বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৪০ এম
প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে, ভুয়া সন্তান জন্ম দেয়ার পাশাপাশি স্বামীকে গাড়ি দুর্ঘটনায় হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চীনা বিনিয়োগকারী ৫২ বছর বয়সি লি পিং-এর স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। এটি রোমাঞ্চকর সিনেমার গল্প মনে হলেও, এটি বাস্তব জীবনের এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।
দীর্ঘ ৯ বছরের সময়কাল ধরে প্রায় ১৮ কোটি রুপি (১৩ মিলিয়ন ইউয়ান বা ১.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) খরচ করে, অবশেষে তিনি নিজের প্রতারক সাবেক স্ত্রীকে আইনের সামনে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে লি পিং-এর একটি ১৫ মিনিটের ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে, যা বর্তমানে চীনজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে লি পিং প্রায় ৭ কোটি ইউয়ান (১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় করেন। ২০১৪ সালে একটি ব্যবসায়িক ফোরামে ঝাং শুদান নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
ঝাং নিজেকে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা একজন লড়াকু নারী হিসেবে লির কাছে তুলে ধরেন। লির দাবি হলো, ঝাং মূলত তার আর্থিক অবস্থান দেখে পরিকল্পিতভাবে তার জীবনে প্রবেশ করেছিলেন। ঝাংয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে, লি তার ব্যাংকে ২ কোটি ইউয়ান জমা রাখেন এবং ঝাংয়ের পালক বাবা-মায়ের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের অর্থ সাহায্য করতে শুরু করেন। ২০১৫ সালের শুরুতে ঝাং বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মার্চ মাসে জানান যে তিনি গর্ভবতী। সেই খুশির আবহে, লি তার জন্য শেনঝেনে ৭৫ লাখ ইউয়ানের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দেন। এরপর ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
কিন্তু বিয়ের পরের দিনই ঘটে প্রথম রহস্যজনক ঘটনাটি। লি সড়কপথে শেনঝেন ফেরার সময় তার গাড়ির ব্রেক হঠাৎ বিকল হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে, লি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
এর কয়েক দিন পর, ব্যাংকের পারফরম্যান্সের উন্নতির অজুহাত দেখিয়ে ঝাং স্বামীর কাছ থেকে প্রায় ২৭ লাখ ইউয়ান হাতিয়ে নেন। এর পরপরই তিনি তার সমস্ত নথিপত্র এবং লির কেনা ৪টি সম্পত্তির মালিকানা দলিল নিয়ে উধাও হয়ে যান। পরে পুলিশ তদন্তে জানতে পারে যে, ঝাং হংকং হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে পালিয়ে গেছেন।
তদন্তের পর আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশ জানতে পারে, লির গাড়ির ব্রেক বিকল হওয়ার পেছনে ঝাং এবং তার এক সহযোগী জড়িয়ে ছিল। লি জানান, ‘সে যদি শুধু টাকা চুরি করত, তাহলে হয়তো এতটা পেছনে না লাগতাম। কিন্তু সে আমার প্রাণনাশের ষড়যন্ত্র করে যাতে আমার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে।’ তার প্রতারক স্ত্রীর খোঁজে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা করেন লি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশে তিনি ব্যক্তিগত গোয়েন্দা ও আইনজীবী নিয়োগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের গির্জা, চীনা কমিউনিটি সেন্টার এবং প্রসূতি কেন্দ্রগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ ৯ বছরের অনুসন্ধান এবং প্রায় ১৮ কোটি রুপি ব্যয়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে তিনি ঝাং ও তার সন্তানের সন্ধান পান। ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয় যে, ওই সন্তান লির নয়।
অবশ্য আইনি লড়াইয়ের শুরুতে বিষয়টি খুব সহজ ছিল না। ঝাং তখন এখনও লির আইনি স্ত্রী থাকায় প্রথম দিকে প্রতারণার মামলাটি থমকে যায়। তবে ২০২০ সালে শেনঝেনের একটি আদালত তাদের বিয়ে বাতিল ঘোষণা করে এবং ৪টি সম্পত্তি লি-এর নামে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। অবশেষে ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ঝাং শুদানকে জালিয়াতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভিসা জালিয়াতি, শিশু অপহরণ ও মানবপাচারের মতো ২৩টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ৬৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। ঝাংকে দেশ থেকে পালাতে সাহায্য করায় তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চীনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান লি পিং।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মার্কিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, যদি তেহরান অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তবে আগামী সপ্তাহে ইরানের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি তাদের (ইরান) জন্য সত্যিই খুব ভয়াবহ হতে যাচ্ছে। কারণ আগামী সপ্তাহে আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুগুলো। তারা যদি আলোচনায় না বসে এবং সমঝোতায় না আসে, তবে আমরা তাদের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেব।’
মার্কিন বাহিনীর এই অনড় অবস্থান এমন সময়ে সামনে এলো যখন মার্কিন সেনারা টানা চতুর্থ দিনের মতো ইরানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ-অবরোধ পুনর্বহাল করেছে।
এর ফলে গত ১৭ জুন দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া অত্যন্ত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে এই যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’। ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় নিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
কতদিন চলবে এই হামলা? যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান কতদিন স্থায়ী হবে—গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে, নিজের চিরচেনা আগ্রাসী ভঙ্গিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যতক্ষণ না পর্যন্ত বলব যে ‘যথেষ্ট হয়েছে’, ততক্ষণ এই হামলা অব্যাহত থাকবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সূত্র: আলআরাবিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কলম্বিয়ান পপসম্রাজ্ঞী শাকিরা ভেনেজুয়েলার শিক্ষা খাত পুনর্গঠনে বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২৪ জুনের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ায় সংকটময় মুহূর্তে সহায়তা দেওয়ার এ আহ্বান করেন তিনি। সম্প্রতি তিনি সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন। সেই ভিডিওবার্তায় ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’ ক্যাম্পেইনের পক্ষে এ বৈশ্বিক সংহতির ডাক দেন তিনি।
পপসম্রাজ্ঞী শাকিরার সঙ্গে প্রভাবশালী আরও অনেক ব্যক্তিত্ব এ প্রচারে যুক্ত হয়েছেন। মার্কিন সংগীতশিল্পী চার্লি পুত, শেফ মার্কাস স্যামুয়েলসন, ভেনেজুয়েলান গায়ক ড্যানি ওশান, জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্ডে হিচিলেমা, জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি-জেনারেল আমিনা মোহাম্মদ এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কৈলাশ সত্যার্থীও ভিডিওবার্তার মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে এই মহৎ উদ্যোগে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে শাকিরা বলেন, ইতোমধ্যে পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে অনুদান দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে আমাদের আরও অনেক দেশকে পাশে দরকার। এবার ফুটবলবিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও জার্মানির পালা। আপনারাও এগিয়ে আসুন— যাতে ভেনেজুয়েলাসহ বিশ্বজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুরা তাদের নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের লিগ্যাসি বা উত্তরাধিকার ধরে রাখার অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাপী শিক্ষা সহায়তায় ১০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে ক্যাম্পেইনটি পরিচালিত হচ্ছে। সেখানেই ভিডিওবার্তায় শাকিরা জানান, শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের আঘাতে ভেনেজুয়েলার ৪৩০টিরও বেশি স্কুল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে স্কুল খোলার পর হাজার হাজার শিশুর ক্লাশরুমে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে স্কুল পুনর্গঠন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বই, খাতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য দ্রুত তহবিল প্রয়োজন। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এ তহবিল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫ লাখ ডলার ভেনেজুয়েলার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলোকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান যুদ্ধের পরিস্থিতি এক নতুন এবং ভয়াবহ মোড় গ্রহণ করেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন বাহিনী ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে জোরালো একটি বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে।
এর উত্তরস্বরূপ, তেহরান উপসাগরীয় তিনটি দেশে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে। ইরান ঘোষণা করেছে যে, মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থেকে পিছিয়ে গেলেন, ঠিক তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই হামলা ও পালটা হামলার ঘটনা ঘটছে।
এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যেই ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের বিশেষ সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানাচ্ছে, নতুন করে মার্কিন অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে ইরানের তেল এবং গ্যাস রপ্তানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। তারা মার্কিন মিত্রদের পথও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি করেছে।
আইআরজিসি তাদের বক্তব্যে জানায়, ‘এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানি হবে সবার জন্য উন্মুক্ত, নইলে কারো জন্যও থাকবে না।’
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, মার্কিন এই অবরোধের সিদ্ধান্ত গত মাসে শান্তি আলোচনার অন্তর্বর্তীকালীন ‘ইসলামাবাদ স্মারক’ চুক্তিকে ভেঙে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে’— ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
মার্কিন হামলা এবং ইরানের পালটা আঘাতের মধ্যে সংঘাতের পঞ্চম দিনে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের উপকূলবর্তী এবং প্রণালির নিকটবর্তী ডজন খানেক সামরিক ঘাঁটিতে হামলার খবর দিয়েছে। কিন্তু ইরানি গণমাধ্যমগুলো বন্দর নগরী আব্বাস, কিশ দ্বীপ এবং বন্দর ইমাম খোমেনিতে বিশাল বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন হামলার পর immediately বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠে এবং কুয়েত ও জর্ডান তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আটকানোর দাবি করে। ইরানি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানাচ্ছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন যুদ্ধবিমান ঘাঁটিতে এবং বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন স্থাপনায় সফল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে।
অতিরিক্তভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেছেন, যদি তেহরান আলোচনায় বসতে না চায় তাহলে আগামী সপ্তাহে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।
মার্কিন সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইরান ক্রমাগত সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করেছে, যার ফলস্বরূপ অন্তত ১২ জন বেসামরিক ক্রু আহত, নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার ওমান উপকূলে একটি নরওয়েজিয়ান ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং কুয়েতের একটি নৌযান ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া, গত এক সপ্তাহে মার্কিন হামলায় ইরানে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইসরাইলে কোনো হামলা চালালে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দিমোনা শহর থেকে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে কেউ পার পেয়ে যাবে—সেই দিন শেষ হয়ে গেছে।
সূত্র: আল আরাবিয়া ’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, তেহরান দেশের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য কোনো উদ্যোগ নেবে না। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্যটি করেন।
গারিবাবাদি বলেন, যুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে আলোচনা করা একটি ‘প্রহসন’। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে শিক্ষিত করার অধিকার রাখে না। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন নিজেই আন্তর্জাতিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে অন্যদের দিকে উপদেশ দেওয়ার চেষ্টা করে।
উপসাগরীয় ৩ দেশে মার্কিন ঘাঁটি-স্থাপনার প্রেক্ষিতে ইরানের পাল্টা হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, হরমুজ প্রণালির বিষয়েও চলমান উত্তেজনা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওমানের সঙ্গে প্রণালিটির কিছু অংশের যৌথ মালিকানা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতি যুদ্ধকালীন। তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের জন্য অপরিহার্য।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গারিবাবাদির এই মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়ার ইঙ্গিত দেয় বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ