ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

উত্তর ওয়াজিরিস্তানে তিন দিনে ২১ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী: পাকিস্তান


উত্তর ওয়াজিরিস্তানে তিন দিনে ২১ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী: পাকিস্তান

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে গত ৭২ ঘণ্টায় অভিযানের মাধ্যমে ২১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। শনিবার এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) এই তথ্যে প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী জানায়, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরনশাহ ও এর আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন স্থানে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। ৭২ ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযান চলাকালে, দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুক লড়াইয়ের ঘটনা ঘটে। এই সংঘাতে চক্রের চারজন নেতাসহ মোট ২১ জন নিহত হন। এদের ভারতীয় মদদপুষ্ট ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামের অধীনে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডনও জানিয়েছে যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও এর শাখাগুলোকে বোঝাতে পাকিস্তান রাষ্ট্র এই ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামটি ব্যবহার করছে।

আইএসপিআরের তথ্যমতে, এই চক্রের নিহত নেতাদের ‘নিরপরাধ বেসামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যাকাণ্ডসহ বহু সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার জন্য’ খোঁজা হচ্ছিল। এই অভিযানটি গত সপ্তাহে শুরু হয়েছে এবং পূর্ববর্তী ৭২ ঘণ্টায় আরও ২৭ সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকার আত্মগোপন করা সন্ত্রাসীদের ধ্বংস করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: অভিজিতের পর আটক হলেন নেহা বোরা, দিল্লি পুলিশের হাতে

এছাড়াও, খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় আলাদা আরেক ঘটনায় এক জঙ্গি কমান্ডারসহ আরও দুইজন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশের শান্তি কমিটি শনিবার জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার পেছনের কারণ জানাল আল-জাজিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৩ পি.এম


বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার পেছনের কারণ জানাল আল-জাজিরা

বিশ্বজুড়ে সংকট দেখা দিলে সাধারণত স্বর্ণের দাম বেড়ে যায়। কারণ বিনিয়োগকারীরা মূলত মূল্যস্ফীতি ও অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের মধ্যেও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী না হয়ে বরং কমে যাচ্ছে।

গত কয়েক মাসে স্বর্ণের বাজারে অসাধারণ চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি প্রতি আউন্স (প্রায় ৩১ দশমিক ১ গ্রাম) স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩০৩ ডলারে ওঠে। কিন্তু শুক্রবার তা নেমে এসেছে প্রায় ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের প্রধান কারণ হলো মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর পরিবর্তে বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মূল্যস্ফীতির চাপ ও ইরানের হরমুজ সংকট

বর্তমান মূল্যস্ফীতির বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে হরমুজ প্রণালীর সংকট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এটি, যেখানে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। সরবরাহে বাধার ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতে।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যা প্রায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে দেশটির শ্রমবাজারও তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে সুদের হার দ্রুত কমানোর যে প্রত্যাশা ছিল তা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

সুদের হার বাড়লে স্বর্ণ কেন কমে যায়?

স্বর্ণ সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সুদের হার বেড়ে গেলে সেই স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে শুরু করে। কারণ সোনা একটি ‘নন-ইল্ডিং’ বা আয়বিহীন সম্পদ। অর্থাৎ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। আনুমানিক দাম বাড়লেই বিনিয়োগকারীরা লাভবান হন।

আর্থিক ওয়েবসাইট অপশন স্প্রেডার্স ডটকমের প্রধান অপশন বিশ্লেষক জাস্টিন কার্ডওয়েল বলেছেন, “সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ বাস্তব অর্থের সবচেয়ে কাছাকাছি। এটি কোনো লভ্যাংশ দেয় না, তবে এর মূল্য বাড়লে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হন।”

তার মতে, সুদের হার বেশি হলে বিনিয়োগকারীরা ডলারের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন এবং তখন স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়।

এক মাসে পতন ৯ শতাংশ

সম্প্রতি স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা চলতি বছরের সর্বনিম্ন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা- সকল কারণেই বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ বিক্রি করে অন্য সম্পদে ঝুঁকে পড়ছেন।

এছাড়া ইরানের সংকটের কারণে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ডলারে নির্ধারিত হয়, তাই ডলার শক্তিশালী হলে স্বর্ণের দাম চাপের মুখে পড়ে।

নোবেল গোল্ড ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কলিন প্লুম বলেছেন, “ডলার শক্তিশালী হলে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়, এবং ডলার দুর্বল হলে সাধারণত স্বর্ণের দাম বাড়ে। বর্তমানে ডলার শক্তিশালী হওয়ার কারণে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।”

ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা

প্লুম বলেন, “এ বছরের বাকি সময় এবং সম্ভবত আগামী কয়েক বছরের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- এরপর কী হবে?”

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগেও বাজারে প্রত্যাশা ছিল সুদের হার কমবে। ফলে বিভিন্ন সম্পদের দাম বাড়ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সব ধরনের সম্পদই প্রভাবিত হচ্ছে, আর সুদের হারের প্রতি স্বর্ণ সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল।

ইরান যুদ্ধের আগে নীতিগত অবস্থানের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার কমানোর জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে বাজার বিশ্লেষক সিএমই ফেডওয়াচ টুলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশের বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি স্বর্ণের দামের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

যুদ্ধ শেষ হলে কী হবে স্বর্ণের দাম?

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার খবর প্রকাশ হওয়ার পর শুক্রবার স্বর্ণের দাম আগের দিনের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

কার্ডওয়েলের মতে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার খবর স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কারণ যুদ্ধের উত্তেজনা কমলে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর প্রভাব দেখতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

তার মতে, বর্তমানে স্বর্ণের যে দাম রয়েছে, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন স্তর হতে পারে। যুদ্ধ শেষ হলেও সুদের হার, ডলারের অবস্থান এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মতো অনেক বিষয় স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব ফেলবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণ এখনও দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও স্বল্পমেয়াদে সুদের হার ও ডলারের শক্তির কাছে চাপের মুখে রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর লক্ষ্য বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৫ পি.এম


নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর লক্ষ্য বাংলাদেশের

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দল নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে। আজ রবিবার বেলা সাড়ে তিনটায় ম্যাচটি শুরু হবে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার আশা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।

সংবাদ সম্মেলনে, ম্যাচের আগের দিন, জ্যোতি বলেন, ‘প্রথমত, এই টুর্নামেন্টে ভালোভাবে শুরু করার জন্য এটি আমাদের জন্য একটি দারুণ সুযোগ। আমরা তাদের বিপক্ষে খেলেছি এবং তারা এই কন্ডিশনে খুবই ভালো দল। তাই আমরা আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে চাই। আমরা এডিনবরায় তাদের বিপক্ষে খেলেছিলাম। আমার মনে হয় তাদের ব্যাটিং ইউনিট খুবই শক্তিশালী। বোলিংয়েও তারা ভালো করছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলছে। তাই আমরা আমাদের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে চাই।’

উইকেট-কন্ডিশন নিয়ে নারী দলের অধিনায়ক বলেছেন, ‘অবশ্যই আমরা অনেক রানের প্রত্যাশা করছি। গতকালের ম্যাচে দেখেছিলাম ব্যাটাররা ম্যাচজুড়ে আধিপত্য করেছে। তাই আমরা আশা করছি, আমাদের ব্যাটাররাও একইভাবে দলের জন্য পারফর্ম করবে।’

দলের অন্যতম পেসার মারুফাকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী জ্যোতি জানান, ‘সে পুরোপুরি প্রস্তুত। আমি মনে করি সে একদম তৈরি। সে খুবই আক্রমণাত্মক মানসিকতাসম্পন্ন এবং আমরা সবাই তার প্রতিভা সম্পর্কে জানি। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সে কীভাবে পারফর্ম করে, সেটাই দেখার অপেক্ষায় আছি।’

প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘প্রথমেই বলব, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ দুই দলের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তারা প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে, বলেই আমি মনে করি না যে তারা অতিরিক্ত চাপ বা উত্তেজনায় থাকবে। এই পর্যায়ে তাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকতে পারে, তবে তারা এই কন্ডিশনে খুবই ভালো দল। গত ছয় মাস ধরে তারা ভালো ক্রিকেট খেলছে, আর সেই কারণেই তারা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।’

‘আমরা সম্প্রতি তাদের বিপক্ষে কয়েকটি ম্যাচ খেলেছি এবং বিশেষ করে তাদের ব্যাটিং আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা খুব শক্তিশালী ব্যাটিং দল। তবে আমাদের নিজেদের শক্তি এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় আমি আমাদের দলকেই এগিয়ে রাখব। শেষ পর্যন্ত যেদিন যে দল ভালো ক্রিকেট খেলবে, তারাই জিতবে। যে দল কম ভুল করবে, তাদের জয়ের সম্ভাবনাও বেশি থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন, আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডই জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম ধাপ (ফার্স্ট স্টেপ) হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

এদিকে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, আবু সাঈদ হত্যা মামলা ছাড়াও ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারাধীন আরও তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় চলতি মাসেই প্রকাশ পেতে পারে।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারপতিদের স্বাক্ষরিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। বর্তমানে রায়ের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে, কোনো সাজা বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আপিল করবে কি না।

গত ৯ এপ্রিল ঘোষণা করা সংক্ষিপ্ত রায়ের পর প্রকাশিত এই পূর্ণাঙ্গ রায়ে তাবিরোধী অপরাধের আইনি কাঠামো, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার, আন্তর্জাতিক আইন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের মূল্যায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। রায়ে ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায়, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি, বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক এবং রোম স্ট্যাটিউটসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নজির বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

রংপুর তাজহাট থানার এই মামলার বিচার চলাকালে মূল প্রশ্ন ছিল–আবু সাঈদের মৃত্যু কি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এটি বৃহত্তর মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ? সেপ্ট দীর্ঘ রায়ে সেই প্রশ্নের বিশদ আইনি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন আদালত।

একটি প্রাচীন চীনা প্রবাদ–প্রতি হাজার মাইলেরই প্রথম পদক্ষেপ থাকে।’ উদ্ধৃত করে ট্রাইব্যুনাল রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘শত্রুর জন্যও ইনসাফ’ প্রতিষ্ঠার নীতির ওপর ভিত্তি করে এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের আইনে অনুপস্থিত আসামির বিচারের (ট্রায়াল ইন অ্যাবসেন্সিয়া) যে সুযোগ রাখা হয়েছে, রায়ে তারও বিস্তর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়ায় ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত ৪১টি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে আলাদাভাবে সাক্ষ্য ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের মতে, বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়েছে।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট আরও তিনটি মামলার রায় চলতি জুনেই আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলাগুলো হলো:

হাসানুল হক ইনু: জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শেষ, এখন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ।

মাহবুব-উল আলম হানিফ: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিও রায়ের পর্যায়ে রয়েছে।

রামপুরা হত্যাকাণ্ড: রামপুরায় তরুণ আমির হোসেনকে গুলি করে আহত করাসহ দু’জনকে হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে, এ মাসেই রায় হতে পারে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছে দণ্ডিত আসামিপক্ষ।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল হাসান দাবি করেছেন, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি। এ ছাড়া ঘটনার সময় পুলিশ বাহিনী আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর আওতাভুক্ত ছিল না এবং নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই যুক্তিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আশুলিয়া থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক আবদুল মালেক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার আপিল করেছেন।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, আশুলিয়ার মামলার রায়ের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এখনও আপিলের সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে রায় ঘোষণার দিন উত্থাপিত কিছু অভিযোগ নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি বর্তমানে তদন্ত করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবাগত কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে জার্মানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


নবাগত কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে জার্মানি

দুই আসর ধরে ফিফা বিশ্বকাপে প্রত্যাশার ধারে-কাছেও যেতে পারেনি জার্মানি। ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে এবার নতুন উদ্যমে মাঠে নামতে চলেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত কুরাসাওয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জুলিয়ান নাগেলসমানের দল।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শুরুটা দারুণ খারাপ হলেও এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি জার্মানিকে। প্রথম ম্যাচে হারার পর তারা টানা জয় তুলে ছয় ম্যাচ থেকে ১৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপসেরা হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের আগে তাদের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেও দুর্দান্ত ছন্দে ছিল ডি মানশাফট। তারা টানা চারটি প্রীতি ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে টুর্নামেন্টে পা রেখেছে ইউরোপের অন্যতম সফল দল।

অন্যদিকে, কুরাসাওয়ের জন্য এটি সত্যিই একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কারণ এটি প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে এবং দেশটির ফুটবল ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় লিখেছে। বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে চার ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়ে গ্রুপসেরা হয়েছিল কুরাসাও। এরপর তৃতীয় রাউন্ডে ছয় ম্যাচ থেকে ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে জ্যামাইকাকে পেছনে ফেলে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে।

বিশ্বকাপের আগে দলটিতে কোচ পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটে। ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব ছাড়লেও অভিজ্ঞ ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাট আবারও দলের দায়িত্বে ফিরে এসেছেন। তার অধীনেই বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিষেক হতে যাচ্ছে কুরাসাওয়ের।

পরিসংখ্যান অবশ্য জার্মানির পক্ষেই কথা বলছে। তারা টানা নয় ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং এই নয় ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করেছে। অন্যদিকে, কুরাসাও তাদের শেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, শেষ তিন ম্যাচেই গোলের দেখা পেয়েছে ক্যারিবীয় প্রতিনিধিরা।

দুই দলের মধ্যে এর আগে কখনও কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে বিশ্বকাপের এই লড়াইয়ের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো একে অপরের মুখোমুখি হতে চলেছে জার্মানি ও কুরাসাও।

জার্মানি (সম্ভাব্য একাদশ):

বাউমান, ব্রাউন, শ্লোটারবেক, তাহ, কিমিচ, পাভলোভিচ, এনমেচা, ভির্টজ, মুসিয়ালা, সানে ও হাভার্টজ।

কুরাসাও (সম্ভাব্য একাদশ):

ডর্নবুশ, সাম্বো, গ্যারি, ব্রেনেট, ভ্যান আইমা, রুমেরাতু, মার্তা, কুভাস, মার্গারিটা, কেনজি গোরে ও জিয়ার্ল মার্গারিথা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%