ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এনার্জি খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি: জ্বালানিমন্ত্রী


এনার্জি খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি: জ্বালানিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘আমাদের সরকার প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি সরকার। পার্টিকুলারলি এনার্জি সেক্টরে প্রাইভেটের ইনভেস্টমেন্ট আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সেই জন্যই আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রাইভেট সেক্টরের সবার সাথে বসছেন এবং আমি নিজেও বসেছি।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট : সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দায়িত্বভার গ্রহণের পরে হঠাৎ করে মিডল ইস্টে যুদ্ধ হয়ে গেল। আমি বারবার বলা সত্ত্বেও যে আমার রিজার্ভ আছে আপনারা ভয় পায়েন না, আপনারা পেট্রল পাম্পে এত লাইন দিয়েন না এবং এই পেট্রল পাম্পে এমন বড় লাইন হলো যে আমার বাড়ির সামনে দুটো পেট্রল পাম্প আছে- তো সারারাত দেখলাম আমার বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে আছে। তো যা হোক আমরা অনেক চেষ্টা করে এটাকে বন্ধ করতে পেরেছিলাম। তেলের তো অভাব হয়নি।’

আরও পড়ুন: আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮

‘তারপরেও বিশাল লাইন। পরে দেখা গেল যে ব্ল্যাক মার্কেটিং শুরু হলো। পরে দেখা গেল অনলাইন ব্ল্যাক মার্কেটিং শুরু হলো যে অমুক জায়গায় এই এতো দামে তেল বিক্রি হবে অনলাইনে অর্ডার করলে তেল চলে গেল। এইটা দেখে আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করলাম যে আমরা তেলের ব্যবসাটা প্রাইভেটে দিয়ে দেই। আমরা তো আছিই আর যারা প্রাইভেট আছে, কারণ আমরা তো অলরেডি প্রাইভেট থেকে তেল কিনি। এই যে কম্প্রেসড করে অকটেন পেট্রল বিক্রি করে কিছু কোম্পানি, তাদের কাছ থেকে আমরা কিনি এবং আমরা কিন্তু অকটেন পেট্রল খুব কম আমদানি করি, দেশ থেকেই কিনি আমরা। তো যদি ওইটা হতে পারে তো আমরা সব ওদেরকেই দিয়ে দেই না কেন। থাকুক দেশে দুইটা পেট্রল পাম্প- থাকুক একটা পদ্মা মেঘনা যমুনার থাকুক আরেকটা বেসরকারি। যেমন ইন্ডিয়াতে আছে ইন্ডিয়ান ওয়েল আর রিলায়েন্স।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ক্রাইসিস মোমেন্টে অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। তাদের বলতে চাই, দেশের ক্রাইসিসকে বাড়িয়ে দিয়ে আপনারা কিছু হাসিল করতে পারবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন একটা এফএসআরইউ বন্ধ হয়েছে আর সারা দেশে গ্যাসের জন্য হাহাকার লেগে গেছে। গ্যাস সংকট নিয়ে আমরা শিল্পমালিকদের সঙ্গে বসব। আমাদের দেশের শিল্পমালিকরা যেন বিপদে না পড়ে, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমাদেরকে খুব সতর্কতার সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে আগাতে হবে। কেননা এগুলো করার কারণে অনেক ফাইন্যান্স বন্ধ হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা

তিনি আরও বলেন, ‘সোলারের ব্যাপারে আমরা অ্যাগ্রেসিভ। এটাকে বিজনেস অরিয়েন্টেড করার জন্য আমরা কাজ করেছি। দুই মাসের মধ্যে আমরা পলিসি তৈরি করেছি। আমরা যা পলিসিতে বলেছি, ওটাই বাস্তবায়ন হবে। ওপেক্স মডেলে ঢাকা শহর থেকে শুরু করে সারা দেশে সোলার ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকলায় পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


নকলায় পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শেরপুরের নকলায় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা-২০২৬ এ ফেল করা দিয়ামনি অন্তি (১৭) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা আলোচনা করছে। পরীক্ষায় ফেল করার কারণে সে খুবই দুঃখিত ছিল এবং গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ঘটনাটি সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরবাছুরআলগী গ্রামে ঘটে।

নিহত দিয়ামনি স্থানীয় কৃষক দুলাল মিয়ার কনিষ্ঠ কন্যা। সে চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। দুলাল মিয়ার ৩ মেয়ের মধ্যে দিয়ামনি সবার ছোট ছিল। সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দিয়ামনি অকৃতকার্য হয়। এই কারণে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে বলে সাধারণ মানুষের ধারণা। তবে শুধুমাত্র পরীক্ষায় ফেল করার কারণেই সে আত্মহত্যা করেছে এমন সুনিদৃষ্ট কোন তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিয়ামনি সোমবার রাতে তার বড়বোন শম্পার সাথে ঘুমাতে যায়। যখন শম্পা গভীর ঘুমে ছিল, তখন দিয়ামনি শয়নকক্ষের পাশের বারান্দার কক্ষে গিয়ে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। রাত ৪টার পরে শম্পা ঘুম থেকে উঠে বিছানায় দিয়ামনিকে না পেয়ে পাশের বারান্দার কক্ষে গিয়ে তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছুটে এসে ঘটনাস্থলে আসেন। পরে ঘটনাটি চন্দ্রকোনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জানানো হয়, এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দিয়ামনির মরদেহ উদ্ধার করে ও সুরতহাল প্রস্তুত করে।

নকলা থানার ওসি রিপন চন্দ্র গোপ জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টা থেকে রাত ৪টার মধ্যে দিয়ামনি ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নকলা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফল বিক্রেতার ফোন চুরির অভিযোগে এসআইকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


ফল বিক্রেতার ফোন চুরির অভিযোগে এসআইকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজড

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ফল বিক্রেতার মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল মিয়াকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং ক্লোজড করা হয়েছে। ঐদিন সোমবার সন্ধ্যার সময়, ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

এর আগে, গত শনিবার রাতে আজমিরীগঞ্জ বাজারে রাজিব আহমেদের ফলের দোকানে এই চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার বিস্তারিত ধরা পড়ে সিসিটিভির ফুটেজে। যা কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ফল কেনা শেষে প্রায় পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে এসআই রাসেল দোকানে অবস্থান করেন। এ সময়ে দোকানের টেবিলের ওপর রাজিব আহমেদের কালো রঙের একটি স্মার্টফোন রাখা ছিল। এক পর্যায়ে, এসআই রাসেল হাতে থাকা একটি ফাইল এবং নিজের লাল রঙের মোবাইল ফোনটি দোকানির মোবাইলের ওপর রাখেন। এরপর কথা বলার সময়, তিনি দুটি ফোনই পকেটে নিয়ে দোকান থেকে চলে যান। কিছু সময় পর, নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে ব্যবসায়ী রাজিব আহমেদ দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। এতে দেখা যায় যে, এসআই রাসেল মোবাইলটি নিয়ে গেছেন।

রাজিব আহমেদ উল্লেখ করেন, পরে তিনি এসআই রাসেলের কাছে মোবাইল ফোনটি ফেরত চান, কিন্তু রাসেল প্রথমে ফোনটি নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপর সিসিটিভি ফুটেজের কথা উল্লেখ করার পর, গভীর রাতের মধ্যে মোবাইলটি ফেরত না দিয়ে তাকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

এসআই রাসেল মিয়াকে সম্পর্কে তথ্য জানতে একাধিকবার ফোন করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকবর হোসেন বলেন, তিনি সিসিটিভির ফুটেজ দেখেছেন এবং এসআই রাসেল ফোন হারিয়ে ফেলার বিষয়টিতে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছে ওই ফল বিক্রেতাকে। তিনি আরো জানান, ঘটনাটি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

ওসি আরো জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর সোমবার তাকে (এসআই রাসেল) হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তরুণদের মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি রোধে বহুমুখী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ইউজিসি সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


তরুণদের মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি রোধে বহুমুখী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ইউজিসি সদস্য

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : তরুণ সমাজকে মাদক ও ইন্টারনেটের ক্ষতিকর আসক্তি থেকে মুক্ত রাখতে সরকার শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমুখী ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করছে, বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

আজ (মঙ্গলবার) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত 'মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি, ক্যারিয়ার নির্বাচনে বিভ্রান্তি: সমাধান যে পথে' শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। বাংলাদেশ অ্যান্টি ড্রাগ ফেডারেশন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

মাদক সমস্যা দূরীকরণে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক মামুন বলেছেন, মাদকসেবীদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত চক্র ও মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে কঠোর মোকাবিলা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সর্বোচ্চ কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

কেবল সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তরুণদের আসক্তি থেকে দূরে রাখা কঠিন, উল্লেখ করে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, তরুণদের জন্য আনন্দময় ও ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষাক্রমে 'এডুকেশন উইথ হ্যাপিনেস' কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া শিশু-কিশোর ও তরুণদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে 'নতুন কুঁড়ি' কর্মসূচি এবং 'প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ'সহ নানা ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে, যা তরুণদের ইতিবাচক মানসিকতা গঠনে সহায়ক হবে।

তরুণদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন জানালেন, যুবসমাজের বেকারত্ব দূর করতে নির্দিষ্ট মেয়াদে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য তরুণদের ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব সরকারি সুযোগ-সুবিধা পূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তিনি তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক তরুণ অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবা-মায়ের স্নেহ ছাড়াই বেড়ে ওঠা ৯ কিশোরের এসএসসিতে সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৪ পি.এম


বাবা-মায়ের স্নেহ ছাড়াই বেড়ে ওঠা ৯ কিশোরের এসএসসিতে সাফল্য

পঞ্চগড়, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : কারও বয়স তখন ছিল মাত্র ৬ বছর। কেউ হারিয়েছেন বাবাকে, আবার কেউ মাকে, এবং কারও জীবনে বাবা-মা দুজনেরই কোনো স্মৃতি নেই। কেউ পরিবার থেকে হারিয়ে গেছেন, আবার কেউ দারিদ্র্যের কারণে ঠাঁই নিতে বাধ্য হয়েছেন অনাথ আশ্রমে। আপনজনের স্নেহ ও ভালোবাসা, পাড়া-প্রতিবেশীর পরিচিত মুখ কোনোটিই তাদের জীবনের অংশ হয়ে ওঠেনি।

তবে জীবন তাদের থামিয়ে রাখতে পারেনি। চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় পঞ্চগড়ের আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে বেড়ে ওঠা ৯ কিশোর উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে কিছুর চোখে পরিবারকে খুঁজে পাওয়ার স্বপ্ন, আবার কারও স্বপ্ন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার। এসএসসি পাসের আনন্দের মধ্যে কোথাও যেন মিশে রয়েছে স্বজন হারানোর দীর্ঘশ্বাস।

যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা হলেন সাকিব হাওলাদার, সুমন মিয়া, আল-আমিন, সাকিব, নিরব ইসলাম, জুয়েল হাওলাদার, মেহেদি হাসান, আনিছুর ইসলাম ও আলিউল ইসলাম। এরা সবাই পঞ্চগড় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের জলাপাড়া গ্রামে অবস্থিত আহছানিয়া মিশন শিশু নগরী। এটি একটি প্রতিষ্ঠান যা অনাথ, ছিন্নমূল, বঞ্চিত ও হারিয়ে যাওয়া পথশিশুদের নিরাপদ আশ্রয় প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে সেখানে ১৬০ জন শিশু রয়েছে।

শিশু নগরীতে গিয়ে দেখা যায়, দুটি বড় ভবনের মাঝে বিশাল এক খেলার মাঠ। মাঠজুড়ে শিশুদের হাসি-खিলখিল। কারও হাতে বই, কেউ ব্যস্ত খেলায়। এর মধ্যেই সদ্য এসএসসি দীপ্তি লাভ করা নয় জন কিশোরের মুখে ছিল অন্যরকম উচ্ছ্বাস।

সুমন মিয়া বলেন, ৬ বছর বয়সে তিনি পরিবার থেকে হারিয়ে যান। এরপর একটি সেন্টারে থাকার পর ২০১৫ সালে আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে আসেন। দীর্ঘ ১০ বছর এখানেই কাটিয়েছেন তার শৈশব ও কৈশোর।

সুমন জানালেন, “৬ বছর বয়সে পরিবার থেকে হারিয়ে গেছি। কোথা থেকে হারিয়েছি, সেটাও মনে নেই। পরে একটি সেন্টারে ছিলাম। সেখান থেকে মালেক স্যারের মাধ্যমে ২০১৫ সালে এখানে আসি। এখানে ১০ বছর পড়াশোনা করার পর এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছি। খুব ভালো লাগছে।”

কথা বলার এক সময় পরিবারের প্রসঙ্গ এলে সুমনের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। তিনি বলেন, “হয়তো আমার পরিবার আমার সঙ্গে থাকলে তারাও অনেক খুশি হতো। তারা বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে, তাও জানি না। আমার পরিবারের কোনো ঠিকানা নেই।”

নিরব হাসানও প্রায় ১০ বছর ধরে শিশু নগরীতে আছেন। এখান থেকেই পড়াশোনা করে তিনি পঞ্চগড় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেছেন।

নিরব বলেন, “আমি ১০ বছর ধরে আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে আছি। এখান থেকে পড়াশোনা করে এসএসসি পাস করেছি। আমি খুব খুশি।” ভবিষ্যতে কী হতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে তার সহজ উত্তর, “বড় হয়ে একজন ভালো মানুষের মতো মানুষ হতে চাই।”

আনিছুর ইসলামের বাবার মৃত্যু হয়েছিল শিশু বয়সেই। সংসারের অভাবের কারণে তার মা তার পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছিলেন না। পরে পরিচিতদের মাধ্যমে আহছানিয়া মিশনের কথা জানতে পেরে তাকে এখানে ভর্তি করা হয়।

আনিছুর বলেন, “ছোটবেলায় আমার বাবা মারা যান। পরে এই মিশনের কথা জানতে পেরে আমাকে এখানে পাঠান। প্রায় ১১ বছর ধরে এখানে আছি। এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ৪ পেয়েছি।”

মেহেদি হাসানের বাবাও ছোটবেলায় মারা যান।স্বামীর মৃত্যুর পর সংসার চালানোর পাশাপাশি মায়ের পক্ষে ছেলের পড়াশোনার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মেহেদি বলেন, “বাবা ছোটবেলায় মারা গিয়েছে। তখন মা সংসার চালাতে পারছিলেন না, আমাকে পড়াশোনাও করাতে পারছিলেন না। পরে এখানে নিয়ে আসেন। স্যাররা পড়াশোনা, খাওয়া-দাওয়া ও থাকার সব ব্যবস্থা করেছেন। এখানে থেকেই এসএসসি পরীক্ষা দিতে পেরেছি। সবার দোয়া ও আল্লাহর রহমতে ভালো ফল করেছি। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি শিশু নগরীতে আছেন।”

আল-আমিন ইসলাম ৭ বছর বয়সে হারিয়ে যান। এরপর আর খুঁজে পাননি বাবা-মাকে। এসএসসি পাসের আনন্দের দিনেও সেই শূন্যতার কথা মনে পড়ে তার।

আল-আমিন বলেন, “আজকের ফলাফল শুধু আনন্দের নয়, এর সঙ্গে একটা কষ্টও আছে। যদি আজ আমার বাবা-মা আমার পাশে থাকতেন, তাহলে ভালো লাগত। অন্যদের বাবা-মা সন্তানদের পরীক্ষা দেওয়ার সময় পাশে থাকেন, ফলাফল হলে খুশি হন। আমিও তো তাদের ছেলে। আমি পাস করেছি তারা যদি জানতে পারত, তারাও নিশ্চয়ই খুশি হতো।”

ভবিষ্যৎ নিয়ে তার স্বপ্নও স্পষ্ট। আল-আমিন বলেন, “বড় হয়ে একজন সুনাগরিক হতে চাই। সৎভাবে চলতে চাই। যে কাজই করি, সততা নিয়ে করবো। সবসময় সত্যের পথে চলবো।”

আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীর সমাজকর্মী ইউসুফ আলী বলেন, “দেশের বিভিন্ন রেলস্টেশন, ফেরিঘাট, নদীভাঙনকবলিত এলাকা ও হতদরিদ্র পরিবার থেকে আসা শিশুদের এখানে আশ্রয় দেওয়া হয়। যাদের বাবা-মা নেই কিংবা যারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, তাদের শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।”

তিনি বলেন, “আমরা শিশুদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলছি। এবারের ফলাফলও ভালো হয়েছে। এভাবেই শিশুরা এখানে সুরক্ষিতভাবে বেড়ে উঠছে।”

আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীর সেন্টার ম্যানেজার দীপক কুমার রায় বলেন, “২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এতিম ও পথশিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ৫ বছরে আমাদের এখান থেকে ৪৮ জন শিশু এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অনেকেই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবারও ভালো ফল হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ব্যবহারের কারণে অনেক শিশুর পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। এখানে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফলে শিশুরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে। তাদের নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়। শিশুদের ভালো ফলের পেছনে নিয়মিত পড়াশোনা, পর্যবেক্ষণ ও স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।”

দীপক কুমার রায় আরো জানান, “২০২১ সাল পর্যন্ত দাতা সংস্থার অর্থায়নে শিশু নগরীর কার্যক্রম চললেও বর্তমানে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের নিজস্ব অর্থায়নে শিশুদের লালন-পালন ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, “সামাজিক সুবিধায় অবস্থানশীল ব্যক্তি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে এই শিশুদের আরও ভালোভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আমরা চাই, এখান থেকে বের হয়ে তারা দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে সমাজে ফিরে যাবে এবং সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%