ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে জাতীয় সংসদে প্রস্তুতিমূলক সভা


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে জাতীয় সংসদে প্রস্তুতিমূলক সভা

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-২০২৬ কিভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করা যায়, সে লক্ষ্যেই প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্য বা সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে নতুন নির্বাচন পরিচালনা করতে হয়।

আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ: খাদ্যমন্ত্রী

এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার কার্যসূচি নির্ধারণ, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

মঙ্গলবারের এই বৈঠক থেকেই পরবর্তী দিকনির্দেশনা ও মূল কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিন কার্ড-নাগরিকত্ব-আশ্রয়ের আবেদন অনলাইনে করা বাধ্যতামূলক করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৭ পি.এম


গ্রিন কার্ড-নাগরিকত্ব-আশ্রয়ের আবেদন অনলাইনে করা বাধ্যতামূলক করছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধার জন্য অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব এবং আশ্রয়ের আবেদনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করা এবং পরিচালনার ব্যয় কমানো।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো ধরনের অভিবাসন সুবিধার আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ যদি অন্তত ১৮০ দিন ধরে থাকে, তবে সেই আবেদন অনলাইনেই জমা দিতে হবে। সুতরাং, ওই আবেদন আর কাগজে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। সোমবার মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) ফেডারেল রেজিস্টারে নতুন নিয়মটি প্রকাশ করেছে।

আগামীতে অনলাইনে জমা দেওয়ার জন্য আরো কিছু আবেদন প্রক্রিয়ার সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, কোনো আবেদন পুরোপুরি অনলাইনে নেওয়ার আগে অন্তত ৬০ দিন আগে নোটিশ দিতে হবে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অভিবাসন সংক্রান্ত বেশ কিছুর গুরুত্বপূর্ণ আবেদনে পরিবর্তন আসবে।

আবেদনকারীদের ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সাধারণত আবেদন করতে হবে। তারা সরাসরি অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। পাশাপাশি, আগে পূরণ করা আবেদনপত্রের পিডিএফ কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও অনলাইনে আপলোড করা যাবে।

ইউএসসিআইএস বলেছে, কাগজের আবেদন থেকে দ্রুত অনলাইন ব্যবস্থায় যাওয়াই এই নিয়ম প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য। কাগজপত্র গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য আলাদা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমবে। ইউএসসিআইএসের মতে, অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হলে পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

এছাড়া, আবেদনপত্রে ভুল করার সম্ভাবনাও কমবে। অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্য সহজে খুঁজে পাওয়া এবং বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে জালিয়াতি শনাক্ত করা এবং আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাই আরো কার্যকরভাবে করা যাবে।

যাহোক, যেসব আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না, তাদের জন্য ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এজন্য তাদের একটি আলাদা আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। ইউএসসিআইএস প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে, ওই ব্যক্তিকে কাগজে আবেদন করার অনুমতি দেওয়া হবে কি না। তবে, এ ধরনের ছাড়ের আবেদন করতে ২৫ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে।

অভিবাসন আবেদনব্যবস্থায় কাগজের ব্যবহার কমানোর অন্যতম কারণ হলো এর বিপুল খরচ। ২০২৫ অর্থবছরে ইউএসসিআইএস ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া করেছে। একই সময়ে ডাকযোগে আসা কাগজপত্র গ্রহণের কেন্দ্রগুলো প্রায় ৪৫ কোটি ৩০ লাখ পৃষ্ঠা কাগজের আবেদন সামলেছে। এই কাগজের আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য ইউএসসিআইএসের প্রায় ৩৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। শুধু ডাক খরচেই ১ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে।

মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর বলেছে, অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক হলে কাগজপত্র গ্রহণ, তথ্য কম্পিউটারে স্থানান্তর করা, ডাকযোগে পাঠানো, সংরক্ষণ এবং স্ক্যান করার খরচ কমবে। এতে খরচ কমার পাশাপাশি আবেদন যাচাই এবং সিদ্ধান্ত দেওয়ার কাজও দ্রুত হবে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে। নতুন ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে কাগজের আবেদন থেকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে। তবে, অনলাইনে আবেদন করতে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ছাড়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাগাসাকির পারমাণবিক হামলা: নেপথ্য কাহিনি জানালেন মার্কিন বিজ্ঞানী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩১ পি.এম


নাগাসাকির পারমাণবিক হামলা: নেপথ্য কাহিনি জানালেন মার্কিন বিজ্ঞানী

১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট, জাপানের নাগাসাকি শহরে যুক্তরাষ্ট্র একটি প্লুটোনিয়াম পারমাণবিক বোমা ফেলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে এই হামলায় শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

হামলার ৩০ বছর পর বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বোমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ফিলিপ মরিসন জানান, কেন সেই সময় পারমাণবিক বোমার ব্যবহার বন্ধ করা যায়নি। তিনি একই সাথে আরো পারমাণবিক হামলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

মরিসন বলেন, ‘মানবতার প্রতি উদ্বেগের অভাব ছিল না। বরং মানবতার প্রতি উদ্বেগই এর কারণ ছিল।

সম্ভবত সেটাই ছিল পাপ।’ ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার ৩০ বছর পর মরিসন বিবিসির কাছে সেই সময়ের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

তিনি জানান, নাগাসাকিতে ওই নজিরবিহীন হামলার আগের দিন ও সপ্তাহগুলোতে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মরিসন প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য মিত্রশক্তির গোপন কর্মসূচি ‘ম্যানহাটন প্রকল্প’-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি নিউ মেক্সিকোর লস অ্যালামোস গবেষণাগারে কাজ করতেন। গবেষণাগারটির নেতৃত্বে ছিলেন তার সাবেক শিক্ষক জে রবার্ট ওপেনহাইমার।

১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই প্রথম পারমাণবিক বোমার ‘ট্রিনিটি’ পরীক্ষা হয়। মরিসন সেই পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষার জন্য প্লুটোনিয়াম কোরটি তিনি গাড়িতে করে নিউ মেক্সিকোতে নিয়ে যান।

পরে তিনি সাইপানের দক্ষিণে অবস্থিত টিনিয়ান দ্বীপে যান। সেখানে নাগাসাকিতে ব্যবহৃত ‘ফ্যাট ম্যান’ প্লুটোনিয়াম বোমা তৈরির কাজে তিনি সহযোগিতা করেন। হিরোশিমায় বোমা হামলার মাত্র তিন দিন পর, ৯ আগস্ট তিনি একটি বি-২৯ বোমারু বিমানে বোমাটি তোলার কাজ তদারক করেন।

টিনিয়ান দ্বীপে মার্কিন বাহিনী একটি বিশাল বিমানঘাঁটি তৈরি করেছিল। মরিসন এটিকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বরে একটি সিনেট কমিটির কাছে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি বলেন, ‘একটি এবড়োখেবড়ো সমভূমি সমতল করতে এবং ছয়টি রানওয়ে তৈরি করতে একটি বিশাল প্রবাল শৈলশিরার অর্ধেক কেটে ফেলা হয়েছিল। প্রতিটি রানওয়ে ছিল প্রায় দুই মাইল দীর্ঘ।’

মরিসন তার সাক্ষ্যে জাপানের শহরগুলোতে বোমা হামলার বিশাল প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন বন্দরে হাজার হাজার টন বিমান জ্বালানি নিয়ে ট্যাংকার আসত। বড় বড় বিমান বিশাল রানওয়ে থেকে উড়ে যেত। প্রতি ১৫ সেকেন্ডে একটি করে বি-২৯ বিমান আকাশে উঠত। এভাবে দেড় ঘণ্টা ধরে হামলা চলত। প্রায় এক হাজার বি-২৯ বিমান একের পর এক হামলা চালিয়ে একটি শহরের বিশাল এলাকা পুড়িয়ে দিত।

তবে পারমাণবিক বোমা হামলার প্রস্তুতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মরিসন বলেন, সেখানে জাহাজে করে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ আনা হয়নি। বিপুলসংখ্যক কর্মী ও বোমার স্তূপের বদলে ছিলেন লস অ্যালামোসের মাত্র ২৫ জনের মতো কর্মী। তাদের সঙ্গে ছিল কয়েকটি পরীক্ষাগারে রূপান্তরিত ঢেউখেলানো ইস্পাতের কুঁড়েঘর ও একটি নিরাপত্তাবেষ্টিত ভবন।

মরিসন জানান, মধ্যরাতের পর হামলার প্রস্তুতি শুরু হয়। তখন পুরো এলাকা প্রায় জনশূন্য ছিল। এরপর একটি বিমান রানওয়ে থেকে উড়ে জাপানের একটি শহরের দিকে রওনা হয়।

বিভিন্ন হিসাবে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও ধারণা করা হয়, নাগাসাকিতে বোমা হামলার প্রথম বিস্ফোরণে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নিহত হন। পরবর্তী পাঁচ বছরে এই হামলার কারণে সরাসরি এক লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। হিরোশিমায় তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত ৮০ হাজার মানুষ নিহত হন। পরে গুরুতর দগ্ধ, আহত ও তেজস্ক্রিয়তাজনিত অসুস্থতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছায়।

মরিসন সরকারি একটি বৈজ্ঞানিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন দলের সদস্য হিসেবে হিরোশিমা ও নাগাসাকির ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে যান। হিরোশিমার একটি ঘটনা তার বিশেষভাবে মনে আছে। তিনি বলেন, একজন জাপানি কর্মকর্তা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘একটি মাত্র বোমায় এসব ধ্বংস হয়েছে। এটা অসহনীয়।’

মরিসন বলেন, একটি বিমান থেকে ফেলা একটি বোমাই শহরের বহু বর্গমাইল এলাকা ধ্বংস করে দিয়েছিল। এক হাজার বিমানের হামলার তুলনায় এটি ছিল আরো ধ্বংসাত্মক এবং মানুষকে প্রতিরোধ বা পালানোর সুযোগও কম দিয়েছিল। তবুও মরিসন আশা করেছিলেন, যুদ্ধে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করতে হবে না। তিনি লস অ্যালামোসের একদল তরুণ পদার্থবিজ্ঞানীকে নিয়ে জাপানে বোমা ব্যবহারের আগে সেটি প্রকাশ্যে প্রদর্শনের পক্ষে প্রচার চালান।

১৯৭৫ সালে বিবিসির মেলভিন ব্র্যাগকে মরিসন বলেন, তিনি মরুভূমিতে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘যুদ্ধের পরিস্থিতিতে, সেটা ছিল এক অলীক কল্পনা।’

পদার্থবিজ্ঞানী মরিসন বলেন, নাৎসি জার্মানির পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গেলেও পারমাণবিক বোমা তৈরির কাজ থামেনি। কারণ তখনও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছিল এবং প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানের সঙ্গে বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছিল।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ তখনও চলছিল। আমরা প্রশান্ত মহাসাগরে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। তাই এটি থামানো অসম্ভব ছিল।’

মরিসনের মতে, পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বদলানোর বড় সুযোগ ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের বেঁচে থাকা। তিনি ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে মারা যান।

মরিসন বলেন, ‘রুজভেল্ট বেঁচে থাকলে আমেরিকার অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ ছিল। তিনি এমন এক সময় মারা যান, যখন আমরা জানতাম না বোমাটি কাজ করবে কি না এবং এটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সেটিও চূড়ান্ত হয়নি।’

তার মতে, এই প্রকল্প থামানোর মতো যথেষ্ট ক্ষমতা ও প্রভাব সরকারের মধ্যে একমাত্র রুজভেল্টেরই ছিল। রুজভেল্টের মৃত্যুর পর হ্যারি এস. ট্রুম্যান প্রেসিডেন্ট হন। তিনি ম্যানহাটন প্রকল্প সম্পর্কে আগে জানতেন না। শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তাকে এ বিষয়ে জানানো হয়। এর তিন মাসের কিছু বেশি সময় পর তিনি জাপানে পারমাণবিক বোমা হামলার অনুমোদন দেন।

মরিসন বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি ট্রুম্যান নিয়েছিলেন। তবে এটাও বলা যায়, সেই সিদ্ধান্তই তাকে তৈরি করেছিল।’ তার মতে, এত বড় একটি চলমান প্রকল্প থামিয়ে দেওয়া ট্রুম্যানের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও সাহসী পদক্ষেপ হতো। রুজভেল্টের মৃত্যুর সঙ্গে সেই সুযোগও কার্যত শেষ হয়ে যায়।

পরপর দুটি পারমাণবিক বোমা ফেলার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি কাজ করেছিল বলে মনে করেন মরিসন। তিনি বলেন, তখন এগুলোকে আলাদা করে প্রথম ও দ্বিতীয় বোমা হিসেবে দেখা হয়নি। কমান্ডারদের নির্দেশ ছিল, প্রথম বোমা ফেলার পর যত দ্রুত সম্ভব দ্বিতীয় বোমাটিও ফেলা।

মরিসনের মতে, প্রথম বোমার ভয়াবহ প্রভাব দেখার পর দ্বিতীয় হামলা ঠেকাতে ওয়াশিংটনের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হতো। এর জন্য উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, পরিস্থিতির জটিলতা বোঝা এবং সামরিক কমান্ডারদের কাছে নতুন নির্দেশ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা দরকার ছিল।

আরো পারমাণবিক হামলার পরিকল্পনাও ছিল। মরিসনের বক্তব্য অনুযায়ী, হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে দুটি পারমাণবিক বোমা ফেলার পরও জাপানের ওপর আরো হামলার পরিকল্পনা ছিল। প্রয়োজনে এক বছর পর্যন্ত এসব বোমা ব্যবহারের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।

মরিসন বলেন, ‘মূল সিদ্ধান্ত ছিল, প্রয়োজনে আমরা এক বছর ধরে বোমা ফেলতে থাকব। আমাকে এর জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছিল। পরিকল্পনা, সময়সূচি, আমার অনুপস্থিতিতে কাজ করার জন্য একজন ব্যক্তি এবং যাতায়াতের সব ব্যবস্থাও প্রস্তুত ছিল।’

তবে হিরোশিমা ও নাগাসাকির ধ্বংসযজ্ঞ নিজের চোখে দেখার পর এই কাজ চালিয়ে যেতে পারতেন কি না, তা নিয়ে মরিসনেরও সন্দেহ তৈরি হয়। তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা বোমার স্বল্পমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে জানতেন। কিন্তু বই ও পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জানা আর বাস্তবে মানুষের মৃত্যু ও ধ্বংস দেখার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

হিরোশিমা হামলার রাতে টিনিয়ানে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। হিরোশিমায় বোমা হামলার রাতে প্রশান্ত মহাসাগরের টিনিয়ান দ্বীপের মার্কিন ঘাঁটিতে একটি বড় পার্টির আয়োজন করা হয়। তবে বেশিরভাগ বিজ্ঞানী সেখানে যাননি।

মরিসন বলেন, বিমানবাহিনীর সদস্য ও সৈন্যরা মদ্যপান করছিলেন। তারা জানতেন, যুদ্ধ শেষের দিকে এবং হামলাটিকে বড় বিজয় হিসেবে দেখছিলেন। অন্যদিকে বিজ্ঞানীরা বিষণ্ণ মুখে বসে ছিলেন এবং পৃথিবীর শেষ নিয়ে ভাবছিলেন।

তবে বোমা হামলার আগে ম্যানহাটন প্রকল্প থেকে সরে আসার কথা মরিসন ভাবেননি। তিনি বলেন, ‘এর বিরুদ্ধে দৃঢ় বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও, এর চেয়ে ভিন্নভাবে কী করা সম্ভব ছিল, তা আমি বুঝতে পারিনি। আমি কোনো সময়ই থামার কথা ভাবিনি।’

জার্মানির বিরুদ্ধেও বোমা ব্যবহারের প্রস্তুতি। নাৎসি জার্মানির পরাজ্যের আগে পারমাণবিক বোমা প্রস্তুত থাকলে মিত্রশক্তি বার্লিনে সেটি ফেলত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মরিসন বলেন, ‘অবশ্যই, মুহূর্তের মধ্যেই। আমরা মূলত জার্মানদের ভয় পেতাম এবং তারাই ছিল আমাদের শত্রু।’

যুদ্ধের পর মরিসন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে অধ্যাপক হন। পরে তিনি ‘তৃতীয় বোমা নয়’ আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে কাজ করেন।

১৯৪৫ সালে সিনেটে দেওয়া এক সাক্ষ্যে তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পের অধিকাংশ বিজ্ঞানীর মতো আমিও নিশ্চিত যে আরেকটি যুদ্ধ হতে দেওয়া উচিত নয়।’ মরিসন মনে করতেন, জাপানে পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের আগে দেশটিকে যথাযথ সতর্কবার্তা দেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘পেছন ফিরে তাকালে মনে হয়, জাপানকে যথাযথ ও উপযুক্ত সতর্কবার্তা না দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবের কোরআন প্রতিযোগিতায় রোবট ও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ পি.এম


সৌদি আরবের কোরআন প্রতিযোগিতায় রোবট ও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার

সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র মসজিদুল হারামে ৪৬তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রতিযোগিতায় ১৩৩ দেশের ৩৩৪ জন অংশগ্রহণ করেছেন।

এবারের অনুষ্ঠানে, প্রতিযোগী ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় সৌদির ইসলাম ও দাওয়াহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইন্টারেক্টিভ রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।

আল-ইখবারিয়াহ নামক সৌদি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ইন্টারেক্টিভ টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে রোবটগুলো অংশগ্রহণকারী ও দর্শনার্থীদের প্রতিযোগিতার সময়সূচি, অনুষ্ঠানের স্থান এবং অন্যান্য পরিষেবা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করছে। রোবটগুলো ৯০টির বেশি ভাষায় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগী ও অতিথিরা অন্যের সাহায্যের অপেক্ষা না করে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস সহজেই খুঁজে পেতে সক্ষম হন।

এদিকে গত ৬ আগস্ট, সৌদি আরবের মক্কায় ৪৬তম কোরআন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। পাঁচ বিভাগে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ প্রতিযোগী অংশ নেন, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ। প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারের পরিমাণ এক কোটি দুই লাখ ৬০ হাজার সৌদি রিয়াল, যা এই প্রতিযোগিতাটি চালু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ।

এছাড়া প্রথমবারের মতো এবার পৃথক স্থানে নারী প্রতিযোগীরাও অংশ নিয়েছে। তাদের প্রতিযোগিতা মক্কার হিলটন হোটেল অ্যান্ড কনভেনশনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে পুরুষদের সমাপনী অনুষ্ঠানটি গ্র্যান্ড মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উয়েফা সুপার কাপে ইতিহাস গড়ছেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ পি.এম


উয়েফা সুপার কাপে ইতিহাস গড়ছেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর

উয়েফা সুপার কাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আর্তান। তিনি প্রথম অ-ইউরোপীয় রেফারি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচে বাঁশি বাজানোর ঐতিহাসিক দায়িত্ব পেয়েছেন।

আগামীকাল বুধবার অস্ট্রিয়ার সালজবার্গে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং ইউরোপা লিগের চ্যাম্পিয়ন অ্যস্টন ভিলা।

৩৪ বছর বয়সী এই আফ্রিকান রেফারি সম্প্রতি কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের (ক্যাফ) বর্ষসেরা পুরুষ রেফারির খেতাব জিতেছেন। ইউরোপের অভিজাত এই মঞ্চে অভিষেককে সামনে রেখে তরুণ ও উদীয়মান রেফারিদের উদ্দেশ্যে তিনি বার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘স্বপ্ন দেখা কখনো থামাবে না।’ কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের (ক্যাফ) সঙ্গে উয়েফার মধ্যকার নতুন দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার অংশ হিসেবেই আর্তানের এই ঐতিহাসিক নিয়োগ নিশ্চিত করেছে উয়েফা।

ক্যাফ সভাপতি প্যাট্রিস মোতসেপে এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘এটি ওমর আর্তানের জন্য যেমন পরম সম্মানের, তেমনি সমগ্র আফ্রিকার রেফারিদের জন্যও এটি এক বিশাল বড় গৌরব।’

২০১৮ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই ওমর আর্তানের উত্থানটা ছিল উল্কার মতো। এর আগে ২০২৪ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (অ্যাফকন) এবং ক্যাফ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে ম্যাচ পরিচালনার কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।

তবে তার এই আলোকোজ্জ্বল ক্যারিয়ারে জড়িয়ে আছে চরম ভূ-রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার গল্পও।

সদ্য সমাপ্ত ফুটবল বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার জন্য নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রবেশের ছাড়পত্র পাননি আর্তান। তার বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সোমালি নাগরিকদের ওপর মার্কিন প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসে তার উপর। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে ঢুকতে দেয়নি; এক সরকারি কর্মকর্তা এমনকি একটি ‘সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সাথে তার সম্পৃক্ততার ভিত্তিহীন অভিযোগও তোলেন।

বিশ্বকাপের মতো স্বপ্নের মঞ্চ হাতছাড়া হওয়ার স্মৃতি মনে করে আর্তান স্বীকার করেন, সময়টা তার জন্য ‘অত্যন্ত কঠিন ও বেদনাদায়ক’ ছিল। তবে সেই হতাশা পেছনে ফেলে তিনি এখন ভবিষ্যতের দিকে নজর দিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%