১০:৩৩ পি.এম
“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” এই মূলভাবে নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসনে করণীয় শীর্ষক একটি কমিউনিটি ভিত্তিক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকেলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে নারীদের জন্য শান্তি সহায়তাকারী দল (ওয়েভ)-এর উদ্যোগে এই বৈঠকটির আয়োজন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুদরত পাশা। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় এবং এফসিডিও’র অর্থায়নে, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নারী নেত্রী অংশগ্রহণ করেন।
শান্তিগঞ্জ ওয়েভ-এর সদস্য নাজমা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সীশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, পিএফজির সমন্বয়কারী দোলন রানী তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়াসমিন আক্তার এবং পিএফজির পিস এম্বাসেডর জিয়াউর রহমান জিয়া।
বক্তারা বলেন, নারী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু আজও অনেক নারী পারিবারিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, যেগুলো এবং তারা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করছে। বক্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু একজন নারীর ক্ষতিই প্রচণ্ড আঘাত করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নকে ব্যাহত করে। এ কারণে সামাজিক সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিতভাবে কাজ করাটা অত্যন্ত জরুরি। নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসনে করণীয় সম্পর্কে বক্তারা বলেন, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং ছেলে-মেয়েদের সমান মর্যাদা দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনকে অবহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
তারা বলেন, পরিবার থেকেই সন্তানদের মানবিকতা, সম্মানবোধ ও নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণের শিক্ষা দিতে হবে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ আইনগত সহায়তার বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি করতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নারী নিজের অধিকার রক্ষায় অধিক সক্ষম হন। এ সময় সহিংসতার ঘটনা দেখে নীরব না থেকে প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও যুবসমাজের সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। বৈঠকে বক্তব্য রাখেন শিউলী পাল, রোকসানা বেগম, লিজ, জুঁই, নাহিদা, জহুরাসহ অন্যান্যরা।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন