প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার ধামরাইয়ে চলতি বছরে কোনো অবৈধ ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না, এই ঘোষণা দিলেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই—এমন কোনো ইটভাটাকে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিনব্যাপী ধামরাই উপজেলায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। তিনি জানান, ‘ঢাকা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে ধামরাই উপজেলায়। তবে চলতি বছরে এখানে কোনো ধরনের অবৈধ ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই—এমন কোনো ইটভাটাকে কোনোভাবেই কার্যক্রমে আসতে দেওয়া হবে না।
তবে স্বল্প পরিসরে কিছু ইটভাটাকে অনুমতি দেওয়া হতে পারে, সেটিও যথাযথ যাচাই-বাছাই করে।’
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রূপনগরের বেদেপল্লির ৬৩ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক। এ ছাড়া ১২ জনকে ঢেউটিন ও নগদ ৬ হাজার টাকা করে, ১১৩ জনকে শাড়ি ও থ্রিপিস এবং ২০০ শিশুর মধ্যে খেলনা বিতরণ করা হয়।
এ সময় বেদে সম্প্রদায়কে আধুনিক ও মূলধারার সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন ফরিদা খানম।
শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি সহায়তা বিষয়ে বেদেপল্লির বাসিন্দাদের সচেতন করেন তিনি। শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপদ বাসস্থান ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহযোগিতারও আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি বেদেদের জীবনমান উন্নয়নে ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন তিনি।
এ ছাড়া বেদেদের বাসস্থানের জন্য ১০ দিনের মধ্যে খাসজমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সেখানে তাদের বসবাসের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক।
এর আগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফরিদা খানম।
তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনার বিষয়ে শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে নজর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া ১৮৬ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাদের অভিনন্দন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এ সাফল্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথচলায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভালো ফল নয়, জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
এ সময় তিনটি প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষা উপকরণ, ছয়জন উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মীর মধ্যে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ এবং একজন প্রতিবন্ধীকে ৪ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্পোর্টস ক্লাবসহ ৪০টি প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত ১৫টি স্কুলে খেলনা ও শিক্ষা উপকরণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১০ ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার এবং ৪২ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা বিতরণ করা হয়। গ্রাম পুলিশের সদস্যদের মধ্যেও পোশাক বিতরণ করেন তিনি।
‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে অন্ধ, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত, প্রতিবন্ধী ও শিক্ষার্থীসহ ১৫ জন দুস্থ, অসহায় ও দরিদ্র ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
দিনের কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে ধামরাই পৌরশহরের আব্দুস সোবহান মডেল হাইস্কুল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। পরে ৭০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, কুশুরা আব্বাস আলী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও জালসা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন