১০:০২ এম
কেনিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইবোলা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছে। সোমবার (১ জুন) দেশে নানিয়ুকি শহরে হাজার হাজার মানুষ এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে এবং বিক্ষোভ করে।
বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায়। এর পর পুলিশ তাদের দমনের জন্য কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। এই ঘটনায় দুই যুবক নিহত হয়। নিহতদের একটি পরিবারের সদস্য জানিয়েছে, তাদের পুত্র কোনো বিক্ষোভের সাথে জড়িত ছিলেন না, শুধুমাত্র রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হন। তবে পুলিশ বা স্থানীয় কর্মকর্তারা এখনও এই মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।
কেনিয়ার প্রতিবেশী কঙ্গোতে ইবোলা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেখানে আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য কেনিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটিতে ৫০ শয্যার এই কেন্দ্রটি তৈরি করতে চাচ্ছে আমেরিকা। কিন্তু কেনিয়ার সাধারণ মানুষ এবং চিকিৎসকদের সংগঠন এটির তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের উদ্বেগ এই যে, কেনিয়ায় এখনও কোনো ইবোলা রোগী না থাকলেও, এই কেন্দ্র স্থাপনের ফলে সারা দেশে মারাত্মক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
মানুষের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তা করে কেনিয়ার হাইকোর্টও এই কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সামরিক ঘাঁটিতে কেন্দ্র তৈরির প্রস্তুতি থেমে নেই। দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান থাকলেও কেনিয়ার রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম রুটো মার্কিন উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের খাতিরে এই সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং তিনি রাজি হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি দেশবাসীকে অনুরোধ করেছেন রাজনীতি না করার এবং বলেছেন, সরকার সব বিষয় খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
তবে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, সরকারকে কেন্দ্রের সমস্ত তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
সূত্র : বিবিসি
আরও পড়ুন: রাশিয়া ও চীনের প্রধানমন্ত্রী সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকে মিলিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন