বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:৫৬ পি.এম
চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ বা ১.৪৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১২ কোটি ৪৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে যা এসেছিল ১০৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৪৩৫ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে যা এসেছিল ৩৫৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।
এর আগে গত জুলাই মাসে দেশে এসেছে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩২ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ২০৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এদিকে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩ হাজার ৫৫৮ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার বা ৩৫.৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৫ আগস্ট উপলক্ষে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
এ উপলক্ষে সংবেদনশীল স্থানগুলি চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে তারা পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলে আসছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব সদা তৎপর রয়েছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কাজ করছে যাতে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ গড়ে তোলা संभव হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন, উগ্রবাদী গোষ্ঠী বা দুষ্কৃতকারী যেন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে প্রত্যেক ব্যাটালিয়ন নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
নিজ নিজ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বশীল এলাকার সংবেদনশীল স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, অন্যান্য নিষিদ্ধ সংগঠন এবং রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে এসব সংগঠনের অপতৎপরতা ও গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
র্যাব নিজস্ব নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দায়িত্বাধীন এলাকার স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার ও আগাম তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকা ভিত্তিক কনট্যাক্ট/ইনফরমার অথবা সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। দায়িত্বশীল এলাকার অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে গমনাগমনের রুটগুলোতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দল নিয়োগের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দায়িত্বশীল এলাকায় সন্দেহভাজন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধের জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থল ও আশেপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির নেতাকর্মী, দুষ্কৃতকারী বা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ যাতে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ সংগঠনের মাধ্যমে নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে সাইবার পেট্রোলিং আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোড করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।
কোনো স্থানে বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক সদৃশ দ্রব্যসামগ্রী পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
র্যাব ফোর্সেস জানায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ চিহ্নিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যাব বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে, কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে র্যাব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘির পাড় জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা নিখোঁজ হয়ে গেছে।
এ ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ ইনচার্জ) মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫) নামে দুজনকে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গায়েব হওয়া অর্থ বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নূর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে আর কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা বের করার চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে থাকা কামরুল হোসেন নগদ অর্থ ও ভল্টে সংরক্ষিত অর্থের হিসাব মেলাতে গিয়ে গরমিল দেখতে পান। পরে ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে কামরুল হোসেন সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।
ঘটনার পর ওই রাতেই কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জাফরুল্লাহ তানভীর ব্যাংকের কর্মকর্তা নন। তিনি একজন ব্যবসায়ী।
গ্রেফতার তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ বলেন, ‘আমার ছেলে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা গ্রাহক নন। তিনি আগে থেকেই গরুর খামার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার কাছে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো তথ্য বা রেকর্ড ব্যাংক দেখাতে পারেনি।’ তিনি দাবি করেন, ব্যাংক কর্মকর্তা কামরুল হোসেন লাভের চুক্তিতে তানভীরকে বিভিন্ন সময় টাকা দিতেন। পরে লাভসহ মূল টাকা ফেরত নিতেন।
এজাহারে কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভল্টে টাকা জমা দেওয়ার সময় ১ হাজার টাকার নোটের বড় বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। ফলে বাইরে থেকে দেখে ভল্টে পুরো টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল কম।
অভিযোগ রয়েছে, এভাবে সরানো অর্থ বিশেষ শর্তে জাফরুল্লাহ তানভীরের কাছে বিনিয়োগ করা হয়। ওই অর্থ দিয়ে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে একটি গরুর খামারের কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে ওই খামারে বিভিন্ন জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বাসস’কে বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য ও রেকর্ড এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মোতাহের হোসেন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট চলছে। অডিট শেষ হলে অর্থের ঘাটতি ও ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় রিমান্ড শেষে গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এ দিন রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান তাকে কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন তার জামিন, কারাগারে ডিভিশন ও চিকিৎসা চেয়ে পৃথক তিনটি আবেদন করেন। তবে মূল নথি অনুপস্থিত থাকায় জামিন শুনানি হয়নি।
এ কারণে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন। একইসঙ্গে কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন ও চিকিৎসার নির্দেশনাও দেন।
এর আগে ৫ আগস্ট রাতে গুলশানের একটি বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে। পরের দিন ৬ আগস্ট তার ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়।
ওই দিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ১০ আগস্ট শুনানি শেষে আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুন সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় নিবাস মজুমদারসহ নিষিদ্ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী মিছিল বের করেন। মিছিলে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি সহ রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালান। এ ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এবার একটি অভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো গড়ে তুলতে যাচ্ছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক।
গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ওই প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে তিন দেশ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।
এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পেও সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনা রয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময় এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রে তিন দেশ কাজ করতে পারে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার জন্য নতুন কিছু প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা হবে। এর ফলে রাজনৈতিক পর্যায়ে নয়, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়েও নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়বে।
বিশেষ করে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানদের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য ও মূল্যায়ন বিনিময়সহ সম্ভাব্য নিরাপত্তা সংকট মোকাবেলায় পারস্পরিক সমন্বয়ের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তির আওতায় যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব মহড়ার মাধ্যমে তিন দেশের সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক সক্ষমতা, যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
মক্কা চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানো। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন দেশ ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভাগাভাগি এবং যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে।
প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্ষেত্রে তুরস্কের দ্রুত বিকাশমান শিল্প, পাকিস্তানের সামরিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সৌদি আরবের বড় প্রতিরক্ষা বাজেট পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি বিনিময় বাস্তবায়িত হলে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সামরিক যান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে যৌথ উৎপাদন বা প্রযুক্তি বিনিময় হবে, সে বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন নয়। তিন দেশেরই মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে আলাদা প্রভাব রয়েছে। তবে নতুন চুক্তির মাধ্যমে এই সহযোগিতাকে আনুষ্ঠানিক ও সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার সময় তিন দেশের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগটি তাৎপর্যপূর্ণ।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অন্যদিকে, তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং আঞ্চলিক সামরিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। পাকিস্তানের রয়েছে বড় ও অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনী এবং পারমাণবিক সক্ষমতা। ফলে তিন দেশের মধ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে উঠলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব ও পাকিস্তান তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেয়। পরে তুরস্কও এই কাঠামোর অংশ হয়।
চুক্তির মূল লক্ষ্য তিন দেশের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা। এখন রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে নতুন কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের মাধ্যমে চুক্তিটিকে বাস্তব সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময় এবং সম্ভাব্য যৌথ উৎপাদনের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বে রূপ নিতে পারে।
তবে এই জোট ভবিষ্যতে কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক জোট হিসেবে কাজ করবে কি না, নাকি মূলত তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর কাঠামো হিসেবেই থাকবে- তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তিন দেশের নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো কতটা কার্যকর হয় এবং এর আওতায় কী ধরনের যৌথ সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ