প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে শতকরা প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু ও কিশোরের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তুলে ধরেছেন যে, শিশুদের মধ্যে বাড়তে থাকা মায়োপিয়া বা স্বল্পদৃষ্টির অন্যতম কারণ হচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে স্মার্টফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা। এই পরিস্থিতির জন্য অভিভাবকদের অসচেতন অভ্যাসকে দায়ী করছেন তারা।
সূত্রমতে, মায়োপিয়া বা স্বল্পদৃষ্টি একটি চোখের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, যেখানে কাছের জিনিস স্পষ্ট দেখা যায় কিন্তু দূরত্ব থেকে বস্তু দেখা যায় না। উল্লেখযোগ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে এই সমস্যাটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। যদি মা-বাবার একজন বা দুজনের মায়োপিয়া থাকে, তাহলে শিশুরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। যখন শিশুরা দীর্ঘ সময় ডিজিটাল স্ক্রিন, বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে, মুঠোফোন, ট্যাব, কম্পিউটার এবং বই পড়ার কারণে চোখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।
মায়োপিয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে, সূর্যের আলোতে কম সময় কাটানো এবং ঘরের কৃত্রিম আলোতে বেশি সময় থাকা। সম্প্রতি বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা বহু শিশুর হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে। কেউ ইউটিউব দেখছে, কেউবা মোবাইলে গেম খেলছে। শুধুমাত্র শিশু ওয়ার্ডেই নয়, হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডে রোগী অথবা স্বজনদের সঙ্গে আসা অনেক শিশুকেও মোবাইলে সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে।
অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, বাইরের খেলাধুলার সুযোগ কমে যাওয়ার কারণে শিশুদের একটি বড় অংশ অবসর সময় মোবাইল ফোনে কাটাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মোবাইল না দিলে শিশুরা খেতেও চায় না। এক্ষেত্রেত, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশির দাস শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। তিনি বলেন, "স্কুল শেষে বেশিরভাগ সময় ঘরেই থাকতে হয়। বিকেলে কোচিং এবং প্রাইভেট পড়ার কারণে খেলাধুলার সুযোগ খুব কম। তাই অবসর সময়ে ইউটিউব দেখা এবং গেম খেলা আমার নিয়মিত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে চোখে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।"
অভিভাবকরা জানান, "মোবাইল ছাড়া আমাদের ছেলে ভাত খেতে চায় না। তাকে মোবাইল দিতে হয়, তারপর সে খায়। এখন আমরা এই অভ্যাসটা বদলানোর চেষ্টা করছি।" তারা বলেন, শহরে শিশুদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ নেই। যেসব মাঠ আছে, সেখানে যাতায়াতে খরচ হয়। তাই সবসময় শিশুদের বাহিরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না।
শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু রোগীদের ওপর সম্প্রতি একটি পরিসংখ্যান অনুসারে, দক্ষিণাঞ্চলের শতকরা প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু-কিশোর মোবাইল আসক্তিজনিত কারণে দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভুগছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, শিশুদের মোবাইল আসক্তি হচ্ছে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; বরং এটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আরও জানান, শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদন এবং খেলাধুলার সুযোগের অভাব এবং পরিবারে প্রয়োজনীয় সময় এবং মনোযোগের অভাবই এই সমস্যার মূল কারণ। শুধুমাত্র চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়। পরিবার এবং সমাজকে এ বিষয়ে একসঙ্গে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন হাসপাতালে আসা শিশু রোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশের চোখের সমস্যার সঙ্গে অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে। তারা মন্তব্য করেছেন, শহরাঞ্চলের শিশুদের মধ্যে মায়োপিয়ার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বহু শিশুকে অল্প বয়সেই উচ্চমাত্রার চশমা ব্যবহার করতে হচ্ছে। দূরের বস্তুনিষ্ণা করতে সম্যক সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার বিষয়টি একটি প্রধান সমস্যা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। অনেক অভিভাবক শিশুদের খাওয়ানো বা শান্ত রাখার জন্য মোবাইল ফোন হাতে দেন। এর ফলে শিশুরা মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে এবং পাশাপাশি তাদের চোখের সমস্যাও বেড়ে যায়। যদি মায়োপিয়া হয়ে যায়, তাহলে চশমা ছাড়া স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই অভিভাবকদের শিশুদের মোবাইল ব্যবহারে আরো সচেতন হতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন