প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে দুর্দান্ত বিক্ষোভ একই সঙ্গে নতুন এক আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। হাজারো শিক্ষার্থীর স্লোগানে মুখরিত হয়ে রয়েছে দিল্লীর রাজপথ। টানা চলেছে বিক্ষোভের ধারা। আর এই আন্দোলনস্থলে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্নতা। হঠাৎ করেই পৌঁছে যাচ্ছে সমুচা, চা, ঠান্ডা পানীয় ও নানা ধরনের খাবারের প্যাকেট। মজার বিষয় হলো, খাবার নিতে সেখানে হাজির হচ্ছেন না কোনো ক্রেতা। বরং ডেলিভারি কর্মীদের বলা হচ্ছে, আন্দোলনকারীদের মধ্যে এই খাবারগুলো বিলিয়ে দিতে হবে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কারা পাঠাচ্ছেন এইসব খাবার? কেন বিদেশ থেকেও আসছে এসব খাবারের অর্ডার?
আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানাতে দেশ ও বিদেশের অনেক মানুষ বেছে নিয়েছেন অভিনব এই কৌশল। অনলাইনে খাবার অর্ডার করে তারা সেগুলো সরাসরি আন্দোলনস্থলে পাঠাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুইগি ও জোম্যাটোর মতো অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে পাঠানো হচ্ছে খাবার ও পানীয় আন্দোলনকারীদের জন্য। এরপর ডেলিভারি কর্মীদের বলা হচ্ছে, যাদের প্রয়োজন তাদের মধ্যে খাবারগুলো বিনামূল্যে বিতরণ করতে।
সুইগির ডেলিভারি কর্মী প্রদীপ কুমার সিং ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, যন্তর মন্তর এখন তার কাছে হয়ে উঠেছে নিয়মিত ডেলিভারি গন্তব্য। তিনি বলেন, অর্ডার দেওয়ার পর গ্রাহকরা তাকে ফোন করে শুধু বলেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে খাবারগুলো বিলিয়ে দিতে। সেখানে কেউ খাবার নিতে আলাদাভাবে আসেন না। তিনি আরও জানান, একদিন তার কাছে সমুচার একটি বড় অর্ডার এসেছিল। তাকে শুধুমাত্র বলা হয়েছিল, যাদের প্রয়োজন তাঁদের হাতে সেটি তুলে দিতে হবে।
শুধু ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, বিদেশ থেকেও আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার পাঠানো হচ্ছে। আরেক ডেলিভারি কর্মী মহেন্দ্র কুমার জানান, তিনি এক বিদেশি গ্রাহকের পাঠানো চায়ের অর্ডার নিয়ে এসেছিলেন যন্তর মন্তরে। তবে তিনি জানেন না, ওই অর্ডারটি কে দিয়েছে। তাকে শুধু নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, আন্দোলনরত ভাইদের হাতে চা পৌঁছে দিতে হবে।
অন্যদিকে, জোম্যাটো ও জেপ্টোর এক ডেলিভারি কর্মী এই উদ্যোগটিকে ‘স্টুডেন্ট সার্ভিস’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, প্রেরকের পরিচয় পুরোপুরি গোপন রাখা হয়েছে। তাকে শুধু নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সব খাবার আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিতরণ করতে।
এদিকে, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় চারটি, কনট প্লেস থানায় তিনটি এবং মন্দির মার্গ, বারাখাম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আন্দোলনস্থলে পৌঁছে যাওয়া এসব খাবার ও পানীয় যেন দিয়ে যাচ্ছে আরেকটি বার্তা। কেউ পরিচয় প্রকাশ না করেও নিজেদের সমর্থনের কথা জানিয়ে দিচ্ছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন