ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে, নতুন বিনিয়োগে উদ্বেগ


মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে, নতুন বিনিয়োগে উদ্বেগ

মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমে গেলেও আমদানিতে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ১২.২০ শতাংশ। তবে এ সময়ে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি ৩২.৪৭ শতাংশ কমেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগ ও কারখানা সম্প্রসারণের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো না থাকায় নতুন বিনিয়োগের গতি কমে গেছে। উচ্চ সুদহার এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কম থাকার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। কিছু ব্যাংকের তারল্য সংকটের কারণে ঋণপ্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা নতুন কারখানা স্থাপন বা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর খরচও বৃদ্ধি করেছে। বড় প্রকল্পের অভাবে মূলধনি যন্ত্রপাতির চাহিদা কমে গেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা বিদ্যমান কার্যক্রম সচল রাখতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এই কারণে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে দেশে মোট এক হাজার ২৮৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল এক হাজার ১৪৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে ১৪০ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

আরও পড়ুন: আজ সোনার ভরি মূল্য নির্ধারণ করেছে বাজুস

তবে আমদানির এই প্রবৃদ্ধিতে মূলধনি পণ্যের অবদান নেই। বরং মূলধনি পণ্য আমদানি কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এই খাতে আমদানি ছিল ২০০ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কমে ১৬০ কোটি ৫০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি ৭৫ কোটি ১০ লাখ ডলার থেকে কমে ৫০ কোটি ৭০ লাখ ডলারে নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খারাপ। পরিস্থিতি ভালো থাকলে আমদানি বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে যে আমদানি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, সেটি মূলত জ্বালানির কারণে। চলমান সংকটে নতুন করে কেউ এই খাতে বিনিয়োগে যাচ্ছেন না। ফলে মূলধনি যন্ত্র আমদানির নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

শিল্পের কাঁচামালসহ মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি বেড়েছে ১৯.১৩ শতাংশ। এই খাতে আমদানি ৭১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ৮৪৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ। তবে তুলা আমদানি কমেছে ৫.৬১ শতাংশ।

বস্ত্র খাতের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সাবেক সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন আমার দেশকে জানিয়েছেন, গত তিন বছর ধরে দেশে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক। নতুন করে কোনো ধরনের মূলধনি বিনিয়োগ হচ্ছে না বললেই চলে। এর অন্যতম কারণ নির্বাচনের সময়কার রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা। নির্বাচনের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং ব্যাংকিং খাতে অসহযোগিতামূলক মনোভাব ও তারল্য সংকটের কারণে উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পাচ্ছেন না।

আরও পড়ুন: অর্থনীতির বিপদ টের পেতে শুরু করেছেন ক্ষমতাসীনরা

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করলেও এখন পর্যন্ত এ তহবিল থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ বিতরণ হয়নি। মাত্র ৫০০ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে দেশে বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় সমস্যা অর্থায়ন।

আবদুল্লাহ আল মামুন আরো বলেন, গত তিন-চার বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে। এতে বিদ্যমান ব্যবসায়ীদের কার্যকরী মূলধন কমে গেছে। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণের মতো সক্ষমতা অনেক উদ্যোক্তার আর নেই।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৫-২০ দিন আগে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। জ্বালানি সংকট আগে থেকেই ছিল, তবে সম্প্রতি তা প্রকট হওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সংকটের সমাধান কীভাবে হবে, তা নিয়েও তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এজন্য মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানির এই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মাসাদুল ইসলাম বলেছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা সমাধান না হলে নতুন শিল্পে বিনিয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, ইউটিলিটি সুবিধা ছাড়া কোনো শিল্পকারখানা চালানো সম্ভব নয়। সরকার থেকে দুই বছরেও গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না—এমন বাস্তবতা জানিয়ে দেওয়ায় উদ্যোক্তারা এখন নতুন করে মেশিনারি এনে বিপদে পড়তে চাইছেন না।

আরও পড়ুন: পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমাতে ব্যাংক পর্ষদে নতুন ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি করে উদ্যোক্তারা সাধারণত নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন বা কারখানা সম্প্রসারণ করে থাকেন। অর্থাৎ শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়ে। বিনিয়োগ বাড়লে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ার অর্থ হলো বিনিয়োগ থমকে যাওয়া। আর বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে না। ফলে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ঋণ প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি

গত আগস্ট শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৭৫ শতাংশে, যা ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এর ফলে নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে। টানা কয়েক মাস ধরে এই হার এক অঙ্কের ঘরে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে নতুন ঋণ চাহিদা কমে যায়। নতুন শিল্প স্থাপন বা বড় কারখানা সম্প্রসারণ না হলে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি স্বাভাবিকভাবেই সীমিত থাকে।

আরও পড়ুন: অক্টোবরের ২৬ দিনে দেশে এসেছে ২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে ২ নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে ২ নিহত

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে রোববার ভোর ৬টায়, উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর বাগেরহাট গ্রামের পুকুরখুড়ির দোলা ক্যানেল এলাকায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহের দায়িত্ব গ্রহণ করে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোরে সোহেল মিয়া তার বাড়ি থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরি হতে দেখে। তিনি চিৎকার শুরু করলে পাশের মসজিদের ইমাম বিষয়টি বুঝতে পেরে মাইকে ‘চোর, চোর’ বলে ঘোষণা দেন। এরপর ফজরের নামাজ পড়তে আসা মুসল্লি এবং স্থানীয় লোকজন অটোরিকশাসহ দুই ব্যক্তিকে ধাওয়া করেন।

স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে দুই ব্যক্তি অটোরিকশাটি ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তাদের পিছু নিয়ে সোহেল মিয়ার বাড়ি থেকে আনুমানিক আধা কিলোমিটার পশ্চিমে উত্তর পানাপুকুর এলাকার পুকুরখুড়ির দোলা ক্যানেলের মধ্যে আটক করা হয়। পরে সেখানে গণপিটুনির ফলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর গঙ্গাচড়া থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ মৃতদেহের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। তবে নিহত দুই ব্যক্তির নাম, পরিচয় ও ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য সিআইডি ও পিবিআই-এর ক্রাইম সিন টিমকে অবহিত করা হয়েছে।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুর ছবুর জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং তদন্ত করে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৮ লাখ বইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি সংশোধন হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫২ এম


৩৮ লাখ বইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি সংশোধন হচ্ছে

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ৩৮ লাখ বইয়ের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ১৮ লাখ বই স্কুল পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২০ লাখ বইয়ের ছাপার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। বিতরণকৃত বইগুলো ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে নতুন সংশোধিত পৃষ্ঠা যুক্ত করা হবে।

এদিকে, প্রাথমিকের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ব্যবহৃত ৮২টি নৌকার ছবি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এই বছর সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। এসব বইয়ের ছাপার কাজ প্রায় সম্পন্ন। এনসিটিবি জানায়, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে।

পাঠ্যবই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এ ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি নৌকার ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নৌকার ছবি প্রাসঙ্গিক হলেও বিভিন্ন পাঠের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও একাধিক জায়গায় এসব ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ‘উপাত্ত ও তথ্য’ আলোচনায় ‘নলেজ পিরামিড’ বা জ্ঞানের পিরামিডে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে একই ধারণা বোঝাতে ‘বুদ্ধি’ শব্দের সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের বইয়েও ‘উইজডম’ বা প্রজ্ঞা বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক ছিল।

এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দার মন্তব্য করেন, প্রাথমিকের বইয়ে ব্যবহৃত ছবিগুলো বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিলিয়ে শিল্পীরা এঁকেছেন। কনটেন্ট পরিবর্তন না হলে ছবি পরিবর্তন করা কঠিন। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বড় পরিবর্তন আনা হবে।

এনসিটিবি জানিয়েছে, দাঁড়িপাল্লার ছবি থাকা আইসিটি বইয়ের পৃষ্ঠা সংশোধনের জন্য উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো বই ঢাকায় ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা পরিবর্তন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টম ক্রুজের ‘ডিগার’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার কারণ জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫২ এম


টম ক্রুজের ‘ডিগার’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার কারণ জানা গেল

হলিউডের তারকা টম ক্রুজের সিনেমা মানেই দর্শকদের কাছে বড় পর্দায় রোমাঞ্চ, দুর্ধর্ষ স্টান্ট এবং শ্বাসরুদ্ধকর অ্যাকশন। তবে পরিচিত সেই ছকের বাইরে গিয়ে নির্মিত ‘ডিগার’ বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বিপুল বাজেট, তারকানির্ভর প্রচারণা এবং খ্যাতিমান নির্মাতার উপস্থিতি- কোনোটিই সিনেমাটিকে ব্যবসায়িক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়নি। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটি ঘিরে সম্ভাব্য লোকসানের অঙ্ক ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর পেছনে অন্তত পাঁচটি কারণ রয়েছে।

বাজেটের তুলনায় আয় নগণ্য

‘ডিগার’ নির্মাণে আনুমানিক ১৫ থেকে ১৮ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। প্রচারণার জন্য আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সিনেমাটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ২৮ কোটি ডলারে। প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, প্রেক্ষাগৃহের আয়ের মাধ্যমে এই বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে আনতে সিনেমাটিকে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ডলারের ব্যবসা করতে হতো। কিন্তু মুক্তির পর ছবিটি সেই লক্ষ্যের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি। ফলে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা শুরু থেকেই জোরালো হয়ে উঠেছে।

শুরুতেই ধাক্কা বক্স অফিসে

উত্তর আমেরিকায় মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে ‘ডিগার’-এর আয় ছিল মাত্র ৮০ লাখ ডলার। টম ক্রুজের মতো জনপ্রিয় তারকার সিনেমার ক্ষেত্রে এই উদ্বোধনী আয় প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই কম। সাধারণত তাঁর সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ থাকে দুঃসাহসিক স্টান্ট ও অ্যাকশন দৃশ্য। কিন্তু ‘ডিগার’-এর ক্ষেত্রে সেই পরিচিত আকর্ষণ দর্শকদের টানতে যথেষ্ট হয়নি। দুর্বল সূচনা পরবর্তী সপ্তাহগুলোতেও সিনেমাটির ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রচারণায় পরিষ্কার হয়নি গল্পের ধরন

সিনেমাটির বিপণন কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রচারণার মাধ্যমে ছবিটির গল্প, বিষয়বস্তু ও ঘরানার স্বাতন্ত্র্য দর্শকদের কাছে যথেষ্ট স্পষ্ট হয়নি বলে মনে করছেন সমালোচকদের একাংশ। ট্রেলার দেখে সম্ভাব্য দর্শকদের অনেকেই বুঝতে পারেননি, সিনেমাটি ঠিক কী ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে যাচ্ছে। টম ক্রুজের পরিচিত অ্যাকশনধর্মী ছবির সঙ্গে এর পার্থক্যও দর্শকের প্রত্যাশা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে থাকতে পারে। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রচারণা চালিয়েও প্রত্যাশিত দর্শকসমাগম নিশ্চিত করা যায়নি।

পরিচিত অ্যাকশন তারকার ব্যতিক্রমী চরিত্র

‘মিশন: ইমপসিবল’ সিরিজসহ বিভিন্ন অ্যাকশননির্ভর সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে টম ক্রুজের একটি নির্দিষ্ট দর্শকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। তবে ‘ডিগার’-এ তাঁকে দেখা গেছে ভিন্নধর্মী চরিত্রে। আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতু পরিচালিত সিনেমাটিতে তিনি অভিনয় করেছেন ডিগার রকওয়েল নামের এক খামখেয়ালি তেল ব্যবসায়ীর ভূমিকায়। চরিত্রটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁর চেহারাতেও আনা হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

এই ব্যতিক্রমী রূপ দর্শকের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও গাঢ় আবহের এই সিনেমা টম ক্রুজের কাছ থেকে প্রত্যাশিত অ্যাকশন বিনোদনের সঙ্গে মেলেনি অনেক দর্শকের কাছে। পরিচিত ঘরানা থেকে সরে আসার এই সিদ্ধান্ত বক্স অফিসে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে সিনেমাটির ব্যর্থতার আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া, কমেছে দর্শকের আগ্রহ

সিনেমাটি নিয়ে সমালোচকদের মতামত যেমন বিভক্ত, দর্শকদের প্রতিক্রিয়াতেও রয়েছে ভিন্নতা। সিনেমাস্কোরে ‘ডিগার’ পেয়েছে ‘সি প্লাস’ গ্রেড। অন্যদিকে, আইএমডিবিতে এর রেটিং ৭.৫। অর্থাৎ ছবিটি একেবারে দর্শক-অপছন্দের তালিকায় পড়ে না। তবে ইতিবাচক মূল্যায়ন বক্স অফিসের সাফল্যে রূপ নেয়নি।

মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেই উত্তর আমেরিকায় টিকিট বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। বড় বাজেটের সিনেমার ক্ষেত্রে দর্শকের মুখে মুখে ইতিবাচক প্রচার আয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ‘ডিগার’ সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। একশ্রেণির দর্শক সিনেমাটিকে পছন্দ করলেও বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতে পারেনি ছবিটি।

লোকসানের অঙ্ক কত বড় হতে পারে

বক্স অফিসের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ‘ডিগার’-এর বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। নির্মাণ ও প্রচারণার সম্মিলিত ব্যয়ের তুলনায় এই আয় অত্যন্ত কম। ভ্যারাইটি-র এক প্রতিবেদনে সিনেমাটির সম্ভাব্য লোকসান ১৫ কোটি থেকে ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ এই অঙ্ক প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি বা তারও বেশি হতে পারে, বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে।

তবে এই হিসাবকে চূড়ান্ত আর্থিক ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রেক্ষাগৃহের আয়ের বাইরে বিভিন্ন স্বত্ব বিক্রি, স্ট্রিমিং চুক্তি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক উৎস থেকে পাওয়া অর্থ হিসাবের আওতায় এলে লোকসানের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে ‘ডিগার’-এর বক্স অফিস ব্যর্থতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বড় বাজেট কিংবা জনপ্রিয় তারকার উপস্থিতিই কোনো সিনেমার সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। দর্শকের প্রত্যাশা, গল্পের উপস্থাপন, বিপণন কৌশল এবং মুক্তির পর ইতিবাচক প্রচার- সবকিছুর সমন্বয়েই নির্ধারিত হয় একটি সিনেমার বাণিজ্যিক পরিণতি।

তথ্যসূত্র: আইএমডিবি, ভ্যারাইটি ও বিবিসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লঙ্কান সিরিজে বাদ পড়লেন শান মাসুদ, দলে ফিরলেন সালমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ এম


লঙ্কান সিরিজে বাদ পড়লেন শান মাসুদ, দলে ফিরলেন সালমান

ঘরোয়া ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে পুরস্কার অর্জন করেছেন সালমান আলি আঘা। আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার দলে ফিরেছেন। তবে সাবেক অধিনায়ক শান মাসুদকে দলে রাখা হয়নি।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। দলে অভিজ্ঞ স্পিনার সাজিদ খান ও নোমান আলি নেই। ঘরের মাঠে স্পিন-সহায়ক উইকেট তৈরির কৌশল গ্রহণ করার পর এই প্রথম তাদের বাদ দিয়ে টেস্ট দল সাজানো হয়েছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে।

ইংল্যান্ড সফরে ব্যর্থতার কারণে বাদ পড়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক ও আবদুল্লাহ শাফিক। অন্যদিকে, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের কারণে সালমান দলে ফিরেছেন। প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে তিনি অপরাজিত ৩০০ রানের ইনিংস খেলার পাশাপাশি আরেকটি সেঞ্চুরি করেছেন। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন অঙ্কের ইনিংস খেলেছেন এই ক্রিকেটার।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিডস টেস্টে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া আলি উসমানও দলে ফিরেছেন। এছাড়া, বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস, তার ছোট ভাই সামির মিনহাস, মোহাম্মদ তাহা ও মোহাম্মদ সুলেমানও জায়গা পেয়েছেন।

বর্তমানে দলে রাখা হয়েছে দুই পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ও রাজাউল্লাহকে। তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে আরও দুই পেসার দলে যুক্ত করা হবে। আগামী ৪ নভেম্বর শুরু হবে প্রস্তুতি ম্যাচ। রাওয়ালপিন্ডিতে ৯ নভেম্বর প্রথম টেস্টে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে। লাহোরে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ১৭ নভেম্বর।

পাকিস্তান টেস্ট দল:

বাবর আজম (অধিনায়ক), আবদুল্লাহ ফাজাল, আলি উসমান, আরাফাত মিনহাস, আজান আওয়াইস, মোহাম্মাদ আব্বাস, মোহাম্মাদ গাজী ঘোরি, মোহাম্মাদ সুলেমান, মোহাম্মাদ তাহা, রাজাউল্লাহ, সাদ বেগ, সালমান আলি আঘা, সামির মিনহাস ও সাউদ শাকিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%