প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধার জন্য অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব এবং আশ্রয়ের আবেদনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করা এবং পরিচালনার ব্যয় কমানো।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো ধরনের অভিবাসন সুবিধার আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ যদি অন্তত ১৮০ দিন ধরে থাকে, তবে সেই আবেদন অনলাইনেই জমা দিতে হবে। সুতরাং, ওই আবেদন আর কাগজে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। সোমবার মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) ফেডারেল রেজিস্টারে নতুন নিয়মটি প্রকাশ করেছে।
আগামীতে অনলাইনে জমা দেওয়ার জন্য আরো কিছু আবেদন প্রক্রিয়ার সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, কোনো আবেদন পুরোপুরি অনলাইনে নেওয়ার আগে অন্তত ৬০ দিন আগে নোটিশ দিতে হবে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অভিবাসন সংক্রান্ত বেশ কিছুর গুরুত্বপূর্ণ আবেদনে পরিবর্তন আসবে।
আবেদনকারীদের ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সাধারণত আবেদন করতে হবে। তারা সরাসরি অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। পাশাপাশি, আগে পূরণ করা আবেদনপত্রের পিডিএফ কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও অনলাইনে আপলোড করা যাবে।
ইউএসসিআইএস বলেছে, কাগজের আবেদন থেকে দ্রুত অনলাইন ব্যবস্থায় যাওয়াই এই নিয়ম প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য। কাগজপত্র গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য আলাদা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমবে। ইউএসসিআইএসের মতে, অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হলে পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
এছাড়া, আবেদনপত্রে ভুল করার সম্ভাবনাও কমবে। অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্য সহজে খুঁজে পাওয়া এবং বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে জালিয়াতি শনাক্ত করা এবং আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাই আরো কার্যকরভাবে করা যাবে।
যাহোক, যেসব আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না, তাদের জন্য ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এজন্য তাদের একটি আলাদা আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। ইউএসসিআইএস প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে, ওই ব্যক্তিকে কাগজে আবেদন করার অনুমতি দেওয়া হবে কি না। তবে, এ ধরনের ছাড়ের আবেদন করতে ২৫ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে।
অভিবাসন আবেদনব্যবস্থায় কাগজের ব্যবহার কমানোর অন্যতম কারণ হলো এর বিপুল খরচ। ২০২৫ অর্থবছরে ইউএসসিআইএস ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া করেছে। একই সময়ে ডাকযোগে আসা কাগজপত্র গ্রহণের কেন্দ্রগুলো প্রায় ৪৫ কোটি ৩০ লাখ পৃষ্ঠা কাগজের আবেদন সামলেছে। এই কাগজের আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য ইউএসসিআইএসের প্রায় ৩৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। শুধু ডাক খরচেই ১ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর বলেছে, অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক হলে কাগজপত্র গ্রহণ, তথ্য কম্পিউটারে স্থানান্তর করা, ডাকযোগে পাঠানো, সংরক্ষণ এবং স্ক্যান করার খরচ কমবে। এতে খরচ কমার পাশাপাশি আবেদন যাচাই এবং সিদ্ধান্ত দেওয়ার কাজও দ্রুত হবে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে। নতুন ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে কাগজের আবেদন থেকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে। তবে, অনলাইনে আবেদন করতে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ছাড়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন