০১:১৮ পি.এম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন, আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডই জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম ধাপ (ফার্স্ট স্টেপ) হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
এদিকে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, আবু সাঈদ হত্যা মামলা ছাড়াও ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারাধীন আরও তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় চলতি মাসেই প্রকাশ পেতে পারে।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারপতিদের স্বাক্ষরিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। বর্তমানে রায়ের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে, কোনো সাজা বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আপিল করবে কি না।
আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা
গত ৯ এপ্রিল ঘোষণা করা সংক্ষিপ্ত রায়ের পর প্রকাশিত এই পূর্ণাঙ্গ রায়ে তাবিরোধী অপরাধের আইনি কাঠামো, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার, আন্তর্জাতিক আইন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের মূল্যায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। রায়ে ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায়, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি, বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক এবং রোম স্ট্যাটিউটসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নজির বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।
রংপুর তাজহাট থানার এই মামলার বিচার চলাকালে মূল প্রশ্ন ছিল–আবু সাঈদের মৃত্যু কি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এটি বৃহত্তর মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ? সেপ্ট দীর্ঘ রায়ে সেই প্রশ্নের বিশদ আইনি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন আদালত।
একটি প্রাচীন চীনা প্রবাদ–প্রতি হাজার মাইলেরই প্রথম পদক্ষেপ থাকে।’ উদ্ধৃত করে ট্রাইব্যুনাল রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘শত্রুর জন্যও ইনসাফ’ প্রতিষ্ঠার নীতির ওপর ভিত্তি করে এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের আইনে অনুপস্থিত আসামির বিচারের (ট্রায়াল ইন অ্যাবসেন্সিয়া) যে সুযোগ রাখা হয়েছে, রায়ে তারও বিস্তর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়ায় ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত ৪১টি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে আলাদাভাবে সাক্ষ্য ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের মতে, বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: আলীকদমের ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট আরও তিনটি মামলার রায় চলতি জুনেই আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলাগুলো হলো:
হাসানুল হক ইনু: জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শেষ, এখন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ।
মাহবুব-উল আলম হানিফ: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিও রায়ের পর্যায়ে রয়েছে।
রামপুরা হত্যাকাণ্ড: রামপুরায় তরুণ আমির হোসেনকে গুলি করে আহত করাসহ দু’জনকে হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে, এ মাসেই রায় হতে পারে।
আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর
গত ৫ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছে দণ্ডিত আসামিপক্ষ।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল হাসান দাবি করেছেন, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি। এ ছাড়া ঘটনার সময় পুলিশ বাহিনী আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর আওতাভুক্ত ছিল না এবং নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই যুক্তিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আশুলিয়া থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক আবদুল মালেক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার আপিল করেছেন।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, আশুলিয়ার মামলার রায়ের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এখনও আপিলের সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে রায় ঘোষণার দিন উত্থাপিত কিছু অভিযোগ নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি বর্তমানে তদন্ত করছে।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন