প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৫ আগস্ট উপলক্ষে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
এ উপলক্ষে সংবেদনশীল স্থানগুলি চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে তারা পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলে আসছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব সদা তৎপর রয়েছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কাজ করছে যাতে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ গড়ে তোলা संभव হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন, উগ্রবাদী গোষ্ঠী বা দুষ্কৃতকারী যেন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে প্রত্যেক ব্যাটালিয়ন নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
নিজ নিজ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বশীল এলাকার সংবেদনশীল স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, অন্যান্য নিষিদ্ধ সংগঠন এবং রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে এসব সংগঠনের অপতৎপরতা ও গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
র্যাব নিজস্ব নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দায়িত্বাধীন এলাকার স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার ও আগাম তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকা ভিত্তিক কনট্যাক্ট/ইনফরমার অথবা সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। দায়িত্বশীল এলাকার অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে গমনাগমনের রুটগুলোতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দল নিয়োগের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দায়িত্বশীল এলাকায় সন্দেহভাজন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধের জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থল ও আশেপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির নেতাকর্মী, দুষ্কৃতকারী বা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ যাতে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ সংগঠনের মাধ্যমে নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে সাইবার পেট্রোলিং আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোড করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।
কোনো স্থানে বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক সদৃশ দ্রব্যসামগ্রী পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
র্যাব ফোর্সেস জানায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ চিহ্নিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যাব বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে, কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে র্যাব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন