প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে কৃষক পর্যায়ে আরও ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়া হবে।
আজকের অনুষ্ঠানে, যা রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে, ‘বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব প্রশমনে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভিযোজন প্রকল্প’-এর জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব ড. মো. রফিকুল ই মোহামেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান।
মন্ত্রী বিবৃতিতে বলেছেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবের কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। তিনি জানান, সংরক্ষণ ব্যবস্থা বৃদ্ধি করে পেঁয়াজ আমদানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং উৎপাদন বাড়িয়ে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে এক কোটি মানুষ বিদেশে বসবাস করে। তারা দেশী পেঁয়াজ খাওয়ার আগ্রহী। যদিও বিশ্বের অন্যান্য দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ সবজির মতো শোভা পায়। প্রকৃতপক্ষে পেঁয়াজ বলতে আত্মস্থ যে পেঁয়াজ, তা আমাদের দেশীয় পেঁয়াজই।
কৃষি মন্ত্রী বলেন, দেশে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণের অভাবের কারণে আমাদের পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। অতএব, আমরা পেঁয়াজের সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এভাবে পেঁয়াজ আমদানি শূন্যের কোঠায় নামানো হবে এবং একই সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধি করে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ রপ্তানি করা হবে।
এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে পেঁয়াজ সংরক্ষণের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে শুরু হয়ে প্রকল্পটি ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পটির জন্য মোট ব্যয় ধার্য করা হয়েছে ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড এ প্রকল্পটির অর্থায়ন করছে। প্রকল্পটি পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রংপুর ও বগুড়া সহ মোট ১৬ জেলার ১০৭টি উপজেলায় বাস্তবায়ন হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় পেঁয়াজের সংগ্রহ পরবর্তী পচন রোধ করতে ৩ হাজার ৭০০টি পরিবেশবান্ধব এয়ার ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হবে। এর ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং দেশের আমদানি ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে। প্রকল্পের আওতায় কৃষক পর্যায়ে ৩ হাজার ৯০০ জন কৃষককে কারিগরি প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন