ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ড. সাইমুম পারভেজকে জার্মানিতে প্রবাসীদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা


ড. সাইমুম পারভেজকে জার্মানিতে প্রবাসীদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে অংশগ্রহণের জন্য জার্মানি সফররত প্রধানমন্ত্রীর বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজের সম্মানে জার্মানির বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবকদলের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

ড. সাইমুম পারভেজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন তপন খান এবং সঞ্চালনা করেন প্রকৌশলী সাইফুর রহমান চৌধুরী।

আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতা আওলাদ হোসেন, নজরুল ইসলাম ও দেলোয়ার মোল্লা।

জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে আগত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা নুরুল ইসলাম পুন্য ও রাজু, স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়া, সদস্য সচিব রুবেল, জাহিদ দেওয়ানসহ বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবকদলের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থক।

বক্তাগণ ড. সাইমুম পারভেজের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বনায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন।

আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

তারা জানান, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

একই সাথে বক্তাগণ তাঁর মাধ্যমেই বাংলাদেশ সরকারের কাছে জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া (এনআরডব্লিউ) রাজ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনসুলেট সেবা চালুর দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সাইমুম পারভেজ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতার জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: মাদরাসা বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র একীভূত করার পরিকল্পনা সরকারের

সाथে দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানেরও প্রশংসা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিজি বদলি, কিন্তু বিতর্কের অবসান কোথায়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


ডিজি বদলি, কিন্তু বিতর্কের অবসান কোথায়?

বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বোরি) দেশের সামুদ্রিক গবেষণা, সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নীল অর্থনীতি বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে গবেষণা, সামুদ্রিক সম্পদের সম্ভাবনা অনুসন্ধান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন এবং সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কথা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, গত কয়েক বছরে গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অর্জনের চেয়ে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, ক্রয় কার্যক্রম, ক্ষমতার প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়েই বেশি আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি বোরির মহাপরিচালক কমোডর মো. মিনারুল হককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই মনে করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিতর্ক ও অস্থিরতার একটি পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। মহাপরিচালকের বদলির পরও থামেনি অভিযোগ, কমেনি উত্তেজনা; বরং নতুন করে শুরু হয়েছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের লড়াই।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, মহাপরিচালকের বদলি কেবল দৃশ্যমান প্রশাসনিক পরিবর্তন মাত্র। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ক্রয় কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে যাদের নাম ঘুরেফিরে এসেছে, তাদের ভূমিকা এখনও কার্যকর রয়েছে। ফলে ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেনি বলেই মনে করছেন তারা।

সূত্রমতে, গত কয়েক মাসে বোরিকে ঘিরে প্রকাশিত একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক ভয়ভীতি, সরকারি সম্পদের ব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত গোষ্ঠীর প্রভাবের মতো নানা বিষয় উঠে আসে। এসব প্রতিবেদনের পরই বিষয়গুলো মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে এবং শেষ পর্যন্ত মহাপরিচালকের বদলির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।

তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, আলোচিত ঘটনাগুলোর গভীরে গেলে দেখা যাবে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ক্রয় কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় সক্রিয় ছিল। তাদের মতে, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ তালুকদার এবং সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার জাকারিয়াকে ঘিরে যে প্রভাববলয়ের কথা দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা হয়ে আসছে, সেটি নিয়েই এখন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোরির দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প, বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রম, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তিদের প্রভাব বারবার দৃশ্যমান হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামো এমনভাবে পরিচালিত হয়েছে যাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সীমিত কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণেই থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত জনবল কাঠামো থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ শূন্য রাখা হয়েছে। নতুন নিয়োগ হলে বিদ্যমান প্রভাববলয়ের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন, তবুও বিষয়টি এখন প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

বোরির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, মহাপরিচালকের বদলির পর প্রকল্প ও প্রশাসনিক নথিপত্র পুনর্মূল্যায়নের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় একটি অংশের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। কারণ নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করলে গত কয়েক বছরের প্রকল্প ব্যয়, ক্রয় কার্যক্রম, বিল-ভাউচার, যানবাহন ব্যবহার, জ্বালানি খরচ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি সূত্রের দাবি, এসব অভিযোগের অনেকগুলোই এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা মতপার্থক্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাদের বিষয়ে সহকর্মীদের একটি অংশ আবার ভিন্ন মত পোষণ করেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা, বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ, প্রকাশনা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রশাসনিক মতবিরোধ বা নীতিগত দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে, কিন্তু কোনো স্বাধীন তদন্ত ছাড়া কাউকে দায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।

এদিকে বোরির অভ্যন্তরে এখন সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে, মহাপরিচালকের বদলির পরও কেন বিতর্ক থামছে না? কেন প্রশাসনিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে অভিযোগের স্রোত তৈরি হলো? এবং কেন একই সময়ে প্রকল্প ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত কিছু নামকে ঘিরে প্রশ্নগুলো আরও জোরালো হয়ে উঠছে?

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ব্যক্তি নয়, পুরো ব্যবস্থাকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। গত কয়েক বছরের প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেন্ডার কার্যক্রম, ক্রয় প্রক্রিয়া, নিয়োগ ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, যানবাহন ব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন অডিট ছাড়া প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করা সম্ভব নয়।

অভিযোগ রয়েছে, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ তালুকদার মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য এমন একটি আবেদনপত্র প্রস্তুত করেছেন, যেখানে বিদায়ী প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে চলমান প্রকল্পে বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নতুন প্রশাসনের অধীনে প্রকল্পের নথিপত্র, আর্থিক হিসাব, ক্রয় কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হলে গত কয়েক ব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্ত এলাকায় জনমিতি পরিবর্তন নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন অমিত শাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


সীমান্ত এলাকায় জনমিতি পরিবর্তন নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন অমিত শাহ

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তবর্তী এলাকায় জনমিতিক (জনসংখ্যার গঠনগত) পরিবর্তনের কারণ এবং প্রভাব খতিয়ে দেখতে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটিকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার (১৩ জুন) কমিটির এক বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি সীমান্ত জেলা, মহানগরী এবং শিল্পাঞ্চলগুলো পরিদর্শন করে এই পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ মূল্যায়নের নির্দেশ দেন।

ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন এবং অন্যান্য ‘অস্বাভাবিক’ কারণে জনসংখ্যার কাঠামোগত যে পরিবর্তন ঘটছে, তা খতিয়ে দেখাই এই কমিটির মূল লক্ষ্য। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পি পি নাওলকারের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের সাবেক প্রধান সচিব দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাবেক প্রধান বালাজি শ্রীবাস্তব এবং অর্থনীতিবিদ শামিকা রবি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ফরেনার্স-১) কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

কমিটিটি গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জনসংখ্যার মতো একটি জটিল বিষয় পর্যালোচনার জন্য গঠিত এই কমিটিতে কোনো জনমিতি বিশেষজ্ঞ বা ডেমোগ্রাফার নেই। খোদ কমিটির প্রধান বিচারপতি নাওলকারও গত মে মাসে স্বীকার করেছিলেন যে, এই পদের জন্য তার নির্বাচিত হওয়া ছিল একটি বড় চমক এবং জনমিতি বা অবৈধ অভিবাসনের মতো বিষয়গুলো তার কাছে একেবারেই ‘নতুন’।

বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, ২০২৭ সালের আদমশুমারি প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও কেন সমান্তরালভাবে এমন একটি কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি নেতারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ’-এর জন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দায়ী করে যে বক্তব্য দিয়ে আসছেন, এই কমিটি সেই রাজনৈতিক এজেন্ডারই অংশ কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নির্দেশনার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামের সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগজনক ও অমানবিক পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের জেরে বাংলাভাষী মুসলমানদের কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের তোয়াক্কা না করেই বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া (পুশ-ব্যাক) হচ্ছে। এই ঘটনা সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এবং মানবিক সংকটের সৃষ্টি করেছে।

সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের সংখ্যার গঠন, বয়স বা বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনকে জনমিতিক পরিবর্তন বলা হয়। তবে ভারতের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটির কাজ কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং রাজনৈতিক এবং কৌশলগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কমিটির প্রতিবেদনের গুণগত মান এবং এর ভিত্তিতে গৃহীত পরবর্তী সরকারি নীতি ভারতের অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুশইন নিয়ে সংসদে আলোচনা প্রস্তাব স্থগিত, জামায়াত এমপির ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


পুশইন নিয়ে সংসদে আলোচনা প্রস্তাব স্থগিত, জামায়াত এমপির ক্ষোভ

সীমান্তে পুশইন বিষয়ক সংসদে আলাপের জন্য প্রস্তাব গৃহীত হলেও পরে এটি স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, "জনগণের রক্তের চেয়ে আর কি গুরুত্ব থাকতে পারে যে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি স্থগিত করতে হল?"

কার্যপ্রণালী-বিধির প্রস্তাব (সাধারণ) বিধি-১৪৭ অনুযায়ী, একটি প্রস্তাবের উপর রোববার সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার যে কার্যসূচি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রস্তাবটি এনেছিলেন আহমাদ বিন কাসেম।

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধ পুশইন ও সীমান্ত হত্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশ্যে ঘোষিত পুশইন তৎপরতার এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। এই কারণে জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে আলোচনা করা আবশ্যক।

রোববার সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আহমাদ বিন কাসেম বলেন, "আমি সীমান্ত হত্যাকাণ্ড এবং পুশ ইন সম্পর্কিত একটি বিশেষ আলোচনা করার প্রস্তাবে নোটিস দিয়েছিলাম। সংসদের মূলতবি শাখা থেকে চিঠি দিয়ে আমাকে জানানো হয়, আজকে এই বিষয়টি আলোচনা করার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে।"

কিন্তু কিছুক্ষণ আগে মূলতবি শাখা থেকে জানানো হয়, "অনিবার্য কারণবশত এই প্রস্তাবটি, যেটি গৃহীত হয়েছিল, সেটি স্থগিত করা হয়েছে।"

আহমাদ বিন কাসেম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার প্রশ্ন, জনগণের রক্তের চেয়ে আর কি গুরুত্ব থাকতে পারে যে এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেটা কোনো দলীয় এজেন্ডা নয়, সেটিকে অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করতে হল।" দ্বিতীয় প্রশ্ন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, "এটা যে স্থগিত হল, পরবর্তী কবে এটি আলোচনার জন্য নির্ধারিত হবে?"

এ বিষয়টি সম্পর্কে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, "নোটিসটা আমার সামনেও আছে। স্থগিত একটি টেম্পোরারি মেজার। বাজেট অধিবেশন চলছে, আমাদের সময়ের সীমাবদ্ধতা আছে। এটি খুব মৌলিক বিষয়। আমরা প্রত্যাশা করছি, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার পূর্বক কোনো এক সময় নোটিসের উপর আলোচনা হবে।"

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার আহমাদ বিন কাসেমকে একটি চিঠি দিয়ে সংসদের মূলতবি ও অধিকার শাখা থেকে জানানো হয়, "অনিবার্য কারণবশত এই নোটিশটির ওপর আজকের আলোচনা স্পিকার স্থগিত করেছেন।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আ.লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৮জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আ.লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৮জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

রাজবাড়ী থানা পুলিশের অভিযান চলাকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ৮ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত সদস্যরা হলেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার ছোট নুরপুর গ্রামের মৃত হাকিম মাতুব্বরের ছেলে মোঃ রাব্বানী (৪৬), রাধাকান্তপুর গ্রামের আঃ কুদ্দুস শেখের ছেলে মাইনউদ্দিন শেখ (৪২), ভবদিয়া (স্কুলের পাশে) মৃত আঃ লতিফের ছেলে মোঃ নাসির উদ্দিন (৪২), আলাদীপুর গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে মোঃ রিয়াদ মন্ডল (২৬), ভান্ডারিয়া গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ আঃ ছালাম মিলন (৫৭), দক্ষিন ভবানীপুর এলাকার মৃত আঃ সালামের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম সোহাগ (৪২), রসুলপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে নাহিদ মিয়া (২৪), এবং ধুলদি জয়পুর গ্রামের মৃত আনছার আলী শেখের ছেলে মোঃ নাসির শেখ (৬৪)। গ্রেপ্তারকৃত সকলেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী।

রবিবার (১৪ জুন) রাজবাড়ী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং এর অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ৮ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

গত ১৩ জুন ভোর সাড়ে ৫ টার সময় রাজবাড়ী সদর থানার গোপিনাথাদিয়া গ্রামের রাজবাড়ী ফিলিং ষ্টেশনের দক্ষিণ পাশে রাজবাড়ী-ফরিদপুর মহাসড়কের উপর ৩০-৩৫ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় সদস্যরা বর্তমান সরকারকে উৎখাতের জন্য রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তারা জন নিরাপত্তা বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে জনমনে ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে নাশকতা করার জন্য একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। এ মিছিলে বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান শোনা গিয়েছে, যাতে সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়। আসামীদের হাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা গেছে। ফলে ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, রাজবাড়ী সদর থানার এসআই মোঃ শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ রাজবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও তার অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ৮ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার দুপুরে ধৃত আসামীদের রাজবাড়ী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%