০৭:৩২ পি.এম
শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষার সীমা থেকে মুক্ত করার জন্য সৃজনশীল, উদ্ভাবনী এবং বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।
মাউশি ডিজি বলেন, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষার গণ্ডি থেকে বের করে সৃজনশীল, উদ্ভাবনী ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ২৮ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হবে। দুই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য উন্নয়ন, আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক উপস্থিত থাকবেন। আগামী ১২ জুন উপজেলা বা থানা পর্যায়ে এবং ১৪ জুন জেলা পর্যায় শোকেসিং কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। পরে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সেরা ১০০ দল জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করবে।
ড. সোহেল বলেন, এসব আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার المحلي সমাধান খুঁজে বের করার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও সৃষ্টি হবে। জাতীয় পর্যায়ের সকল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সেরা ১০ দলকে ট্রফি প্রদান করা হবে। একই সাথে ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ ও ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ৩০ হাজার টাকা ও সনদপত্র এবং শিক্ষার্থীরা ২০ হাজার টাকা ও সনদপত্র পাবেন।
মাউশির উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় থাকা ২৯ হাজার ৬২১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদরাসা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ
মাউশি ডিজি আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জলবায়ু সচেতনতা অনুদান হিসেবে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এই অর্থ দিয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি ফলদ, একটি বনজ এবং একটি ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। পাশাপাশি র্যালি, প্রচারাভিযান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে।
ড. সোহেল বলেন, ২৮ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই সময়ে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হবে। অনুষ্ঠানটি বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারিত হবে এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশिक्षা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গার্মেন্টস শ্রমিক কার্তিক নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন