বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৩৯ পি.এম
ভারতের নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে দুর্দান্ত বিক্ষোভ একই সঙ্গে নতুন এক আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। হাজারো শিক্ষার্থীর স্লোগানে মুখরিত হয়ে রয়েছে দিল্লীর রাজপথ। টানা চলেছে বিক্ষোভের ধারা। আর এই আন্দোলনস্থলে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্নতা। হঠাৎ করেই পৌঁছে যাচ্ছে সমুচা, চা, ঠান্ডা পানীয় ও নানা ধরনের খাবারের প্যাকেট। মজার বিষয় হলো, খাবার নিতে সেখানে হাজির হচ্ছেন না কোনো ক্রেতা। বরং ডেলিভারি কর্মীদের বলা হচ্ছে, আন্দোলনকারীদের মধ্যে এই খাবারগুলো বিলিয়ে দিতে হবে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কারা পাঠাচ্ছেন এইসব খাবার? কেন বিদেশ থেকেও আসছে এসব খাবারের অর্ডার?
আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানাতে দেশ ও বিদেশের অনেক মানুষ বেছে নিয়েছেন অভিনব এই কৌশল। অনলাইনে খাবার অর্ডার করে তারা সেগুলো সরাসরি আন্দোলনস্থলে পাঠাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুইগি ও জোম্যাটোর মতো অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে পাঠানো হচ্ছে খাবার ও পানীয় আন্দোলনকারীদের জন্য। এরপর ডেলিভারি কর্মীদের বলা হচ্ছে, যাদের প্রয়োজন তাদের মধ্যে খাবারগুলো বিনামূল্যে বিতরণ করতে।
সুইগির ডেলিভারি কর্মী প্রদীপ কুমার সিং ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, যন্তর মন্তর এখন তার কাছে হয়ে উঠেছে নিয়মিত ডেলিভারি গন্তব্য। তিনি বলেন, অর্ডার দেওয়ার পর গ্রাহকরা তাকে ফোন করে শুধু বলেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে খাবারগুলো বিলিয়ে দিতে। সেখানে কেউ খাবার নিতে আলাদাভাবে আসেন না। তিনি আরও জানান, একদিন তার কাছে সমুচার একটি বড় অর্ডার এসেছিল। তাকে শুধুমাত্র বলা হয়েছিল, যাদের প্রয়োজন তাঁদের হাতে সেটি তুলে দিতে হবে।
শুধু ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, বিদেশ থেকেও আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার পাঠানো হচ্ছে। আরেক ডেলিভারি কর্মী মহেন্দ্র কুমার জানান, তিনি এক বিদেশি গ্রাহকের পাঠানো চায়ের অর্ডার নিয়ে এসেছিলেন যন্তর মন্তরে। তবে তিনি জানেন না, ওই অর্ডারটি কে দিয়েছে। তাকে শুধু নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, আন্দোলনরত ভাইদের হাতে চা পৌঁছে দিতে হবে।
অন্যদিকে, জোম্যাটো ও জেপ্টোর এক ডেলিভারি কর্মী এই উদ্যোগটিকে ‘স্টুডেন্ট সার্ভিস’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, প্রেরকের পরিচয় পুরোপুরি গোপন রাখা হয়েছে। তাকে শুধু নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সব খাবার আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিতরণ করতে।
এদিকে, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় চারটি, কনট প্লেস থানায় তিনটি এবং মন্দির মার্গ, বারাখাম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আন্দোলনস্থলে পৌঁছে যাওয়া এসব খাবার ও পানীয় যেন দিয়ে যাচ্ছে আরেকটি বার্তা। কেউ পরিচয় প্রকাশ না করেও নিজেদের সমর্থনের কথা জানিয়ে দিচ্ছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে পুলিশের অভিযান চলাকালে এক মাদক কারবারির বাড়িতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, ছুরি, এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায়, উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের রমজান আলী মোক্তার বাড়িতে আবুল হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেনের ঘরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রব জানিয়েছেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, চিহ্নিত মাদক কারবারি সাকিব হোসেনের কাছে অস্ত্র রয়েছে এবং পরে তার বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।
ওসি আরও জানান, তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, বিভিন্ন ধরনের ছুরি এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, "এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।" পাশাপাশি, পলাতক সাকিব হোসেনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরো জানান, সাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং চন্দ্রগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে কৃষক পর্যায়ে আরও ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়া হবে।
আজকের অনুষ্ঠানে, যা রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে, ‘বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব প্রশমনে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভিযোজন প্রকল্প’-এর জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব ড. মো. রফিকুল ই মোহামেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান।
মন্ত্রী বিবৃতিতে বলেছেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবের কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। তিনি জানান, সংরক্ষণ ব্যবস্থা বৃদ্ধি করে পেঁয়াজ আমদানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং উৎপাদন বাড়িয়ে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে এক কোটি মানুষ বিদেশে বসবাস করে। তারা দেশী পেঁয়াজ খাওয়ার আগ্রহী। যদিও বিশ্বের অন্যান্য দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ সবজির মতো শোভা পায়। প্রকৃতপক্ষে পেঁয়াজ বলতে আত্মস্থ যে পেঁয়াজ, তা আমাদের দেশীয় পেঁয়াজই।
কৃষি মন্ত্রী বলেন, দেশে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণের অভাবের কারণে আমাদের পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। অতএব, আমরা পেঁয়াজের সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এভাবে পেঁয়াজ আমদানি শূন্যের কোঠায় নামানো হবে এবং একই সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধি করে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ রপ্তানি করা হবে।
এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে পেঁয়াজ সংরক্ষণের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে শুরু হয়ে প্রকল্পটি ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পটির জন্য মোট ব্যয় ধার্য করা হয়েছে ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড এ প্রকল্পটির অর্থায়ন করছে। প্রকল্পটি পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রংপুর ও বগুড়া সহ মোট ১৬ জেলার ১০৭টি উপজেলায় বাস্তবায়ন হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় পেঁয়াজের সংগ্রহ পরবর্তী পচন রোধ করতে ৩ হাজার ৭০০টি পরিবেশবান্ধব এয়ার ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হবে। এর ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং দেশের আমদানি ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে। প্রকল্পের আওতায় কৃষক পর্যায়ে ৩ হাজার ৯০০ জন কৃষককে কারিগরি প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে শিরোপা হারিয়েছে। মাঠের পরাজয়ের পর অবশ্য বিতর্ক থেমে থাকেনি। বিশ্বকাপজুড়ে রেফারিং এবং ফিফার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে একটি অনলাইন পিটিশন শুরু হয়েছে, যা আর্জেন্টিনাকে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ থেকে বিচ্ছিন্ন করার দাবিতে। এই পিটিশন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
‘Argentina Out’ বা ‘আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বের করে দাও’ শিরোনামের এই পিটিশনে এক সপ্তাহের কম সময়ে ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮ জন স্বাক্ষর প্রদান করেছেন। শুরুতে আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল ৫০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা, কিন্তু এটি অল্প সময়ের মধ্যেই ছাড়িয়ে গেছে। আয়োজকরা জানান, বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশের মানুষ এই পিটিশনে অংশ নিয়েছেন।
পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বকাপজুড়ে ফিফা এবং ম্যাচ কর্মকর্তা আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছে। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘যদি বিজয়ীর নাম আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে, তাহলে অন্য দলগুলো কেন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে?’ এভাবে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে সবার জন্য ন্যায্যতা নিশ্চিত করা উচিত।
ফাইনালে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার ১-০ গোলের পরাজয়ের পর পিটিশনের আয়োজকরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা পিটিশন সমাপ্ত ঘোষণা করে বলেছেন, ফিফা আমাদের কথা শোনেনি কিন্তু স্পেন আমাদের কথা রেখেছে। ধন্যবাদ স্পেন।
তবে বিপুল সাড়া পাওয়ার পরও এই পিটিশন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অনলাইন পিটিশনের রেকর্ড গড়তে পারেনি। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি স্বাক্ষর পাওয়া পিটিশন এখনো ‘জুবিলি ২০০০’ ঋণ মওকুফ আন্দোলনের পিটিশন। সেদিন মোট ২ কোটি ৪৩ লাখ ১৯ হাজার ১৮১ জন স্বাক্ষর করেছেন। ফলে ‘Argentina Out’ পিটিশনটি অল্পের জন্য সেই রেকর্ড স্পর্শে ব্যর্থ হয়েছে।
এত বিপুল সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ফিফা আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে কোনভাবেই বাধ্য নয়। এই কারণে, এটি আপাতত সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তিকরণ ও নতুন সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় হামলা, ভাঙচুর এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এতে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
হামলার ফলে সভা পণ্ড হয়ে যায় এবং পরে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্ত করে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ করা নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
তবে সভা শুরু হওয়ার আগেই একদল ব্যক্তি ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়। এসময় পরিষদের দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর করা হয়। এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, সভার প্রস্তুতির সময় কিছু লোক স্লোগান দিতে দিতে জড়ো হন। পরে তারা হামলা ও ভাঙচুরের কাজ শুরু করে, ফলে কয়েকজন আহত হন।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহাজালাল চৌধুরী বলেন, বৈঠক চলাকালে দেশীয় অস্ত্র এবং ইট-পাটকেল নিয়ে একদল লোক হামলা চালায়। এতে তিনিসহ কয়েকজন আহত হন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব জুনাইদ আলী অভিযোগ করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল না। খবর দেওয়ার পরও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে মতবিনিময়সভা পণ্ড করা হয়েছে, যা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনীক চৌধুরী জানিয়েছেন, হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, টেকনাফ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরো কার্যকর ও জনবান্ধব করে তোলার জন্য বিদ্যমান পাঁচটি ইউনিয়ন পুনর্গঠন করে নতুন ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রস্তাবের পর এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বাহারছড়া ইউনিয়ন বিভক্তির পরিকল্পনা থেকে সরে এলেও হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং এবং টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বিভক্তিকরণ এগিয়ে নিতে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় স্থানীয়দের মতামত গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন বিভক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনমত, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এছাড়া প্রস্তাবিত সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ