বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৪৪ এম
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় রেকর্ডীয় ভূমির মালিকদের শান্তিপূর্ণ চাষাবাদে বাধা, ভয়ভীতি, হামলা ও হয়রানির অভিযোগে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার ভুক্তভোগী পরিবার মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনের পর তারা সংশ্লিষ্ট এবং স্থানীয় মন্ত্রী ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের বরাবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এই মানববন্ধন বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলার জে.এল. নং-৯৬ চরভূপেন্দ্র, জে.এল. নং-৯৭ ভোলাইশিংয়ের চর ত্রৈলোক্য এবং জে.এল. নং-৯৮ পাঁচখালী মৌজার রেকর্ডীয় ভূমির মালিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এতে অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সবাই ধানের অঙ্কুরিত বীজভর্তি ঝুড়ি প্রদর্শন করে জানান যে, ভূমিদস্যুদের বাধার কারণে সময়মতো বীজ রোপণ করতে না পারায় তাদের প্রায় ৪০ মণ ধানের বীজ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্মারকলিপিতে ভুক্তভোগীরা উল্লেখ করেন, নদীভাঙনের পর পুনরায় চর জেগে উঠলে তারা আইন অনুযায়ী নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করেন এবং ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ ও কৃষিকাজ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ভূমিদস্যু, দালাল ও সন্ত্রাসীচক্র অবৈধভাবে জমি দখল করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বৈধ চাষাবাদে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রতিবাদ করলে তারা মারধর, প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের জমিতে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং হাজারো পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দশমিনা সদরের মোল্লা পরিবারের রুহুল মোল্লার নেতৃত্বে সৈয়দ জাফর, আরজবেগী এলাকার জাহিদ শিকদার, তহিদ শিকদার, এনায়েত গাজী ও সাকুসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চরাঞ্চলের জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা এবং শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, "আমরা রেকর্ডীয় ও প্রকৃত ভূমির মালিক। অথচ আজ নিজেদের জমিতে ধানের বীজ রোপণ করতে পারছি না। প্রায় ৪০ মণ ধানের বীজ নষ্ট হওয়ার পথে। ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে হাজারো পরিবার আজ নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদে চাষাবাদের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।"
তারা অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে প্রতিপক্ষের একটি মানববন্ধনের পর থেকে তাদের ওপর হুমকি-ধমকি আরও বেড়েছে। অনেকেই ভয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা এবং বাজারে যেতেও সাহস পাচ্ছেন না। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা "সন্ত্রাসের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, অবৈধভাবে জমি বিক্রি করে তরমুজ চাষ করতে দেওয়া যাবে না, আমরা আমাদের জমিতে ধানের বীজ রোপণ করতে চাই" এসব স্লোগান দেন। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, রেকর্ডীয় মালিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈধ মালিকদের শান্তিপূর্ণভাবে জমি ভোগদখল ও কৃষিকাজের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বুধবার বিকালে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটাস নেগেরি পাডাং, ইন্দোনেশিয়া এর সাথে গড়ট ও "উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও সম্ভাবনা" শীর্ষক সেমিনার ভাইস চ্যান্সেলর কার্যালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব দি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স এর তত্ত্বাবধানে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এফেয়ার্স এর পরিচালক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার এর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস - চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ইউনিভার্সিটাস নেগেরি পাডাং ইন্দোনেশিয়া এর ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড ন্যাচারাল সায়ন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ইউকিফলি, এগ্রোইন্ডাস্ট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. রেস্টি ফেবরিয়া।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার এর পরিচালক প্রফেসর ড. খোকন হোসেন। অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রভোস্ট, প্রক্টর, অধ্যাপক, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, ছাত্র-ছাত্রী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর উপাচার্য তার বক্তব্যে বলেন যে, এই এমওইউ এর মাধ্যমে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। আশা করি ভবিষ্যতে এই দুই বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষক শিক্ষার্থী বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় বিশ্ববিদ্যালয় উপকৃত হবে।
ইউনিভার্সিটি নেগেরি পাডাং এর ডিন ড. ইউকিফলি বলেন যে, ভবিষ্যতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ছাত্রছাত্রী বিনিময় প্রোগ্রামের মাধ্যমে গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি নেগেরি পাডাং এর গবেষক রনি জারলিস, শান্তি ডিয়ানাও উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এ তথ্য জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রশাসনিক এলাকায় অবস্থিত আবাসিক ভবন কম্পাউন্ডের প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের দুটি সীমানা দেয়াল আবার ধসে পড়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে আবাসিক এলাকার উত্তর পাশে ছ'আনি খালের মধ্যে এই দুটি দেয়াল ধসে পড়ে। এই ঘটনার কারণে এলাকায় তোলপাড় চলছে। মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে বলছেন যে দুর্নীতির কারণে এমনটি ঘটেছে।
আশপাশের বাসীন্দাদের অভিযোগ রয়েছে যে, সীমানা দেয়াল নির্মাণের জন্য নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই একই এলাকার প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি সীমানা দেয়াল খালের দিকে হেলে পড়ে। এ ছাড়া একই বছরের ৩০ জুন নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগে আরও একটি সীমানা দেয়াল ধসে পড়ে এবং সাথে সাথে তিনটি দেয়াল হেলে গেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্তমানে প্রায় তিন হাজার ফুট দীর্ঘ গাইড ওয়াল ঝুঁকির সম্মুখীন রয়েছে। তিন বছরের মধ্যে ফের সীমানা দেয়াল ধসে পড়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে এবিএম ওয়াটার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন হাজার ফুট দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্দরের কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে নিম্নমানের এবং অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে, বিগত সরকারের সময়ে একটা নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট এখানে সকল ধরনের উন্নয়ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এর সঙ্গে বন্দরের প্রকৌশল বিভাগের একটি চক্রও জড়িত রয়েছে।
পায়রা সমুদ্রবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক), মো. আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি পূরকৌশল বিভাগে কথা বলেছি। পূরকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে দেয়ালের নীচের মাটি সরে গিয়ে এটা ঘটেছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে এটা ঠিকাদার কর্তৃক দ্রুত মেরামত করা হবে।’ তিনি পায়রা বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তফা আশিক আলির সঙ্গে কথা বলে এমন মতামত ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে এবিএম ওয়াটার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনও ধরনের বক্তব্য দিতে নারাজ হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরগুনার তালতলীতে বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সাঁতার ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এফএনএস (মোঃ আব্দুল মোতালিব; তালতলী, বরগুনা) দ্বারা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যা ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম-এ তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবসের অনুষ্ঠানে "যে কেউ পানিতে ডুবে যেতে পারি, সবাই মিলে প্রতিরোধ করি" এই স্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সাঁতার প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ৭টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল। আলোচনা সভা শেষে, পানিতে ডোবা প্রতিরোধ ও সাঁতার শেখার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের আঁকা চিত্রপ্রদর্শনী এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন (জঘখও) এবং প্রিন্সেস শার্লিন অব মোনাকো ফাউন্ডেশন-এর আর্থিক সহযোগিতায়, 'নিরাপদে ভাসা' প্রকল্পের আওতায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রাখা এবং বয়স ৬ বছর হলেই দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে সাঁতার শেখানোর বার্তা দিতেই এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। সিআইপিআরবি-র এ ধরনের উদ্যোগ ও প্রশিক্ষণের ফলে এলাকায় পানিতে পড়ে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আল-মাসুম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সজিব চন্দ্র বিশ্বাস, ইন্টারন্যাশনাল ড্রাউনিং প্রিভেনশন এন্ড রিসার্চ ডিভিশন এর উপ-পরিচালক আবুল বারাকাত, তালতলী নিরাপদ ভাষা প্রকল্পের এরিয়া কো-অডিনেটর রজত জ্যোতি সেন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজারে মৎস্য বিভাগের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল এবং বোডা জাল জব্দ করা হয়।
মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন, ১৯৫০ (সংশোধিত-২০২৫) এর ধারা ৫(১) অনুযায়ী পরিচালিত অভিযানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজার সহযোগিতা ও পরামর্শে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার। অভিযানে অংশগ্রহণ করেন ক্ষেত্র সহকারী বিকাশ কুমার নাগ, অফিস সহকারী শৈলেন ঘরামী এবং উজিরপুর মডেল থানার এসআই মো. ফাহাদসহ পুলিশের সদস্যরা।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মোট ১৯২টি চায়না দুয়ারি জাল, ১ লাখ ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৮৯টি বোডা জাল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব নিষিদ্ধ জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। পরবর্তীতে জব্দকৃত অবৈধ জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হারতা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জালের বেচাকেনা চলছিল। এসব জাল ব্যবহার করে নদ-নদী, খাল-বিল এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে নির্বিচারে মাছ ও মাছের পোনা আহরণ করা হচ্ছিল। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। অভিযান চলাকালে বাজারে মজুদ ও বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ জাল বিক্রি, মজুদ বা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার মন্তব্য করেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ জাল বিক্রি, মজুদ কিংবা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী বা ক্ষমতাধর হোক না কেন, কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা বলেন, “মৎস্য সম্পদ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবৈধ জালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” উল্লেখ্য, উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও খালে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে মৎস্য বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা অবৈধ জালের বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। বিষয়টি নিয়ে জনমত সৃষ্টি হলে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে হারতা বাজারে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ