ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সীমান্ত এলাকায় জনমিতি পরিবর্তন নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন অমিত শাহ


সীমান্ত এলাকায় জনমিতি পরিবর্তন নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন অমিত শাহ

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তবর্তী এলাকায় জনমিতিক (জনসংখ্যার গঠনগত) পরিবর্তনের কারণ এবং প্রভাব খতিয়ে দেখতে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটিকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার (১৩ জুন) কমিটির এক বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি সীমান্ত জেলা, মহানগরী এবং শিল্পাঞ্চলগুলো পরিদর্শন করে এই পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ মূল্যায়নের নির্দেশ দেন।

ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন এবং অন্যান্য ‘অস্বাভাবিক’ কারণে জনসংখ্যার কাঠামোগত যে পরিবর্তন ঘটছে, তা খতিয়ে দেখাই এই কমিটির মূল লক্ষ্য। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পি পি নাওলকারের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের সাবেক প্রধান সচিব দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাবেক প্রধান বালাজি শ্রীবাস্তব এবং অর্থনীতিবিদ শামিকা রবি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ফরেনার্স-১) কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

কমিটিটি গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জনসংখ্যার মতো একটি জটিল বিষয় পর্যালোচনার জন্য গঠিত এই কমিটিতে কোনো জনমিতি বিশেষজ্ঞ বা ডেমোগ্রাফার নেই। খোদ কমিটির প্রধান বিচারপতি নাওলকারও গত মে মাসে স্বীকার করেছিলেন যে, এই পদের জন্য তার নির্বাচিত হওয়া ছিল একটি বড় চমক এবং জনমিতি বা অবৈধ অভিবাসনের মতো বিষয়গুলো তার কাছে একেবারেই ‘নতুন’।

বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, ২০২৭ সালের আদমশুমারি প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও কেন সমান্তরালভাবে এমন একটি কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি নেতারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ’-এর জন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দায়ী করে যে বক্তব্য দিয়ে আসছেন, এই কমিটি সেই রাজনৈতিক এজেন্ডারই অংশ কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নির্দেশনার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামের সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগজনক ও অমানবিক পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের জেরে বাংলাভাষী মুসলমানদের কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের তোয়াক্কা না করেই বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া (পুশ-ব্যাক) হচ্ছে। এই ঘটনা সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এবং মানবিক সংকটের সৃষ্টি করেছে।

সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের সংখ্যার গঠন, বয়স বা বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনকে জনমিতিক পরিবর্তন বলা হয়। তবে ভারতের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটির কাজ কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং রাজনৈতিক এবং কৌশলগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কমিটির প্রতিবেদনের গুণগত মান এবং এর ভিত্তিতে গৃহীত পরবর্তী সরকারি নীতি ভারতের অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুশইন নিয়ে সংসদে আলোচনা প্রস্তাব স্থগিত, জামায়াত এমপির ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


পুশইন নিয়ে সংসদে আলোচনা প্রস্তাব স্থগিত, জামায়াত এমপির ক্ষোভ

সীমান্তে পুশইন বিষয়ক সংসদে আলাপের জন্য প্রস্তাব গৃহীত হলেও পরে এটি স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, "জনগণের রক্তের চেয়ে আর কি গুরুত্ব থাকতে পারে যে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি স্থগিত করতে হল?"

কার্যপ্রণালী-বিধির প্রস্তাব (সাধারণ) বিধি-১৪৭ অনুযায়ী, একটি প্রস্তাবের উপর রোববার সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার যে কার্যসূচি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রস্তাবটি এনেছিলেন আহমাদ বিন কাসেম।

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধ পুশইন ও সীমান্ত হত্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশ্যে ঘোষিত পুশইন তৎপরতার এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। এই কারণে জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে আলোচনা করা আবশ্যক।

রোববার সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আহমাদ বিন কাসেম বলেন, "আমি সীমান্ত হত্যাকাণ্ড এবং পুশ ইন সম্পর্কিত একটি বিশেষ আলোচনা করার প্রস্তাবে নোটিস দিয়েছিলাম। সংসদের মূলতবি শাখা থেকে চিঠি দিয়ে আমাকে জানানো হয়, আজকে এই বিষয়টি আলোচনা করার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে।"

কিন্তু কিছুক্ষণ আগে মূলতবি শাখা থেকে জানানো হয়, "অনিবার্য কারণবশত এই প্রস্তাবটি, যেটি গৃহীত হয়েছিল, সেটি স্থগিত করা হয়েছে।"

আহমাদ বিন কাসেম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার প্রশ্ন, জনগণের রক্তের চেয়ে আর কি গুরুত্ব থাকতে পারে যে এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেটা কোনো দলীয় এজেন্ডা নয়, সেটিকে অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করতে হল।" দ্বিতীয় প্রশ্ন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, "এটা যে স্থগিত হল, পরবর্তী কবে এটি আলোচনার জন্য নির্ধারিত হবে?"

এ বিষয়টি সম্পর্কে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, "নোটিসটা আমার সামনেও আছে। স্থগিত একটি টেম্পোরারি মেজার। বাজেট অধিবেশন চলছে, আমাদের সময়ের সীমাবদ্ধতা আছে। এটি খুব মৌলিক বিষয়। আমরা প্রত্যাশা করছি, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার পূর্বক কোনো এক সময় নোটিসের উপর আলোচনা হবে।"

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার আহমাদ বিন কাসেমকে একটি চিঠি দিয়ে সংসদের মূলতবি ও অধিকার শাখা থেকে জানানো হয়, "অনিবার্য কারণবশত এই নোটিশটির ওপর আজকের আলোচনা স্পিকার স্থগিত করেছেন।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আ.লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৮জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আ.লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৮জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

রাজবাড়ী থানা পুলিশের অভিযান চলাকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ৮ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত সদস্যরা হলেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার ছোট নুরপুর গ্রামের মৃত হাকিম মাতুব্বরের ছেলে মোঃ রাব্বানী (৪৬), রাধাকান্তপুর গ্রামের আঃ কুদ্দুস শেখের ছেলে মাইনউদ্দিন শেখ (৪২), ভবদিয়া (স্কুলের পাশে) মৃত আঃ লতিফের ছেলে মোঃ নাসির উদ্দিন (৪২), আলাদীপুর গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে মোঃ রিয়াদ মন্ডল (২৬), ভান্ডারিয়া গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ আঃ ছালাম মিলন (৫৭), দক্ষিন ভবানীপুর এলাকার মৃত আঃ সালামের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম সোহাগ (৪২), রসুলপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে নাহিদ মিয়া (২৪), এবং ধুলদি জয়পুর গ্রামের মৃত আনছার আলী শেখের ছেলে মোঃ নাসির শেখ (৬৪)। গ্রেপ্তারকৃত সকলেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী।

রবিবার (১৪ জুন) রাজবাড়ী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং এর অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ৮ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

গত ১৩ জুন ভোর সাড়ে ৫ টার সময় রাজবাড়ী সদর থানার গোপিনাথাদিয়া গ্রামের রাজবাড়ী ফিলিং ষ্টেশনের দক্ষিণ পাশে রাজবাড়ী-ফরিদপুর মহাসড়কের উপর ৩০-৩৫ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় সদস্যরা বর্তমান সরকারকে উৎখাতের জন্য রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তারা জন নিরাপত্তা বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে জনমনে ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে নাশকতা করার জন্য একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। এ মিছিলে বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান শোনা গিয়েছে, যাতে সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়। আসামীদের হাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা গেছে। ফলে ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, রাজবাড়ী সদর থানার এসআই মোঃ শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ রাজবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও তার অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ৮ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার দুপুরে ধৃত আসামীদের রাজবাড়ী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২২ পি.এম


অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য অযৌক্তিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ড (AMR MPTF) প্রকল্পের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন (VAG) বাস্তবায়ন বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে প্রাণিসম্পদ খাতেও এর অপব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রান্তিক খামারিদের অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে রোগ নিরাময়ের আশায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন, যদিও এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তারা যথেষ্ট সচেতন নন। ফলে সচেতনতার ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তিনি এ ক্ষেত্রে ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন, কোনো ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে কঠোরভাবে তদারকি ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

তিনি বলেন, “যদি আমরা একটি সমন্বিত চেইনের মাধ্যমে- ভেটেরিনারি চিকিৎসক, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং খামারিদের একসাথে নিয়ে কাজ করতে পারি, তাহলে বরিশালের মতো সাফল্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অর্জন সম্ভব হবে।” তিনি খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদনে সরকারের পাশাপাশি সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও বাংলাদেশের প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. মো. বয়জার রহমান।

কর্মশালায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH)-এর জাতীয় এএমআর পরামর্শক ড. মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR), ওয়ান হেলথ এবং দায়িত্বশীল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞগণ আলোচনা করেন।

এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH), খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ পি.এম


খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়ার পর ফেরত দেওয়া সেই কালো মানিকের মালিক সোহাগ মৃধাকে, বয়স ৩৫ বছর পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার দিন দুপুরে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের মহিষকাটা বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে সোহাগ মৃধার পরিবার দাবি করছে, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তারা বলছেন, বাড়ির পাশে কিছু ঝামেলা নিয়ে ঘটনা ঘটেছে।

সোহাগ মৃধা আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেন মৃধার ছেলে। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ কাওসার আহমেদ।

পুলিশ জানিয়েছে, সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে মারামারি ও পর্নোগ্রাফি আইনে দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মারামারির মামলায় তিনি এক নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি এবং পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় সহযোগী আসামি হিসেবে অভিযুক্ত। এসব মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান আমাদের দেশকে জানান, সোহাগ মৃধাকে মারামারি ও পর্নোগ্রাফির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তবে সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তারের পূর্বে গতকাল শনিবার আমাদের দেশকে জানান, তাদের বাড়ির পাশে ১০ জানুয়ারি পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে রুবেল ও মাহিনুর বেগম তার বৃদ্ধ মা রিনা বেগমকে, বয়স ৬২ বছর মারধর করে। এই বিষয়টি জেনে রিনা বেগমের ভাই সানোয়ার ও তার চাচা সত্তার হাওলাদার এবং সোহাগ মৃধা ঘটনাস্থলে যান। তারা রিনা বেগমকে কী কারণে মারা হয়েছে, এই বিষয়টি ছেলে রুবেল ও মেয়ে মাহিনুর বেগমকে জিজ্ঞাসা করেন। তখন কথার কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুনরায় উভয় গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। এরপর উল্টো মাহিনুর বেগম বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এ মামলায় তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে সোহাগ মৃধা জানিয়েছেন।

এদিকে রিনা বেগমকে মারধরের পর তার ছেলে ও মেয়ের বিরুদ্ধে দেওয়া একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার আমাদের দেশের হাতে এসেছে। সেখানে তিনি বলেন, ‘মাইয়া (মাহিনুর) আমাকে বুকে ঘুসি দিছে। এরপর পোলায় পাক্কা মাইররা উঠানে মেলা মারছে। বুকের কাডি দুহান ভাইঙা গেছে। এর আগেও তারা (ছেলে ও মেয়ে) পাঁচ -ছয় বার মারছে। রোজার মাসে ঘর থেকে নামাইয়া দিছে। বাঁশ দিয়ে লড়াইছে। আটটা রোজা চিড়া খাইয়া রইছি।’

প্রায় সাত বছর আগে স্থানীয় চৈতা বাজার থেকে একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী কিনেছিলেন। সেই গাভীর বাচ্চা হিসেবে জন্ম নেয় কালো মানিক। আদর-যত্নে বড় হওয়া এই ষাঁড়ের ওজন এখন ১ হাজার ৮০০ কেজি, লম্বায় ১১ ফুট, উচ্চতা ৬ ফুট। তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা লালন-পালন করেছেন কালো রঙের ষাঁড়টিকে। এটির নাম রেখেছেন কালো মানিক।

২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে সোহাগ মৃধার মনে আশা জাগে—দল যদি ঘুরে দাঁড়ায়, তিনি প্রিয় নেত্রীকে কালো মানিক উপহার দেবেন। বিএনপির রাজনীতিতে নিজের ভালোবাসা প্রকাশের জন্য গত বছরের ৫ জুন তিনি এই কালো মানিকটি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য উপহার হিসেবে গুলশানে ফিরোজার বাসায় নিয়ে যান। ম্যাডাম কালো মানিক গ্রহণ করেন এবং তার ছেলে জিসান মৃধাকে ফেরত দেন। সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভিডিও কলে তিনি কথা বলেন। পরিবারের সবাইকে ঈদ উপহারও দেন।

গত ২৪ মে ঈদুল আজহার আগে কালো মানিককে বিক্রির জন্য উত্তরার দিয়াবাড়ি পশুর হাটে নিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে কালো মানিককে কিনে নেন বিপিএল সিলেট টাইটান্সের প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিল্পপতি ফাহিম আল চৌধুরী। বিষয়টি নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%