জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৭:১৭ পি.এম
রাজবাড়ী থানা পুলিশের অভিযান চলাকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ৮ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত সদস্যরা হলেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার ছোট নুরপুর গ্রামের মৃত হাকিম মাতুব্বরের ছেলে মোঃ রাব্বানী (৪৬), রাধাকান্তপুর গ্রামের আঃ কুদ্দুস শেখের ছেলে মাইনউদ্দিন শেখ (৪২), ভবদিয়া (স্কুলের পাশে) মৃত আঃ লতিফের ছেলে মোঃ নাসির উদ্দিন (৪২), আলাদীপুর গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে মোঃ রিয়াদ মন্ডল (২৬), ভান্ডারিয়া গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ আঃ ছালাম মিলন (৫৭), দক্ষিন ভবানীপুর এলাকার মৃত আঃ সালামের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম সোহাগ (৪২), রসুলপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে নাহিদ মিয়া (২৪), এবং ধুলদি জয়পুর গ্রামের মৃত আনছার আলী শেখের ছেলে মোঃ নাসির শেখ (৬৪)। গ্রেপ্তারকৃত সকলেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী।
রবিবার (১৪ জুন) রাজবাড়ী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং এর অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ৮ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
গত ১৩ জুন ভোর সাড়ে ৫ টার সময় রাজবাড়ী সদর থানার গোপিনাথাদিয়া গ্রামের রাজবাড়ী ফিলিং ষ্টেশনের দক্ষিণ পাশে রাজবাড়ী-ফরিদপুর মহাসড়কের উপর ৩০-৩৫ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় সদস্যরা বর্তমান সরকারকে উৎখাতের জন্য রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তারা জন নিরাপত্তা বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে জনমনে ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে নাশকতা করার জন্য একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। এ মিছিলে বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান শোনা গিয়েছে, যাতে সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়। আসামীদের হাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা গেছে। ফলে ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, রাজবাড়ী সদর থানার এসআই মোঃ শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ রাজবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও তার অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ৮ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার দুপুরে ধৃত আসামীদের রাজবাড়ী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য অযৌক্তিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ড (AMR MPTF) প্রকল্পের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন (VAG) বাস্তবায়ন বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে প্রাণিসম্পদ খাতেও এর অপব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রান্তিক খামারিদের অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে রোগ নিরাময়ের আশায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন, যদিও এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তারা যথেষ্ট সচেতন নন। ফলে সচেতনতার ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তিনি এ ক্ষেত্রে ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন, কোনো ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে কঠোরভাবে তদারকি ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
তিনি বলেন, “যদি আমরা একটি সমন্বিত চেইনের মাধ্যমে- ভেটেরিনারি চিকিৎসক, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং খামারিদের একসাথে নিয়ে কাজ করতে পারি, তাহলে বরিশালের মতো সাফল্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অর্জন সম্ভব হবে।” তিনি খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদনে সরকারের পাশাপাশি সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও বাংলাদেশের প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. মো. বয়জার রহমান।
কর্মশালায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH)-এর জাতীয় এএমআর পরামর্শক ড. মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR), ওয়ান হেলথ এবং দায়িত্বশীল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞগণ আলোচনা করেন।
এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH), খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়ার পর ফেরত দেওয়া সেই কালো মানিকের মালিক সোহাগ মৃধাকে, বয়স ৩৫ বছর পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার দিন দুপুরে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের মহিষকাটা বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে সোহাগ মৃধার পরিবার দাবি করছে, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তারা বলছেন, বাড়ির পাশে কিছু ঝামেলা নিয়ে ঘটনা ঘটেছে।
সোহাগ মৃধা আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেন মৃধার ছেলে। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ কাওসার আহমেদ।
পুলিশ জানিয়েছে, সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে মারামারি ও পর্নোগ্রাফি আইনে দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মারামারির মামলায় তিনি এক নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি এবং পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় সহযোগী আসামি হিসেবে অভিযুক্ত। এসব মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান আমাদের দেশকে জানান, সোহাগ মৃধাকে মারামারি ও পর্নোগ্রাফির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তারের পূর্বে গতকাল শনিবার আমাদের দেশকে জানান, তাদের বাড়ির পাশে ১০ জানুয়ারি পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে রুবেল ও মাহিনুর বেগম তার বৃদ্ধ মা রিনা বেগমকে, বয়স ৬২ বছর মারধর করে। এই বিষয়টি জেনে রিনা বেগমের ভাই সানোয়ার ও তার চাচা সত্তার হাওলাদার এবং সোহাগ মৃধা ঘটনাস্থলে যান। তারা রিনা বেগমকে কী কারণে মারা হয়েছে, এই বিষয়টি ছেলে রুবেল ও মেয়ে মাহিনুর বেগমকে জিজ্ঞাসা করেন। তখন কথার কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুনরায় উভয় গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। এরপর উল্টো মাহিনুর বেগম বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এ মামলায় তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে সোহাগ মৃধা জানিয়েছেন।
এদিকে রিনা বেগমকে মারধরের পর তার ছেলে ও মেয়ের বিরুদ্ধে দেওয়া একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার আমাদের দেশের হাতে এসেছে। সেখানে তিনি বলেন, ‘মাইয়া (মাহিনুর) আমাকে বুকে ঘুসি দিছে। এরপর পোলায় পাক্কা মাইররা উঠানে মেলা মারছে। বুকের কাডি দুহান ভাইঙা গেছে। এর আগেও তারা (ছেলে ও মেয়ে) পাঁচ -ছয় বার মারছে। রোজার মাসে ঘর থেকে নামাইয়া দিছে। বাঁশ দিয়ে লড়াইছে। আটটা রোজা চিড়া খাইয়া রইছি।’
প্রায় সাত বছর আগে স্থানীয় চৈতা বাজার থেকে একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী কিনেছিলেন। সেই গাভীর বাচ্চা হিসেবে জন্ম নেয় কালো মানিক। আদর-যত্নে বড় হওয়া এই ষাঁড়ের ওজন এখন ১ হাজার ৮০০ কেজি, লম্বায় ১১ ফুট, উচ্চতা ৬ ফুট। তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা লালন-পালন করেছেন কালো রঙের ষাঁড়টিকে। এটির নাম রেখেছেন কালো মানিক।
২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে সোহাগ মৃধার মনে আশা জাগে—দল যদি ঘুরে দাঁড়ায়, তিনি প্রিয় নেত্রীকে কালো মানিক উপহার দেবেন। বিএনপির রাজনীতিতে নিজের ভালোবাসা প্রকাশের জন্য গত বছরের ৫ জুন তিনি এই কালো মানিকটি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য উপহার হিসেবে গুলশানে ফিরোজার বাসায় নিয়ে যান। ম্যাডাম কালো মানিক গ্রহণ করেন এবং তার ছেলে জিসান মৃধাকে ফেরত দেন। সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভিডিও কলে তিনি কথা বলেন। পরিবারের সবাইকে ঈদ উপহারও দেন।
গত ২৪ মে ঈদুল আজহার আগে কালো মানিককে বিক্রির জন্য উত্তরার দিয়াবাড়ি পশুর হাটে নিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে কালো মানিককে কিনে নেন বিপিএল সিলেট টাইটান্সের প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিল্পপতি ফাহিম আল চৌধুরী। বিষয়টি নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজা উপত্যকার কাছে যুক্তরাষ্ট্র এবার সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছে। ইসরাইল হায়োমের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই ঘাঁটি ব্যবহার হবে। এদিকে গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবির এবং খান ইউনিসে ইসরাইলি ড্রোন হামলার ফলে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
দিন গড়াচ্ছে, এবং গাজা যেন নরকে পরিণত হচ্ছে। শনিবার (১৩ জুন) স্থানীয় সময় বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব পালনের সময় হামলার শিকার হয়েছেন। একই হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় পৃথক হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন এবং খান ইউনিসে বিমান হামলা চালিয়েছে নেতানিয়াহু বাহিনী।
পশ্চিম তীরের বেথলেহেম ও হেবরন এলাকায়ও টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেডের মাধ্যমে ইসরাইলি বাহিনী সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এসময় এক প্রতিবন্ধী ফিলিস্তিনি যুবককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, সম্পদ ধ্বংস, এবং কৃষিজমিতে আগুন দেওয়া ঘটনা বাড়ছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গাজায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র ৭০ জন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রধান ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স জানিয়েছেন, এটি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা মূল্যায়নের অংশ।
কিন্তু সংস্থাটি জানিয়েছে, কর্মীদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের পক্ষ থেকে হামাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
এদিকে, গাজার সীমান্তঘেঁষে নতুন একটি বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের খবর প্রকাশ করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের রেইম সামরিক ঘাঁটির কাছে নির্মিত হতে থাকা এই স্থাপনাটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কর্মীদের জন্য একটি সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে সক্ষম হবে এবং কিরিয়াত গাত থেকে সরিয়ে আনা একটি বহুজাতিক সদর দফতরের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হলেও লেবাননে থামেনি ইসরাইলের বর্বরতা। দেশে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ২৪টি শহর ও গ্রামে বসবাসকারী মানুষের অবিলম্বে ঘর ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও লেবাননে চলমান রয়েছে ইসরাইলি হামলা। স্থানীয় সময় শনিবার (১৩ জুন) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিমান, ড্রোন হামলা এবং গোলাবর্ষণ চালায় নেতানিয়াহু বাহিনী। নাবাতিয়েহ, টাইর, মারজাইউন, সাইদা ও বিনতে জবেইলের এলাকায় অনেক মানুষ নিহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে বাড়িঘর এবং সরকারি স্থাপনা।
এছাড়া, ২৪টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের ঘর ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে হামলাকারীদের পক্ষ থেকে।
জবাবে, সীমান্তের কাছে ইসরাইলি সামরিক যান ও একটি কমান্ড সেন্টারে হামলার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যবহার করে হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে, ইসরাইলের দাবি, গত এক সপ্তাহে তারা হিজবুল্লাহর সাত যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং একদিনে সংগঠনটির ৭০টির বেশি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
চলমান সংঘাতের মধ্যেই আগামী ২২ জুন ওয়াশিংটনে নতুন দফা আলোচনায় লেবানন এবং ইসরাইল বসতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সীমান্তবর্তী একটি ‘পাইলট জোন’ থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আলোচনা হবে।
এদিকে আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, লেবাননের ভেতরে ইসরাইলের বাফার জোন তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য হিজবুল্লাহকে প্রতিহত করা না, বরং অঞ্চলটির গ্যাসের মজুত দখল করা।
প্রতিবেদনে বিশ্লেষকরা জানান, লেবাননের উপকূলে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর মাধ্যমে বৈরুতের তেল ও গ্যাসের মজুত নিয়ন্ত্রণের ষড়যন্ত্র করছেন নেতানিয়াহু।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ