০১:৩২ পি.এম
রেজা পাহলভি, ইরানের শেষ শাহের পুত্র, আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর দীর্ঘ সাড়ে চার দশক নির্বাসনে থেকে ফিরতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও আন্তর্জাতিক মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে ইরানের পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনীহা, বিরোধীদের মধ্যে বিভাজন এবং অর্থদাতাদের অসন্তোষের কারণে তার প্রচেষ্টা এক ভীষণ ধাক্কা খায়।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিয়ে রেজা পাহলভি বিশ্ব মূলধারায় নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালান। তিনি একটি ঘোষণা দেন, যেখানে তিনি বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটলে তিনি ইরানের ক্ষমতা হস্তান্তরের অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হতে প্রস্তুত। তিনি তার এই ভূমিকাকে স্থায়ী শাসক হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্রে পৌঁছানোর একটি সেতু হিসেবে উল্লেখ করেন। এই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য তিনি পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীতে সফর করেন এবং প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি জাতীয় প্রচারণার জন্য তহবিলও সংগ্রহ করেন। মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক সম্মেলনে দেয়া তার বক্তব্য পাহলভিপন্থী ও ইরানি-আমেরিকানদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল।
তবে, এই রাজনৈতিক উদ্যম খুব বেশি দিন স্থায়ী হতে পারেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত রেজা পাহলভিকে ইরানের পরবর্তী শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অভিপ্রায় দেখা যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, পাহলভি ব্যক্তিগতভাবে ভালো মানুষ হলেও তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো শর্তও রাখা হয়নি এবং মার্কিন শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে রেজা পাহলভিকে ক্ষমতায় বসানো তাদের লক্ষ্যের অংশ নয়।
আরও পড়ুন: সাইবার সুরক্ষা আইন সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে: ড. ইফতেখারুজ্জামান
যুক্তরাষ্ট্রের এই দূরত্বের পাশাপাশি বিরোধীদের নিজস্ব বিভাজনও রেজা পাহলভির জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে। রাজতন্ত্রকামী, প্রজাতন্ত্রকামী, ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলনকারীরা এবং নানা জাতিগত গোষ্ঠী নিয়ে গঠিত বিরোধী শিবিরগুলো ইসলামিক শাসনের অবসান চাইলেও পরবর্তী ইরানের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বারবার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পাহলভি বিরোধী জোটগুলোকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের কিছু আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও কৌশল নিয়ে প্রধান অর্থদাতাদের মধ্যেও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
অবশ্য, রেজা পাহলভি দাবি করছেন, তিনি ইরানের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন এবং দেশটির বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ধ্বংসের প্রান্তে রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সমর্থনের অভাব এবং নিজস্ব শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কাটিয়ে তিনি কতটা এগোতে পারবেন, তাই নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর সংশয় রয়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন