মোঃ শরীফ উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১২ এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নারী ও শিশুদের ধর্ষণ এবং হত্যার ভয়াবহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন সচেতন মহল।
ভাইরাল ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ নারী—এমনকি কবরে থাকা নারীদের নিয়েও তিনি ভয়াবহ অপরাধের কথা বলছেন। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমার জীবনে কোনো পাপ করিনি, তবে এই পাপগুলো করে দেখাবো।”
ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্যের ভাষা ও ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে নারীর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হুমকি হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের বক্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ভিডিওটির সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় এবং বক্তব্যের পেছনে কোনো অপরাধমূলক পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানার জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। ভিডিওটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর কার্যালয়ের ভেতরে কথা-কাটাকাটির জেরে এক কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপাচার্যের দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। এতে বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রফিক ইসলাম আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই শিক্ষকের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চিঠি আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে ওই আলোচনায় অংশ নিয়ে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কর্মকর্তা রফিক ইসলাম। এ সময় জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তা ও ফোরামের সহসভাপতি ড. জিয়াউল হক জুনিয়রের বিরুদ্ধে রফিক ইসলামকে ঘুষি মারার অভিযোগ ওঠে।
পরে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি ড. রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে করিডরে থাকা ফুলের টব দিয়ে তাঁকে আঘাত করার অভিযোগ করেন রফিক। এ ছাড়া শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মামদুদুর রহমান, কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম এবং লাবুসহ কয়েকজন মিলে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আহত কর্মকর্তা মো. রফিক ইসলাম বলেন, “মজনু স্যার ও ইউসুফ স্যারের বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় চিঠি পাঠানো নিয়ে কথা হচ্ছিল। তখন আমি বলি, এসব চিঠি কারা পাঠায়, এর একটা বিহিত করা দরকার, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে। মজনু স্যার ইউসুফ স্যারের বিরুদ্ধে চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে জীবন স্যার তাঁকে সহায়তা করেছেন—এমন বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আলোচনার একপর্যায়ে তারেক বলেন, আপনি সিনিয়র-জুনিয়র বোঝেন না। সিনিয়র সিনিয়রের জায়গায় থাকবে, জুনিয়র জুনিয়রের জায়গায়। এরপর জিয়া আমাকে মারতে এগিয়ে আসেন এবং প্রথমে ঘুষি মারেন। পরে রোকনসহ কয়েকজন একসঙ্গে মারধর করেন। জিয়া, তারেক, মামদুদ, রোকন ও লাবু আমাকে মারধর করেছেন।”
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা বলেন, দুই শিক্ষকের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় কর্মকর্তা রফিক শিক্ষকদের কথার মাঝখানে কথা বলায় তাঁকে কথা বলতে নিষেধ করা হয়। পরে তিনি তাঁদের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে আসেন। তখন তাঁরা তাঁকে বাধা দেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা তদন্তের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাঠালিয়ায় তদন্তাধীন ঘটনায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উদ্বেগ, ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ১১৩ নম্বর পশ্চিম চেঁচরী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্রীদের যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদার বিদ্যালয়ের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীর সাথে বিভিন্ন অজুহাতে অসদাচরণ ও যৌন হয়রানি করে আসছেন। এর আগে ১ থেকে ২ মাস পূর্বে 'কুলসুম' নামের এক ছাত্রীর সাথেও একই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী একই অভিযোগ নিয়ে সামনে আসে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে তার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, স্থানীয় সালিশদারদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে এবং জরিমানার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেই টাকা অন্য এক শিক্ষকের কাছে জমা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনা সম্পর্কে কাঁঠালিয়া উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কিং ফয়সাল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ.কে.এম জামান শুরুতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানালেও, পরবর্তী সময়ে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুর পাল্টে বলেন, "আমি কিছু জানি না, আপনাদের কাছেই প্রথম জানতে পারলাম।"
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার মুঠোফোনে জানান, "এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষক সমাজের মাঝে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা অফিসে বিতর্কিতরা বহাল তবিয়তে থাকায় এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার মূল দায়িত্ব শিক্ষকদের কাঁধে, সেখানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল অবিলম্বে শিক্ষা অফিস থেকে বিতর্কিতদের অপসারণ এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়া কাঁঠালিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের মাসের পর মাস মৌখিক ছুটি দেওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়মে শিক্ষা বিভাগ জর্জরিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এমন নির্যাতন ও শিক্ষকদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ দেখে আজ প্রশ্ন জাগে—আর কত ফুল এভাবে ঝরে পড়বে? কবির ভাষায় বলতে হয়—“এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।” কিন্তু সেই জন্মভূমির স্কুলেই যদি শিশুরা নিরাপদ না থাকে, তবে এ পাপাচার কার দায়িত্বে ছায়া ফেলবে?
আজ কেন এই রহস্যজনক নীরবতা? আজ কোথায় মানবাধিকার? আজ কোথায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)? আজ কোথায় নির্যাতিত ছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবাধিকার সংগঠনগুলো? আজ কোথায় নারী অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকা বিভিন্ন সংগঠন? কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঠিক বিচার পেতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দ্রূত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী
এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, "লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় একটি গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজের কারণে আগুনে চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় রিয়াজ ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২ এর ৪১টি সিলিন্ডারে আগুনের ঘটনা ঘটে।
দগ্ধদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সী আব্দুল্লাহর ২০ ভাগ, ১৯ বছর বয়সী আহাদের ৫৫ ভাগ, ২৬ বছর বয়সী আশরাফুলের ১৫ ভাগ এবং ২৫ বছর বয়সী নাঈমের চার ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রাত পৌনে ৯টার দিকে ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২ এর ৪১টি সিলিন্ডারে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার লিকেজের কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগুনের ঘটনায় চারজন দগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ও আহাদ এমএইচডিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং নাঈম জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে আছেন। আহাদ শরীরের ৫৫ ভাগ পোড়া নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সংলগ্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঝটিকা মিছিল করেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোরের দিকে এই মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
এটি জানা গেছে যে, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদের নেতৃত্বে এই ঝটিকা মিছিলটি বের করা হয়। মিছিল চলাকালীন নেতাকর্মীরা 'জয় বাংলা' এবং 'শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে' ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
আকস্মিকভাবে অনুষ্ঠিত এই মিছিল ও স্লোগানের কারণে কুর্মিটোলা হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং সড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। তবে, এই কর্মসূচি খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ