ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্বল্প দৃষ্টির রোগে ভুগছে বরিশালের ৩০ শতাংশ শিশু


স্বল্প দৃষ্টির রোগে ভুগছে বরিশালের ৩০ শতাংশ শিশু

বরিশালে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে শতকরা প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু ও কিশোরের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তুলে ধরেছেন যে, শিশুদের মধ্যে বাড়তে থাকা মায়োপিয়া বা স্বল্পদৃষ্টির অন্যতম কারণ হচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে স্মার্টফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা। এই পরিস্থিতির জন্য অভিভাবকদের অসচেতন অভ্যাসকে দায়ী করছেন তারা।

সূত্রমতে, মায়োপিয়া বা স্বল্পদৃষ্টি একটি চোখের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, যেখানে কাছের জিনিস স্পষ্ট দেখা যায় কিন্তু দূরত্ব থেকে বস্তু দেখা যায় না। উল্লেখযোগ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে এই সমস্যাটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। যদি মা-বাবার একজন বা দুজনের মায়োপিয়া থাকে, তাহলে শিশুরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। যখন শিশুরা দীর্ঘ সময় ডিজিটাল স্ক্রিন, বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে, মুঠোফোন, ট্যাব, কম্পিউটার এবং বই পড়ার কারণে চোখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।

মায়োপিয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে, সূর্যের আলোতে কম সময় কাটানো এবং ঘরের কৃত্রিম আলোতে বেশি সময় থাকা। সম্প্রতি বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা বহু শিশুর হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে। কেউ ইউটিউব দেখছে, কেউবা মোবাইলে গেম খেলছে। শুধুমাত্র শিশু ওয়ার্ডেই নয়, হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডে রোগী অথবা স্বজনদের সঙ্গে আসা অনেক শিশুকেও মোবাইলে সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, বাইরের খেলাধুলার সুযোগ কমে যাওয়ার কারণে শিশুদের একটি বড় অংশ অবসর সময় মোবাইল ফোনে কাটাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মোবাইল না দিলে শিশুরা খেতেও চায় না। এক্ষেত্রেত, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশির দাস শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। তিনি বলেন, "স্কুল শেষে বেশিরভাগ সময় ঘরেই থাকতে হয়। বিকেলে কোচিং এবং প্রাইভেট পড়ার কারণে খেলাধুলার সুযোগ খুব কম। তাই অবসর সময়ে ইউটিউব দেখা এবং গেম খেলা আমার নিয়মিত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে চোখে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।"

অভিভাবকরা জানান, "মোবাইল ছাড়া আমাদের ছেলে ভাত খেতে চায় না। তাকে মোবাইল দিতে হয়, তারপর সে খায়। এখন আমরা এই অভ্যাসটা বদলানোর চেষ্টা করছি।" তারা বলেন, শহরে শিশুদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ নেই। যেসব মাঠ আছে, সেখানে যাতায়াতে খরচ হয়। তাই সবসময় শিশুদের বাহিরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না।

শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু রোগীদের ওপর সম্প্রতি একটি পরিসংখ্যান অনুসারে, দক্ষিণাঞ্চলের শতকরা প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু-কিশোর মোবাইল আসক্তিজনিত কারণে দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভুগছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, শিশুদের মোবাইল আসক্তি হচ্ছে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; বরং এটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আরও জানান, শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদন এবং খেলাধুলার সুযোগের অভাব এবং পরিবারে প্রয়োজনীয় সময় এবং মনোযোগের অভাবই এই সমস্যার মূল কারণ। শুধুমাত্র চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়। পরিবার এবং সমাজকে এ বিষয়ে একসঙ্গে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন হাসপাতালে আসা শিশু রোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশের চোখের সমস্যার সঙ্গে অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে। তারা মন্তব্য করেছেন, শহরাঞ্চলের শিশুদের মধ্যে মায়োপিয়ার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বহু শিশুকে অল্প বয়সেই উচ্চমাত্রার চশমা ব্যবহার করতে হচ্ছে। দূরের বস্তুনিষ্ণা করতে সম্যক সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার বিষয়টি একটি প্রধান সমস্যা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। অনেক অভিভাবক শিশুদের খাওয়ানো বা শান্ত রাখার জন্য মোবাইল ফোন হাতে দেন। এর ফলে শিশুরা মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে এবং পাশাপাশি তাদের চোখের সমস্যাও বেড়ে যায়। যদি মায়োপিয়া হয়ে যায়, তাহলে চশমা ছাড়া স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই অভিভাবকদের শিশুদের মোবাইল ব্যবহারে আরো সচেতন হতে হবে।

আরও পড়ুন: ‎রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটুয়াখালীর বাউফলে বাবা-মা হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটানো তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের পাশে উপজেলা প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৯ পি.এম


পটুয়াখালীর বাউফলে বাবা-মা হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটানো তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের পাশে উপজেলা প্রশাসন

পটুয়াখালীর বাউফলে বাবা-মা হারিয়ে চরম অনাহার ও অবহেলায় মানবেতর জীবন কাটানো সনাতন ধর্মাবলম্বী তিন প্রতিবন্ধী ভাই নিদু, রিপন ও সাধনের সহযোগিতা করেছে উপজেলা প্রশাসন। আজ রবিবার (৭ জুন) দুপুরে এক মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সালেহ আহমেদ এই তিন ভাইয়ের জন্য একটি যৌথ ব্যাংক হিসাব খুলে দেন। এর পাশাপাশি অসহায় পরিবারের মধ্যে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিতরণ করা হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অগ্রণী ব্যাংক বাউফল শাখায় তিন ভাইয়ের নামে যৌথ হিসাবটি খোলা হয়েছে, যার সংখ্যা: ০২০০০২৫৮৪৫৪৮৮। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে তাদের অসহায়ত্বের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশ থেকে মানবিক মানুষরা বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক হিসাবটিতে এখন পর্যন্ত ১১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮১ টাকা জমা হয়েছে।

আজ বিকেলে উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের আলোকচাঁদকাঠী গ্রামে গিয়ে এই মানবিক সহায়তা তাদের বাড়িতে পৌঁছানো হয়। তিন ভাইয়ের নামে খোলা এই যৌথ হিসাবটি যৌথভাবে পরিচালনা করবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসার। ভুক্তভোগী ভাইদের দৈনন্দিন প্রয়োজন ও চাহিদার ভিত্তিতে এই হিসাব থেকে টাকা তুলে তাদের হাতে দেওয়া হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে প্রশাসনের এই তত্ত্বাবধানে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য উপজেলা কার্যালয়ে একটি স্থায়ী সরকারি নথি (ফাইল) সংরক্ষণ করা হয়েছে; যাতে পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো কর্মকর্তা এলেও এই পরিবারের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে পারেন। এই মানবিক উদ্যোগের পিছনে ছিলেন স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী অমিত। তিনি প্রথমে এই অসহায় পরিবারটির দুঃখ-দুর্দশার কথা ইউএনও মো. সালেহ আহমেদ কে জানান। বিষয়টি জানার পর ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরীর পরামর্শ ও নির্দেশনায় তাদের নগদ অর্থ এবং জরুরি খাদ্যসহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার আওতাভুক্ত করার নিশ্চয়তা দেন। অসহায় তিন ভাইয়ের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দাঁড়ানোর এই নম্র দৃষ্টান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর সমাজের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ সকল দলের সমর্থন এবং মত নির্বিশেষে তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
গ্রামীণ সহিংসতা মাদক নিরসন

পারিবারিক বিরোধ নিরসনে গ্রাম আদালতের বিকল্প নেই: ইউএনও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩০ পি.এম


পারিবারিক বিরোধ নিরসনে গ্রাম আদালতের বিকল্প নেই: ইউএনও

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ বলেছেন, ‘গ্রামীণ সহিংসতা, নারীর প্রতি সহিংসতা, মাদক নিরসনে ও পারিবারকি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে কিংবা জমিজমার অধিকাংশ বিরোধ নিরসনে গ্রাম আদালতের বিকল্প নেই। গ্রামীণ জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গ্রাম আদালতের ভূমিকা অত্যন্ত বেশি। একজন জনপ্রতিনিধি ইচ্ছা করলে তার ইউনিয়নের ৯০ ভাগ সমস্যা অসঙ্গতি গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে পারেন।’ তবে তিনি মন্তব্য করেছেন যে এটি যথাযথভাবে করা হচ্ছে না।

আজ রবিবার বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব মন্তব্য করেছেন।

এ সময় পাওয়ার পয়েন্টে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরে বিস্তারিত আলোচনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক। স্থানীয় সরকার বিভাগ বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রেখেছেন উপজেলা সমন্বয়কারী রাশেদ খান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গ্রাম আদালত উপজেলা সমন্বয়কারী ইয়াসমিন।

অন্যান্যদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন, সিপিপির সহকারী পরিচালক আছাদুজ্জামান খান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্বাস আলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকসেদুল আলম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা একাডেমিক সুপারভাইজর মো. মনিরুজ্জামান খান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার, কলাপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু প্রমুখ।

বক্তারা বলেছেন, গ্রাম আদালতে যেটা হওয়ার কথা সেটা হচ্ছে না। জনপ্রতিনিধিরা দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলে মধ্যস্বত্ত্বভোগী চক্র সালিশ বাণিজ্য করতে সুযোগ পাচ্ছে। এ ছাড়া যেটা গ্রামীণ আদালতের বিচার্য্য বিষয় তা নিরসনের জন্যে মানুষ সত্যিকারের আইনি প্রতিকার পাচ্ছেন না। কর্মশালায় প্রত্যেকেই যে যার জায়গা থেকে করণীয় বিষয়ে রিখিত সুপারিশ তুলে ধরেন এবং গ্রাম আদালতকে সঠিকভাবে সক্রিয় রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
কলাপাড়ায় কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

তরুণদের শৃঙ্খলায় আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩১ পি.এম


তরুণদের শৃঙ্খলায় আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় “কলাপাড়ার উন্নয়ন; কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি প্রতিরোধে” এই শিরোনামে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এটি শনিবার বিকালে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়র তৌহীদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: মুতাসিম বিল্লাহ।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন গণঅধিকার পরিষদ কলাপাড়ার সদস্য সচিব গাজী আব্বাস উদ্দিন বাচ্চু, গণমাধ্যম কর্মী মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি মনোয়ারা বেগম, স্থপতি ইয়াকুব খান, কলাপাড়া উপজেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যান সমিতির সভাপতি মাওলানা মাসুম বিল্লাহ রুমী,

জামায়াত ইসলামি উপজেলা জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা মুর্শিদুল আলম, কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাজমুল ইসলাম, শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র, সাংস্কৃতিক সংগঠক মোস্তফা জামান সুজন, কল্লোল বিশ্বাস, যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান লিটু, গাজী মো. সুমন, প্রভাষক নাজমুল আলম বাদল মাতুব্বর,

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রেজাউল করিম কাজল মৃধা, উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক কাজী ইয়াদুল ইসলাম, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির কলাপাড়া উপজেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম,

গণমাধ্যম কর্মী তানজিল জামান জয়, সরকারি মোজাহারউদ্দিন কলেজ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন, কলেজ ছাত্রদল সাবেক আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম দিপু, ইসলামি ছাত্র শিবির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম,

ইসলামি ছাত্র আন্দোলন নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পরিবেশ সংগঠক নাজমুস সাকিব।

আঞ্চলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোজেন রিসার্চ এই গোলটেবিল বৈঠকটি আয়োজন করে। আলোচকগণ কিশোর অপরাধের প্রধান কারণ হিসেবে মাদকের ব্যবসা উল্লেখ করেন এবং শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিমুখ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

মাদক ও বখাটেপনার দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রথমে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের ও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আগামির সুন্দর কলাপাড়া গঠনের লক্ষ্যে সকলের একসাথে কাজ করার প্রয়োজন মনে করছেন সকল বক্তা। তারা বক্তব্য রাখেন যে, মাদকের দৌরাত্ম বন্ধ করতে না পারলে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম মেয়াদীভাবে বন্ধ করা যাবে না।

কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, মাদকসেবী কিশোররা এখন কলাপাড়ার সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিনাশের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল বক্তব্যে জনাব মুতাসিম বিল্লাহ নাসিম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব যে দিকে যাচ্ছে, আমরা সেদিকে থাকতে পারছি না।

তিনি বলেন, কিশোর তরুণরা ভুল পথে হাঁটছে। কলাপাড়ার কিশোর তরুণদের শৃঙ্খলায় ফেরাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসনে করণীয় বিষয়ে উঠান বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসনে করণীয় বিষয়ে উঠান বৈঠক

“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” এই মূলভাবে নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসনে করণীয় শীর্ষক একটি কমিউনিটি ভিত্তিক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকেলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে নারীদের জন্য শান্তি সহায়তাকারী দল (ওয়েভ)-এর উদ্যোগে এই বৈঠকটির আয়োজন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুদরত পাশা। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় এবং এফসিডিও’র অর্থায়নে, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নারী নেত্রী অংশগ্রহণ করেন।

শান্তিগঞ্জ ওয়েভ-এর সদস্য নাজমা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সীশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, পিএফজির সমন্বয়কারী দোলন রানী তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়াসমিন আক্তার এবং পিএফজির পিস এম্বাসেডর জিয়াউর রহমান জিয়া।

বক্তারা বলেন, নারী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু আজও অনেক নারী পারিবারিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, যেগুলো এবং তারা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করছে। বক্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু একজন নারীর ক্ষতিই প্রচণ্ড আঘাত করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নকে ব্যাহত করে। এ কারণে সামাজিক সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিতভাবে কাজ করাটা অত্যন্ত জরুরি। নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসনে করণীয় সম্পর্কে বক্তারা বলেন, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং ছেলে-মেয়েদের সমান মর্যাদা দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনকে অবহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তারা বলেন, পরিবার থেকেই সন্তানদের মানবিকতা, সম্মানবোধ ও নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণের শিক্ষা দিতে হবে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ আইনগত সহায়তার বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি করতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নারী নিজের অধিকার রক্ষায় অধিক সক্ষম হন। এ সময় সহিংসতার ঘটনা দেখে নীরব না থেকে প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও যুবসমাজের সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। বৈঠকে বক্তব্য রাখেন শিউলী পাল, রোকসানা বেগম, লিজ, জুঁই, নাহিদা, জহুরাসহ অন্যান্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%