ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিবিএ আওয়ামী লীগপন্থী নেতা তুহিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সুদের কারবার নির্যাতনে দিশেহারা অসহায় মানুষ


বরিশালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিবিএ আওয়ামী লীগপন্থী নেতা তুহিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সুদের কারবার নির্যাতনে দিশেহারা অসহায় মানুষ

উপশিরোনাম: আলেকান্দায় ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিক, হকার ও অসহায় মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগ; সুদের টাকা আদায়ে হয়রানি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও সাধারণ মানুষকে অপমান-অপদস্ত করার অভিযোগ ঘিরে তদন্তের দাবি।


বরিশাল নগরীর আলেকান্দা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিবিএ নেতা ও আওয়ামী লীগপন্থী নেতা তুহিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সুদের কারবার, অসহায় মানুষকে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে অপমান-অপদস্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা হতো। সেই প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকার, বাড়ির মালিক এবং আর্থিক সংকটে থাকা সাধারণ মানুষ—বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। সুদের বিনিময়ে টাকা ধার দেওয়া, নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধে বিলম্ব হলে চাপ সৃষ্টি এবং ব্যবসা বা নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে অর্থ দাবির অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তুহিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সুদের বিনিময়ে টাকা ধার দেওয়া এবং পাওনা আদায়কে কেন্দ্র করে ঋণগ্রহীতাদের হয়রানি। স্থানীয় অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক সংকটে পড়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে সুদের টাকা দিতে না পারলে তাঁকে অপমান-অপদস্ত, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্যাতনের মুখে পড়তে হতো।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দরিদ্র মানুষের আর্থিক দুরবস্থাকে বিবেচনায় না নিয়ে টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে তাঁদের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়। সীমিত আয়ের মানুষ যখন সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খান, তখন ঋণের টাকা ও সুদ পরিশোধে বিলম্বকে কেন্দ্র করে হয়রানির অভিযোগ তাঁদের আরও অনিরাপদ করে তোলে।

প্রশ্ন উঠেছে, আর্থিক লেনদেনের বিরোধকে কেন্দ্র করে কোনো অসহায় মানুষকে অপমান বা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে কি না, হলে কোন পরিস্থিতিতে এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন। এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, লেনদেনের নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত জরুরি।

আলেকান্দা এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে তুহিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট হারে টাকা চাওয়া হতো। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানাভাবে হয়রানি করা হতো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, দাবিকৃত টাকা না দিলে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।

ব্যবসা পরিচালনার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। সেই অধিকার ক্ষুণ্ন করে কেউ প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায় করে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ।

তুহিনের বিরুদ্ধে নতুন বাড়ি নির্মাণ, জমি কেনাবেচা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করার সময় এককালীন মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কেউ জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করলে তাঁকে অর্থের জন্য চাপ দেওয়া হতো। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি এবং প্রাণনাশের ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগ সত্য হলে তা সাধারণ মানুষের সম্পত্তির অধিকার ও নিরাপদে বসবাসের ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করে। তবে কোন ব্যক্তি কখন, কোথায় এবং কত টাকা দাবি করেছেন—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে নথিপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ থাকলে সেগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন: বাংলা একাডেমির ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ সংস্কারে নতুন রূপ

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে তুহিন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অপমান-অপদস্ত করা, ভয়ভীতি দেখানো এবং অনুসারীদের নিয়ে প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পেতেন না। তবে অনুসারীদের নিয়ে ক্যাডারসদৃশ গোষ্ঠী গড়ে তোলার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, নির্দিষ্ট ঘটনা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পরিচয় কোনো ব্যক্তিকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না। আবার রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী বলেও চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়াই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।


তুহিনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের অপমান-অপদস্ত করার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, টাকা-পয়সার লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের সময় প্রভাব দেখিয়ে কথা বলা এবং মানুষকে হেয় করার ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে সম্মান না দিয়ে ক্ষমতা বা প্রভাবের দাপট দেখানো হলে সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ প্রতিবাদ করতে না পারলে তাঁদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

এসব অভিযোগের নির্দিষ্ট ঘটনা ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তুহিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয়, সাংগঠনিক পদ কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাব—কোনোটিই যেন তদন্তের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তে চাঁদাবাজি, হুমকি, নির্যাতন কিংবা অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

তুহিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত চাঁদাবাজি, সুদের টাকা আদায়ে হয়রানি, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে তুহিনের একাধিকবার ফোন করা হয়েছে ফোন রিসিভ করেনি পরবর্তীতে তার whatsapp নাম্বারে বার্তা পাঠিয়ে আপনার মূল্যবান বক্তব্য চাওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে আপনার বক্তব্য ঠিকভাবে সাংবাদে তুলে ধরা হবে কিন্তু তিনি বার্তা দেখেছে কিন্তু কোন উত্তর দেয়নি।

এ বিষয়ে কথা বলতে বরিশাল পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাবেদ ইকবাল-এর সাথে 'তালাশ বিডি' বরিশাল অফিস থেকে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার বিস্তারিত জানতে ও বক্তব্য চেয়ে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নম্বরে একটি লিখিত বার্তা পাঠানো হয়। তবে তুহিন সাহেব অবসরে গেছেন, নাকি তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে—এ বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য বা দাপ্তরিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে অবরোধ চলছে, দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ

তালাশ বিডির পর্যবেক্ষণ: সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। চাঁদাবাজি, সুদের লেনদেনকে কেন্দ্র করে হয়রানি কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ বিরুদ্ধে সবসময় সব সময় সোচ্চার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলেমদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে রফিকুল ইসলাম মাদানির বিস্ফোরক পোস্ট!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


আলেমদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে রফিকুল ইসলাম মাদানির বিস্ফোরক পোস্ট!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলেম-ওলামাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ভুয়া ফটোকার্ড প্রচারের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানি। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি শৈশবে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে থাকলে ভুক্তভোগীদের সত্য প্রকাশ এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আলেম-ওলামাদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা এবং তাঁদের বিষয়ে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি তাঁদের বক্তব্যের পেছনের কারণ তুলে ধরার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, শৈশবে কোনো ধর্মীয় শিক্ষকের হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে থাকলে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ধরনের ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের বিচার পাওয়ার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার কথাও তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে পোস্টে আলেম-ওলামাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ভুয়া ফটোকার্ড প্রচারের প্রবণতা বন্ধের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, যৌন নিপীড়নের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা রক্ষা এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিবালয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় ১ কোটি টাকার জাল ধ্বংস, ১৫ জেলে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩২ এম


শিবালয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় ১ কোটি টাকার জাল ধ্বংস, ১৫ জেলে আটক

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পৃথক তিনটি অভিযানে ১ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ২ লাখ ৯০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ১০৫ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে এবং ১৫ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বাকি ২ জনের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শিবালয় উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মনিষা রানী কর্মকারের নেতৃত্বে যমুনা নদীতে অবৈধ মৎস্য আহরণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ১ লাখ ৫০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ১০০ কেজি মাছ জব্দ করা হয় এবং ১৩ জন অবৈধ মৎস্য আহরণকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল প্রদান করা হয়।

অপরদিকে, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও পাটুরিয়া নৌ-থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে যমুনা নদীতে মোট ৯০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২ জন অবৈধ মৎস্য আহরণকারী আটক করা হয়। পাটুরিয়া নৌ-থানা পুলিশ অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে ২ জন মৎস্য আহরণকারীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে।

আরেকটি অভিযানে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা যমুনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে মোট ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৫ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করে।

উক্ত অভিযানে জব্দকৃত ২ লাখ ৯০ হাজার অবৈধ কারেন্ট জালের আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসব জাল নদীর তীরে জনসমক্ষে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। জব্দকৃত ১০৫ কেজি ইলিশ মাছ স্থানীয় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছুটিতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর কাউখালীর ডলফিন চত্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ এম


ছুটিতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর কাউখালীর ডলফিন চত্বর

টানা সরকারি ছুটি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাশকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কঁচা নদীর তীরে নবনির্মিত ‘ডলফিন চত্বর’ ও বেকুটিয়া সেতু এলাকা এখন ভ্রমণপিপাসু মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ বিনোদনকেন্দ্রে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় করছেন নানা বয়সী দর্শনার্থী। পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও নবদম্পতিদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা।
ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শারদীয় দুর্গাপূজা কিংবা টানা ছুটির সময় কাউখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা এবং দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কঁচা নদীর তীর, নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি, ডলফিনের মুখ থেকে পানির ফোয়ারা এবং নদীর বুক থেকে বয়ে আসা মৃদু বাতাস দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। বিশেষ করে নদীর তীরঘেঁষা কাশবনের দোল খাওয়া আর খোলা পরিবেশে শিশু-কিশোরদের ছোটাছুটি পুরো এলাকায় সৃষ্টি করেছে প্রাণবন্ত আবহ।
দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ায় নদীর পাড় ও চত্বর এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি খাবারের হোটেল ও রেস্তোরাঁ। সেখানে বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি খাবারের স্বাদ নিতেও ভিড় করছেন অনেকে। কাউখালীর পাশাপাশি ভাণ্ডারিয়া, নেছারাবাদ, রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও পিরোজপুর সদর থেকেও প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন।
পূজার ছুটিতে বেড়াতে আসা মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুরভী বলেন, পূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে বেকুটিয়া সেতুর নিচে ডলফিন চত্বরে ঘুরে ভীষণ ভালো লেগেছে। শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ও ব্যস্ততার মধ্যে এখানকার খোলা বাতাস ও নদীর স্নিগ্ধ দৃশ্য মন জুড়িয়ে দিয়েছে। বারবার এখানে আসতে ইচ্ছে করে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রাফিদ ও কাউখালীর গৃহবধূ আইরিন বলেন, কাউখালীতে বিনোদনের জায়গার বেশ সংকট রয়েছে। বেকুটিয়া সেতুর নিচে ডলফিন চত্বর এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত একটি মানসম্মত ইকোপার্ক গড়ে তোলা হলে এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এতে কাউখালীসহ আশপাশের এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং বিনোদনকেন্দ্রটির পরিধি বাড়ানো গেলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ডলফিন চত্বর স্থানীয় পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলিমাজানি নদীর সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ এম


কলিমাজানি নদীর সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নে কলিমাজানি নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সম্পন্ন হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, কারণ দুবছরের কাজ পাঁচ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। সেতুর কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, তা নিয়ে দুই পারের মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৯ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৮৮ টাকা ব্যয়ে কলিমাজানি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড আব্দুস সালাম খান’ ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি কার্যাদেশ পেয়ে কাজ শুরু করে। তবে মূল কাজের অর্ধেক শেষ হওয়ার আগেই তারা কাজ বন্ধ করে দেয়।

উপজেলা প্রকৌশল অফিসের তাগিদে মাঝে মাঝে কাজ চললেও তা আবার থমকে যায়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানের অংশীদার মো. শাজাহানের তত্ত্বাবধানে পুনরায় কাজ শুরু হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই সোহাগপুর থেকে পিচঢালা একটি রাস্তা কলিমাজানি নদীর পাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে। বর্তমানে নদীর উত্তরপাড় থেকে খেয়া নৌকায় পার হয়ে কলিমাজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পথহারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করছে। একইভাবে দক্ষিণপাড় থেকে খেয়া পার হয়ে গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদ এবং স্থানীয় বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা যাতায়াত করছেন। সেতুটি চালু হলে কলিমাজানি, নয়াপাড়া ও ভানুয়াবহ গ্রামের মানুষ কালিয়াকৈরের আড়াইগঞ্জ হয়ে ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন।

সাব-কনট্রাক্টর মো. পারভেজ জানিয়েছেন, আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক কাজ পাওয়ার কারণে এবং আর্থিক সংকটে পড়ায় কাজের গতি কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে এবং দ্রুত মূল কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ করে কাজে গাফিলতি করায় বিলম্ব হয়েছে। তবে আমাদের অফিস থেকে সার্বক্ষণিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। আশা করা যায়, দ্রুতই কাজ শেষ করে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করা সম্ভব হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%