০৭:৫০ এম
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরের মধ্যে জেলেদের জালে বিরল প্রজাতির দুটি সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়েছে যাকে ‘লায়নফিশ’ বলা হচ্ছে। এই মাছ দুটি লাল, সাদা ও মেরুন রঙের আড়াআড়ি ডোরাকাটা শরীর, বিস্তৃত লম্বা পাখনা এবং বিষাক্ত কাঁটায় ঘেরা। এই মাছ দেখা যায় বেশ দৃষ্টিনন্দন হলেও তারা অত্যন্ত বিপজ্জনক। স্থানীয় জেলেদের মধ্যে এটি ‘এরোপ্লেন মাছ’ নামেও পরিচিত।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে মাছ দুটি আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘মায়ের দোয়া ফিস’ আড়তে নিয়ে আসেন জেলেরা। বিরল এই মাছ দেখতে সেখানে অনেক উৎসুক মানুষের ভিড় তৈরি হয়।
জানা গেছে, শনিবার গভীর রাতে উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে ‘এফবি জাবের’ নামের একটি ফিশিং ট্রলার মাছ ধরছিল। জাল তোলার সময় বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের সঙ্গে প্রায় ৭৫০ গ্রাম ওজনের দুটি লায়নফিশ ধরা পড়ে।
আরও পড়ুন: জেলা-উপজেলায় নেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ, প্রায় এক কোটি মানুষের ভরসা শেবাচিম
ট্রলারের মাঝি মো. আসাদ বলেন, ‘গভীর রাতে জাল তুলতে গিয়ে ভিন্ন প্রজাতির মাছের সঙ্গে এই দুটি মাছ উঠে আসে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি। দেখতে অনেকটা এরোপ্লেনের মতো।’
‘মায়ের দোয়া ফিস’-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সোহাগ জানান, ‘এ ধরনের মাছ বাংলাদেশের উপকূলে খুব একটা দেখা যায় না। মাছ দুটি পাঁচ হাজার টাকা কেজি দরে মোট তিন হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেছি।’
মাছের ক্রেতা ছগির আকন বলেন, ‘মাছ দুটি দেখতে খুবই সুন্দর ও আকর্ষণীয়। তাই সংরক্ষণ করে রাখার জন্য কিনেছি।’
‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের (ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে পরিচালিত) গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানাচ্ছেন, লায়নফিশ মূলত ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগর, লোহিত সাগর এবং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বিস্তৃত। সাধারণত প্রবালপ্রাচীর (কোরাল রিফ) সংলগ্ন এলাকায় এদের বিচরণ বেশি দেখা যায়।
আরও পড়ুন: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির একাধিক অভিযোগ
তিনি বলেন, ‘মাছটির পিঠে ১৮টি বিষাক্ত কাঁটা রয়েছে। এসব কাঁটার খোঁচা লাগলে তীব্র ব্যথা, ফোলাভাব, বমি, মাথা ঘোরা, এমনকি শ্বাসকষ্টও হতে পারে। তাই এ মাছ ধরার বা ধরার পর স্পর্শ করার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।’
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘আমাদের উপকূলে এ মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। তবে বিষাক্ত কাঁটা ও বিষগ্রন্থি সতর্কতার সঙ্গে অপসারণ করলে এর মাংস খাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে এটি একটি ‘ইনভেসিভ স্পিসিজ’ হিসেবে ব্যাপকভাবে শিকার ও খাওয়া হয়। এর মাংস সাদা, কাঁটা কম এবং স্বাদেও বেশ ভালো।
এছাড়া বাহারি গড়নের কারণে অ্যাকুরিয়াম ব্যবসায়ও এর চাহিদা রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যদিও মাছটি দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়, তবে সমুদ্রে এটি ছোট মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী শিকার করে। ফলে স্থানীয় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারী ও শিশুদের ধর্ষণ-হত্যার হুমকি, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে উদ্বেগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন