০৭:৫৭ এম
এবার দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি দল পুনর্গঠনে মনোযোগ দিয়েছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল হিসেবে এর মধ্যে দলের অনেক সদস্য সরকারে চলে গেছেন।
মাধ্যমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা হয়েছেন অনেকেই। এর ফলে দলের কর্মকান্ডে কিছুটা ভাটা পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মকাণ্ড চাঙা করার জন্য দল পুনর্গঠনের কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য দলীয় কাউন্সিল আয়োজন এবং অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্তও রয়েছে।
দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তারা জানান, সর্বশেষ তিন বছর মেয়াদি কমিটি গঠনে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দলের অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টি কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিএনপির ৮২ কমিটির মধ্যে ৭২টি মেয়াদোত্তীর্ণ।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানালেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
বিশেষ করে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে দল গোছানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।
অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিষয়ে, বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টির মেয়াদও শেষ হয়েছে। সুতরাং, এসব কমিটি দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে চলছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের নির্দেশনা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় দলীয় নেতারা সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে। তাদের মতে, দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নির্বাচনে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সুযোগ নিতে পারে। তাই নির্বাচন সামনে রেখে মূল দল এবং অঙ্গসংগঠনগুলোকে নতুন নেতৃত্বে পুনর্গঠন করাই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস এবং ওলামা দল- এই ৯টি অঙ্গসংগঠন হলো বিএনপির। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং শ্রমিক দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন। তবে এসব সংগঠনের অধিকাংশেরই পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র নেই। প্রায় ৪৭ বছরেও ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র তৈরি হয়নি।
বিএনপির কাউন্সিলের বিষয়ে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও এক দশকেও তা হয়নি। তবে এই সময়ে নির্বাহী কমিটিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মুখ যুক্ত হয়েছে। কেউ পদোন্নতি পেয়েছে, আবার কেউ দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। দলীয় দায়িত্বশীল নেতারা জানান, চলতি বছরের শেষের দিকে দলের সপ্তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। এজন্য দায়িত্বশীলদের ৮২টি সাংগঠনিক জেলা ও অধিভুক্ত উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৬৭ পুলিশ পরিদর্শক এসএসপি পদে পদোন্নতি পেলেন
এর পূর্বে, দলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকগুলোতেও অধিকাংশ নেতা কাউন্সিল করার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। একই সঙ্গে কাউন্সিলের দিনক্ষণ ঘোষণার জন্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়িত্ব প্রদান করেছে জাতীয় স্থায়ী কমিটি। দায়িত্বশীলরা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, এবার কাউন্সিলে নতুন নতুন চমক থাকবে। দলীয় গঠনতন্ত্রের কিছু ধারা-উপধারা পরিবর্তনও হবে। দীর্ঘ ৯ বছর পর দলের কাউন্সিলে ১৬ বছর রাজপথে থাকা নেতাদের আমলনামা অনুসারে ভাগ্য নির্ধারণ হবে। যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করে নতুনভাবে সাজানো হবে বিএনপিকে।
বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করার পরও সাংগঠনিক তৎপরতায় পিছিয়ে পড়ছে বিএনপি। সারা দেশে ৮২ কমিটির মধ্যে ৭২টি মেয়াদোত্তীর্ণ। শুধু সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি নয়; সারা দেশে বিএনপির থানা-উপজেলা এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিও এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। জানা গেছে, সারা দেশে বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর মধ্যে ৪৯টি আহ্বায়ক কমিটি এবং ৩১টিতে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এসব কমিটির মধ্যে মেয়াদ রয়েছে মাত্র ৮ জেলা ও মহানগর কমিটির। ৭২টি কমিটির মেয়াদ অনেক দিন আগে শেষ হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা এবং মহানগর কমিটির মেয়াদ দুই বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যর্থ হলে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে আরও তিন মাস সময় নিতে পারবে। এই সময়ও কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের শর্তে তিন মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। যদি আহ্বায়ক কমিটিও ব্যর্থ হয়, তাহলে কেন্দ্র কমিটি গঠন করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
স্থানীয় নির্বাচনে গুরুত্ব নিয়ে বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সাফল্য পেতে চায়। সেজন্য দলের শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত শনিবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আগামী স্থানীয় নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু হতে পারে এবং দল কীভাবে প্রস্তুতি নেবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হলেও বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে এবার সতর্ক অবস্থান নিতে চায়। এজন্য বিভিন্ন এলাকায় জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং হবে। তাই এখন থেকেই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কমিটি তুলে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা সংগঠনের চলমান প্রক্রিয়া। তবে জাতীয় কাউন্সিল হলে সংগঠনটি নতুন নেতৃত্ব লাভ করে। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা ত্যাগী, সংগ্রামী এবং পরীক্ষিত নেতারা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ পান। এতে ত্যাগীরা যেমন মূল্যায়িত হন, তেমনি সংগঠনও শক্তিশালী হয়।
কাউন্সিলের বিষয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের সীমাহীন নির্যাতনের কারণে বিএনপি তখন স্বাভাবিক দলীয় কর্মকাণ্ড চালাতে পারেনি। তাই উদ্যোগ নেওয়ার পরও দলের জাতীয় কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। এখন রাজনীতির পরিবেশ পরিবর্তন এসেছে। সেই কারণে দলের জাতীয় কাউন্সিলও হবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির কাউন্সিল এই বছরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। আমরা এখনও সময় নির্ধারণ করিনি। দলের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি মনে করান যে, দলের অনেক সদস্য সরকারের জন্য চলে গেছেন। সেই জায়গাগুলো পূরণ হতে সময় লাগবে। এটি বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এটি আলাদাভাবে দেখা যাবে না। সরকার তার কাজ করবে আর দল তার কাজ করবে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান রিজভীর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন