ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

গাজীপুরে শ্রমিকদের মারধরে মৃত্যু, তৌফিকের স্ত্রী ও ১২ মাসের সন্তান বিপাকে


গাজীপুরে শ্রমিকদের মারধরে মৃত্যু, তৌফিকের স্ত্রী ও ১২ মাসের সন্তান বিপাকে

বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তৌফিক হাসান। পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে তিনি পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। কিন্তু গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের সময় দুই কারখানার সামনে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে শ্রমিকদের মারধরের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

গাজীপুরে গত কয়েক দিন ধরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চলছিল পোশাক শ্রমিকদের। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে হঠাৎ করে বন্ধ ঘোষণা করা হয় তৌফিকের কর্মস্থল লায়লা স্টাইল গার্মেন্টস। এরপর তিনি দুই সহকর্মীকে নিয়ে বাসার পথে রওনা হন।

জানা গেছে, প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নোমান টেরি টাওয়াল মিলস লিমিটেড ও তালহা ফেব্রিক্স নামে একই মালিকানাধীন দুটি কারখানার সামনে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, বাইরে থেকে লোকজন এনে কারখানা দুটি পাহারা দিয়ে চালু রাখা হয়েছিল। কারখানার সামনে পাহারার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ ঘটে। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তৌফিক ও তার এক সহকর্মী মোবাইল ফোনে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

আরও পড়ুন: সকল ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডেপুটি স্পিকার

স্বজনদের অভিযোগ, একপর্যায়ে তৌফিককে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে তার মৃত্যু ঘটে।

তৌফিক স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পোশাক কারখানায় কাজ করছিলেন। তার মৃত্যুর শোকে স্তব্ধ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দারা।

নিহতের বড় ভাই জানান, সংঘর্ষের সময় কয়েকজনকে দৌড়ে সরে যেতে দেখে তৌফিকও একপাশে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় দুই যুবক মোবাইল ফোন হাতে দৌড়ে যাওয়ায় হামলাকারীরা হয়তো তৌফিককেও ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মনে করেন। তিনি কোনোভাবেই ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও তাকে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

স্বজনরা জানান, পেছন দিক থেকে মিছিল আসতে দেখে দুজন দৌড়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তৌফিকও দৌড়াতে গিয়ে পড়ে যান। এরপরই সেখানে থাকা লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। হাসপাতালে যাওয়ার পর নোমান টেরি টাওয়াল মিলস লিমিটেডের কর্মীদের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, স্থানীয় কিছু যুবককে ভাড়া করে কারখানার সামনে রাখা হয়েছিল। তারাই তৌফিককে মারধর করেন।

আরও পড়ুন: সাইবার সিকিউরিটি ও তথ্য সুরক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

এদিকে, ভূমিহীন পরিবারটির মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই নেই। ১২ মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তৌফিকের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা দিশেহারা। নিহতের স্ত্রী সেতু মনি বলেন, ‘আমার একটা এতিম বাবু। ওকে নিয়ে আমি কোথায় যাব? আমাদের কোনো বাড়িঘর নেই। আমি কোথায় গিয়ে থাকব, কীভাবে চলব?’

প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। তাদের নিজস্ব কোনো জায়গাজমি নেই। তৌফিকের পরিবার যাতে চলতে পারে, সে জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এদিকে নিহত তৌফিকের স্ত্রীকে নগদ এক লাখ টাকা দিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রীর মাধ্যমে সহযোগিতা করা হয়েছে। এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পরিবারের যা কিছু প্রয়োজন, প্রাথমিকভাবে আমরা সহযোগিতা করেছি।’

বুধবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয় তৌফিককে।

আরও পড়ুন: আহ্বান সরকারের সহযোগিতায় ঘরে ঘরে সোলার প্যানেল স্থাপন করুন : বিদ্যুৎ মন্ত্রীর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন সিআরসিসি-এর মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষে সংস্থাটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনের পক্ষে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এ সময় ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং সিআরসিসি চেয়ারম্যান দাই হেগেন উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো, পরিবহন, লজিস্টিকস, শিল্প, জ্বালানি, পরিবেশ ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এসময়, বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলা-উপজেলায় নেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ, প্রায় এক কোটি মানুষের ভরসা শেবাচিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


জেলা-উপজেলায় নেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ, প্রায় এক কোটি মানুষের ভরসা শেবাচিম

বরিশাল বিভাগের প্রায় এক কোটি মানুষের চোখের চিকিৎসার জন্য প্রধান সরকারি ভরসা হিসেবে কাজ করছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)। প্রতিবছর এই বিভাগে নতুন করে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ছানি রোগে আক্রান্ত হলেও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত চক্ষু বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে। এই কারণে রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিভাগীয় শহরে যেতে হচ্ছে, যা যাতায়াত ব্যয়, ভোগান্তি এবং চিকিৎসার জন্য অপেক্ষার সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া বিভাগের অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে রোগীরা এখানে আসছেন। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক নিম্ন আয়ের রোগী দ্রুত চিকিৎসা না পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে চিকিৎসার ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৭০ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর হাওলাদার জানান, তিনি কয়েক দিন ধরে চোখে ঝাপসা দেখছিলেন। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর চোখে ছানি পড়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ বেশি হওয়ায় তিনি কম ব্যয়ে চিকিৎসা নিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে এসেছেন।

চক্ষু বিভাগে একজন রেজিস্ট্রার, একজন সহকারী রেজিস্ট্রার এবং চারজন আইএমওসহ মোট ছয়জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন—একজন সহকারী রেজিস্ট্রার এবং একজন আইএমও। একজন রেজিস্ট্রার ও তিনজন আইএমওর পদ শূন্য রয়েছে।

রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি পর্যায়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা রোগীদের যাতায়াতের খরচও বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চক্ষু বিশেষজ্ঞ থাকলে স্থানীয়ভাবে কম খরচে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হতো। পটুয়াখালী থেকে আসা এক যুবকও একই সংকটের কথা জানিয়েছেন।

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সাব্বির আহমেদ বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট এবং দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে তিনি বাধ্য হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। সেখানে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া গেলেও খরচ অনেক বেশি।

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. ডিবি পাল মন্তব্য করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের একটি বড় অংশ বেসরকারি হাসপাতালে ঝুঁকছেন। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে প্রতিবছর অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নতুন করে ছানি রোগে আক্রান্ত হন। অথচ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া বিভাগের অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই। ফলে বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসার চাপ একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ছানি রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সেবার পরিধি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে বরিশাল বিভাগকে ২০৩০ সালের মধ্যে ছানিমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ কে এম বদরুল হক জানান, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রান্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

চিকিৎসক সংকট কাটাতে শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার। তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে একাধিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ পদায়ন করা গেলে স্থানীয়ভাবে মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন। এতে বরিশাল শহরে রোগীদের আসার প্রবণতাও কমবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে এআইনির্ভর সাইবার হামলার ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪২ এম


ভারতের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে এআইনির্ভর সাইবার হামলার ঝুঁকি

ভারতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সাইবার হামলা চালাচ্ছে একটি হ্যাকারগোষ্ঠী। ভারতের কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (সার্ট-ইন) এ ধরনের হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ক্র্যাফটি ফ্যালকন’ নামে পরিচিত হ্যাকার গোষ্ঠীটি ভারতের ব্যাংক, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফসি), ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান, ফিনটেক কোম্পানি, পেমেন্ট সেবাদাতা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা দূর না করা হলে একই প্রতিষ্ঠানে বারবার হামলার ঝুঁকি বিদ্যমান বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যাকাররা এআই-চালিত বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশনের দুর্বলতা চিহ্নিত করছে। এ কাজে আরটেক্স, পেন্টএজিআই, কেইর্ন ও সাইবারস্ট্রাইকএআইয়ের মতো টুল ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। একইসাথে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) বিভিন্ন ক্লাউড সেবাও হামলার উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো হচ্ছে।

হামলার একটি কৌশল হিসেবে প্রথমে অল্প অঙ্কের অর্থ লেনদেন করে আর্থিক ব্যবস্থার দুর্বলতা পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে হ্যাকাররা মাত্র ১ রুপির লেনদেনের মাধ্যমে পরীক্ষা চালায়। এরপর তারা সুযোগ বুঝে বড় অঙ্কের অননুমোদিত লেনদেনের চেষ্টা করতে পারে।

এছাড়া মার্চেন্ট সেটেলমেন্ট এপিআই, ডিজিটাল ওয়ালেটের নিরাপত্তা চাবি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কও তাদের লক্ষ্য হতে পারে। বিশেষ করে পরীক্ষামূলক পরিবেশ থেকে মূল কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থায় প্রবেশের ক্ষেত্রে একই পরিচয়পত্র, টোকেন বা নেটওয়ার্ক ব্যবহারের দুর্বলতা কাজে লাগানোর ঝুঁকি রয়েছে।

সার্ট-ইন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, অল্প অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত এবং নতুন সুবিধাভোগীর কাছে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে এআই টুল ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ব্যবহারের ওপর নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের জন্য এই সতর্কবার্তার গুরুত্ব হলো, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে আগে থেকেই প্রবেশ করে থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনাও মাথায় রেখে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতি আজ উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ এম


রাষ্ট্রপতি আজ উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট

আজ ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সম্ভাবনা, ব্যবহার ও ব্যবসায়িক প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে এ সামিটের আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সামিটের প্রস্তুতি ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি উল্লেখ করেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। এই বাস্তবতার আলোকে সামিটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’ বলে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের, ব্যবসার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সামিটে তিনটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম অধিবেশনটি দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে এআই প্রযুক্তির অগ্রগতি, নীতিমালা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা। একই সময়ে হল অব ফেমে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় অধিবেশন, যেখানে একাডেমিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে অংশীদারত্ব জোরদার এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। বিকেল ৩টায় তৃতীয় অধিবেশনে ‘ডিজিটাল সহকর্মী’ হিসেবে এআই এজেন্টের ভূমিকা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হবে।

সামিটে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবক ও স্টার্টআপের অংশগ্রহণে ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে। দেড় শতাধিক স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রকল্প তুলে ধরবে। এছাড়া ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কলেজের শিক্ষার্থীদের তৈরি এআইভিত্তিক প্রকল্প ও নমুনা প্রদর্শনের জন্য আলাদা স্টল থাকবে। বিদেশি প্রদর্শক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এবং পাকিস্তানের চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।

আয়োজকদের হিসাব অনুযায়ী, সামিটে প্রায় ছয় হাজার দর্শনার্থী ও দুই হাজার আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে ২০০ জন বিশেষ অতিথি থাকবেন। দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ২৭ জন বক্তা ও আলোচক এতে অংশগ্রহণ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%