাই ট্রানজিটে গ্রেপ্তার হন।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ছিলেন। উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বোচাগঞ্জে ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ পি.এম


বোচাগঞ্জে ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের ডিএন অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমানকে তাঁর সাবেক স্ত্রী শিল্পীর বিরুদ্ধে পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৪ জুন) দুপুরের দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌর এলাকার রামদাস পাড়ায় এই ঘটনাটি ঘটে।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় মোস্তাফিজুর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি সেতাবগঞ্জ পৌসভার মৃত ডা. নিয়াজ উদ্দিনের পুত্র। ইতোমধ্যে সেখানে সহকারী পুলিশ সুপার (কাহারোল সার্কেল) মো. মনিরুজ্জামান এবং বোচাগঞ্জ থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

দিনাজপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (কাহারোল সার্কেল) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রবিবার দুপুরে মোস্তাফিজুর রহমান আহত হন। প্রথমে তাঁকে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে আজ সোমবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে এসে আমরা জানতে পেরেছি যে, মোস্তাফিজুরের সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে তার কিছু বিরোধ ছিল এবং বনিবনা ছিল না। অভিযুক্ত স্ত্রী এখানে যাতায়াত করতেন। আমরা প্রাথমিকভাবে কোতোয়ালি থানার মাধ্যমে মোস্তাফিজুরের সাবেক স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়েছি। ভবিষ্যতে পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৫ হাজার নতুন মিডওয়াইফ নিয়োগের ঘোষণায় বাংলাদেশকে ইউএনএফপিএর অভিনন্দন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ পি.এম


২৫ হাজার নতুন মিডওয়াইফ নিয়োগের ঘোষণায় বাংলাদেশকে ইউএনএফপিএর অভিনন্দন

রবিবার (১৪ জুন) বিশ্বের বৃহত্তম মিডওয়াইফ সমাবেশ ‘৩৪তম আইসিএম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেস’ পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের মাতৃস্বাস্থ্য সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের ঐতিহাসিক ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ সংঘের (আইসিএম) ৩৪তম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেসে বাংলাদেশ এই বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় দেশে ২৫ হাজারেরও বেশি নতুন মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টি হবে, যা মাতৃমৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

এই বিশ্বের বৃহত্তম মিডওয়াইফ সমাবেশ ‘৩৪তম আইসিএম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেস’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং ইউএনএফপিএর বৈশ্বিক নির্বাহী পরিচালক ডিয়েন কেইটা যৌথভাবে বাংলাদেশের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডিয়েন কেইটা বাংলাদেশকে পেশাদার মিডওয়াইফ গঠনে একটি ‘পথপ্রদর্শক’ দেশ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরো বলেছেন, বৈশ্বিক মিডওয়াইফারি অ্যাক্সিলারেটরে নেতৃত্বদানকারী অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

লিসবনের মঞ্চে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছে যে মিডওয়াইফদের পেছনে বিনিয়োগ করা মানে মানুষের জীবন রক্ষায় বিনিয়োগ করা। এই যুগান্তকারী অঙ্গীকার একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে—মাতৃমৃত্যু কোনো অনিবার্য বাস্তবতা নয়।’

উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার মায়ের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে, যারা বর্তমানে প্রতিরোধযোগ্য কারণেই সন্তান জন্মদানের সময় মৃত্যুবরণ করেন।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে যেখানে ৫৭৪ জন মায়ের মৃত্যু হতো, বর্তমানে সেই হার কমে ১৩৬-এ নেমে এসেছে। তবু দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ প্রসব বাড়িতে সম্পন্ন হয় এবং ৬ হাজার ২১৫টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত মিডওয়াইফের সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ৫৫৭ জন, যা প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষ মিডওয়াইফরা একাই অপরিহার্য যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, মাতৃ ও নবজাতক পরিচর্যা এবং কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবার প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত প্রদান করতে সক্ষম। পাশাপাশি তারা মাতৃ ও নবজাতকের দুই-তৃতীয়াংশ মৃত্যুঝুঁকি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই খাত অত্যন্ত লাভজনক—মিডওয়াইফ সেবায় বিনিয়োগ করা প্রতি ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ১৬ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া সম্ভব।

সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রতিরোধমূলক ও আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ। তিনি বলেন, ‘যখন আমরা মিডওয়াইফদের ক্ষমতায়ন করি, তখন আমরা নারীদের ক্ষমতায়ন করি। আর নারীরা ক্ষমতায়িত হলে পরিবার শক্তিশালী হয়, পরিবার শক্তিশালী হলে সমগ্র জাতিও আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।’

গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লায়লা মুনতাজেরী দীনা এবং দূতালয় প্রধান এস. এম. গোলাম সরোয়ারও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৯ বছরের মধ্যে শিক্ষাজীবনের শেষ, অভিনয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


৯ বছরের মধ্যে শিক্ষাজীবনের শেষ, অভিনয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হন

শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটে মাত্র ৯ বছর বয়সে। কিন্তু সেখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন একটি যাত্রা, যা পরবর্তীকালে তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি খ্যাতিতে আসীন করে।

একটি ছোট্ট মেয়ের নাম আফরোজা সুলতানা রত্না, যিনি পরে হয়ে ওঠেন কোটি কোটি দর্শকের প্রিয় অভিনেত্রী শাবানা। তার অসাধারণ অভিনয়-দক্ষতা, পর্দায় অনবদ্য উপস্থিতি এবং অদ্বিতীয় সৌন্দর্য কারণে তিনি ‘ঢালিউডের বিউটিকুইন’ খ্যাতি অর্জন করেন।সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য, জনপ্রিয় চলচিত্র নায়িকা শাবানা - আমাদের খবর

১৯৫২ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে তার জন্ম। তার বাবা ছিলেন ফয়েজ চৌধুরী এবং মা ফজিলাতুন্নেসা।

১৯৬২ সালে পরিচালক আজিজুর রহমানের মাধ্যমে শিশু শিল্পী হিসেবে তার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয়। তার প্রথম অভিনয় ছিল এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ ছবিতে। পরে তিনি নৃত্যশিল্পী হিসেবেও কাজ করেন।

অভিনয়ে যাত্রা শুরুর মাত্র পাঁচ বছর পরেই নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রত্না। ১৯৬৭ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চকোরী’ চলচ্চিত্রে পাকিস্তানি অভিনেতা নাদিমের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। এই ছবির মাধ্যমেই তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘শাবানা’, আর সেই নামেই তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে যান।

বাংলা চলচ্চিত্রে শাবানাকে কেন্দ্র করে একটি বহুল প্রচলিত কথা রয়েছে ‘সেলাই মেশিন মানেই শাবানা’। কারণ, তিনি পর্দায় অসহায়, সংগ্রামী নারী কিংবা মায়ের চরিত্রে এত বাস্তবসম্মত অভিনয় করেছেন যে দর্শকের মনে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলেছে। বহু ছবিতে দেখা গেছে, স্বামী পরিত্যক্ত এক নারীর চরিত্রে সন্তানকে মানুষ করার জন্য তিনি সেলাইয়ের কাজ করছেন।

সুতরাং, সেলাই মেশিন যেন তার অভিনয় জীবনের এক প্রতীক হয়ে উঠেছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও তার সফল পদচারণা ছিল। ১৯৭৯ সালে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান এস এস প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত ‘মাটির ঘর’ ছিল তার প্রথম প্রযোজিত চলচ্চিত্র। আজিজুর রহমান পরিচালিত এই ছবিতে রাজ্জাক ও শাবানার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়।

১৯৮৮ সালে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবিতে ‘বিরোধ’ অভিনয় করে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় আসেন। এ ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন বলিউড কিংবদন্তি অভিনেতা রাজেশ খান্না। পরে ছবিটি হিন্দিতে ‘শত্রু’ নামে ডাবিং করে মুক্তি দেওয়া হয়।

দেশীয় কিংবদন্তিদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কিংবদন্তিদের সঙ্গেও সাক্ষাতের সুযোগ তার ছিল। ১৯৮৯ সালের অক্টোবরে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত ও বিশ্বখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্ন বাংলাদেশ সফরে এসে এফডিসি পরিদর্শন করেন। সে সময়ে তিনি শাবানাসহ দেশের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।স্কুল-কলেজে পড়েননি, অভিনয় দিয়েই কিংবদন্তি শাবানা

ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৪ সালে তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী ওয়াহিদ সাদিককে বিয়ে করেন। তারা যৌথভাবে এস এস প্রোডাকশন্স প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের সংসারে দুটি মেয়ে—সুমি ও ঊর্মি এবং এক ছেলে নাহিন রয়েছে।

পুরস্কারের দিক থেকে শাবানা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অনন্য। ১৯৭৭ সালে ‘জননী’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পার্শ্বচরিত্র বিভাগে মনোনীত হয়েছিলেন, তবে তিনি সেই পুরস্কার গ্রহণ করেননি। ১৯৮০ সালে ‘সখী তুমি কার’ ছবির জন্য প্রথমবার সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।Audrey Hepburn served as UNICEF's goodwill ambassador ...

এরপর তিনি মোট ১১ বার সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন, যা এখনো কোনো বাংলাদেশি অভিনেত্রীর জন্য সর্বোচ্চ অর্জন। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

১৯৯৯ সালে অভিনয় থেকে বিদায় নিয়ে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন শাবানা। যদিও তার শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ মুক্তি পায় ২০০১ সালে। আজিজুর রহমান পরিচালিত এই ছবিটি ছিল শাবানা-আলমগীর জুটির শেষ সিনেমা। বাংলা চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বেশি জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয়ের রেকর্ড তাদের দখলে রয়েছে। শাবানা মোট ২৯৯টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে ১৩০টিতে তার সহশিল্পী ছিলেন আলমগীর।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং ২০২০ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। এরপর তার দেশে আসা হয়নি। পর্দা থেকে দূরে থাকলেও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এবং দর্শকের হৃদয়ে শাবানা আজও এক অমলিন কিংবদন্তি।দেশে ফিরেছেন শাবানা?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%