০৯:৩৬ পি.এম
রাজশাহীর তানোরে একটি স্কুল ছাত্রী কিশোরী (১৪) কে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় মুন্ডমালা পৌর সভার ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসারের নেতৃত্বে গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মুন্ডমালা পৌর এলাকার প্রকাশনগর গুচ্ছো গ্রামে। শালিসের ২২ দিন পর গত রোববার জরিমানার টাকা আদায় করা হয়। তবে, গত সোমবার পর্যন্ত ওই টাকা শালিসের মাতব্বরদের কাছে জমা ছিলো। ঘটনার কারণে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও সালিশে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই মুন্ডমালা পৌর সভার ৩ নং ওয়ার্ড এলাকার প্রকাশ নগর গুচ্ছো গ্রামের জৈনক ব্যক্তির পুত্র মনিরুল ইসলাম (৫৫) একই গ্রামের জৈনক ব্যক্তির স্কুল পড়ুয়া কন্যা (১৪) কে তার বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করার সময় প্রতিবেশীরা তাকে দেখে ফেললে মনিরুল পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাটি গ্রামবাসীর মধ্যে জনাজানি হয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পর দিন সন্ধ্যায় গুচ্ছো গ্রামের ফুটবল মাঠে শত শত লোক উপস্থিত হলে শালিস বৈঠকে ধর্ষণের চেষ্টাকারী মনিরুলকে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গত রোববার জরিমানা ২০ হাজার টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভিক্টিমের মা বলেন, আমরা থানায় অভিযোগ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কাউন্সিলর অভিযোগ করতে দেননি এবং আপোষ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, জরিমানার টাকা তারা এখনও পাননি। অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমি এমন ঘটনা ঘটাইনি। আমাকে হামলা ও মামলার ভয় দেখিয়ে গ্রামের ফুটবল মাঠে সালিসে বিচার বসিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জরিমানার ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা রোববার দুপুরে কাউন্সিলর আবুল বাসারের কাছে জমা দিয়ে স্ট্যাম্প করে নিয়েছি। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা আপোষ যোগ্য অপরাধ নয়, তাই এ ঘটনা আপোষেরও কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনকারীরা এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ঘটনার পর আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয়রা ঘটনা তদন্তের দাবি জানাচ্ছে ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে সালিশ বৈঠকের সভাপতি এবং সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসার বলেন, গ্রামের বেলাল উদ্দিন, রাশেল ও রোকনসহ পুরো গ্রামবাসী মিলে বিচার করা হয়েছে। ধর্ষণ চেষ্টা আপোষ যোগ্য অপরাধ নয়, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাদি থানায় অভিযোগ করবে না, তাই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিচার করা হয়েছে এতে সমস্যা কি? উল্টো তিনি সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন করেন। তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, আমি কয়েকদিন হলো তানোর থানায় যোগদান করেছি, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে, অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন