ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইএসপিএনের প্রতিষ্ঠাতা বিল রাসমুসেন আর নেই


ইএসপিএনের প্রতিষ্ঠাতা বিল রাসমুসেন আর নেই

বিশ্বজুড়ে স্পোর্টস সম্প্রচারের চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য চব্বিশ ঘণ্টার ক্রীড়া টেলিভিশনের ধারণা নিয়ে কাজ করা ইএসপিএনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল রাসমুসেন এখন আর আমাদের মাঝে নেই। ৯৩ বছর বয়সে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু ঘটে। ইএসপিএন জানিয়েছে, পারকিনসন রোগের জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে।

বিল ১৯৭৮ সালে চাকরি হারানোর পর তার ছেলে স্কট রাসমুসেনের সঙ্গে মিলে ২৪ ঘণ্টার একটি ক্রীড়া টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন। সীমিত অর্থ এবং প্রায় ৯ হাজার ডলারের ক্রেডিট কার্ড ঋণ নিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগটি পরের বছর জন্ম দেয় ইএসপিএনের।

ইএসপিএনের ধারণার শুরু হয় ১৯৭৮ সালের এক শুক্রবার বিকেলে। কানেটিকাটের মহাসড়কে যানজটে আটকে অবস্থায় বিল এবং তার ছেলে স্কট কেবল টেলিভিশনে সার্বক্ষণিক খেলাধুলা দেখানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

আরও পড়ুন: মা হারালেন বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি

প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল শুধুমাত্র কানেটিকাটের স্থানীয় খেলাধুলা সম্প্রচার করার। কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা বদলে যায়। তারা ভাবতে শুরু করেন, কেন একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ক্রীড়া নেটওয়ার্ক গড়া হবে না? অনেকেই তখন সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে, ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচারের জন্য যথেষ্ট খেলাধুলা কোথায় পাওয়া যাবে? তবে বিল ছিলেন নিজের ধারণার ব্যাপারে দৃঢ়।

অবশেষে গেটি অয়েলের বিনিয়োগ, এনসিএএর সঙ্গে সম্প্রচার চুক্তি এবং অ্যানহয়জার-বুশের বিজ্ঞাপন চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পায়। ১৯৭৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় ইএসপিএনের সম্প্রচার শুরু হয়। প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৪ লাখ বাড়িতে পৌঁছে যায় নতুন এই নেটওয়ার্ক। উদ্বোধনী সম্প্রচারের অন্যতম প্রধান অনুষ্ঠান ছিল ‘স্পোর্টসসেন্টার’, যা পরবর্তীতে ক্রীড়া সংবাদ পরিবেশনের একটি পরিচিত অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে।

প্রতিষ্ঠার সময় নেটওয়ার্কটির নাম ছিল ‘এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড স্পোর্টস প্রোগ্রামিং’, পরে এটি সংক্ষিপ্ত হয়ে ইএসপিএন হয়। বিল রাসমুসেন ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী। তার উদ্যোগের ফলে ক্রীড়া সম্প্রচারের পাশাপাশি কলেজ বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠান সম্প্রচারের পথও খুলে যায়।

যদিও ইএসপিএনের সঙ্গে তার সক্রিয় সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তিনি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা থেকে সরে দাঁড়ান। পরবর্তী সময়ে ইএসপিএনের মালিকানায় বড় পরিবর্তন আসে এবং বিলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ভূমিকা ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়।

আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?

ইএসপিএন থেকে সরে যাওয়ার পরও ক্রীড়া সম্প্রচার ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাসমুসেন। বিভিন্ন ক্রীড়া সম্প্রচারস্বত্ব ও গণমাধ্যম উদ্যোগে পরামর্শক হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। ১৯৯৯ সালে ইএসপিএনের ২০ বছর পূর্তির সময় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার পুরোনো দূরত্ব কমতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি তাকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিভিন্নভাবে সম্মান জানায়।

২০২৫ সালে তিনি স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। রাসমুসেনের মৃত্যুকে স্মরণ করে ইএসপিএনের চেয়ারম্যান জিমি পিটারো বলেছেন, তার উদ্ভাবনী চিন্তা, পরিশ্রম এবং উদ্যোক্তা মানসিকতার প্রভাব প্রতিষ্ঠানটির সংস্কৃতিতে এখনো বিদ্যমান।

ইএসপিএনের প্রবীণ উপস্থাপক ক্রিস বারম্যানও রাসমুসেনকে ‘আমাদের জর্জ ওয়াশিংটন’ হিসেবে স্মরণ করেছেন। রাসমুসেন ২০১৯ সালে প্রকাশ্যে জানান যে, তার পারকিনসন রোগ ধরা পড়েছিল কয়েক বছর আগে। এরপর তিনি পারকিনসন রোগীদের জন্য কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

১৯৩২ সালের ১৫ অক্টোবর শিকাগোতে জন্ম নেওয়া রাসমুসেন ডিপাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন। পরবর্তীতে তিনি রেডিও এবং টেলিভিশনে কাজের মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার শুরু করেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের জাপান সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-কাতার জ্বালানি ও অর্থ খাতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


বাংলাদেশ-কাতার জ্বালানি ও অর্থ খাতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে জ্বালানি ও অর্থ খাতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে বাংলাদেশ এবং কাতার একমত হয়েছে। দোহায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকায় প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ বিন শেরিদা আল-কাবি এবং অর্থমন্ত্রী আলী বিন আহমেদ আল-কুয়ারির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

উভয় আলোচনা পর্বে দুই পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষত, জ্বালানি এবং অর্থ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আলোচনার বিষয়গুলোর অগ্রগতি তদারকি করা এবং গুরুত্বপূর্ণ এই দুই খাতে পরস্পরের জন্য লাভজনক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে তারা একমত হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের উভয় মন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে দুই দিনের সরকারি সফরে দোহায় অবস্থান করছেন এবং একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরিয়ায় ইসরায়েলি বিমান হামলা, তীব্র নিন্দা জানাল আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


সিরিয়ায় ইসরায়েলি বিমান হামলা, তীব্র নিন্দা জানাল আমিরাত

ইদলিব প্রদেশের সিরিয়ার ‘আবু আল-দুহুর’ সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এর কঠোর নিন্দা করেছে। ইউএই এই ঘটনাকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সিরিয়ার স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য যে কোন সামরিক পদক্ষেপ, যা হুমকি সৃষ্টি করে, ইউএই এর পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যাত। এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং ১৯৭৪ সালের সেনা প্রত্যাহার চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে ব্যক্ত করেছে আমিরাত।

ক্ষেত্রটিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে এই দেশটির পক্ষ থেকে। বিমান হামলার খবরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অফিস থেকে জানানো হয় যে, ইসরায়েল এবং সিরিয়া একটি নিরাপত্তা ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছিল।

কিন্তু সিরিয়া আলেপ্পোর নিকটবর্তী একটি বিমানঘাঁটিতে তুর্কি সেনা মোতায়েন করার ফলে এই চুক্তিটি লঙ্ঘনের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। ইসরায়েল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে তারা নিজেদের নিরাপত্তার প্রতি কোনো ধরনের হুমকি মেনে নেবে না।

সিরিয়া ও ইরাক নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত টম ব্যারাক এমন বিমান হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং একে ‘অপ্রয়োজনীয় সংঘাত বৃদ্ধি’ বলেও উল্লেখ করেছেন। ইতোমধ্যে জর্ডান, কাতার এবং তুরস্ক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

এটা উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর এটি ইসরায়েলের ‘আবু আল-দুহুর’ ঘাঁটিতে প্রথম ঘোষিত সরাসরি বিমান হামলা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অজু করে ঘুমানোর বিশেষ ফজিলত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ এম


অজু করে ঘুমানোর বিশেষ ফজিলত

দিনের কর্মব্যস্ততা, বিভিন্ন চিন্তা এবং ক্লান্তির পর, রাতের ঘুম মানুষের শরীর ও মনের জন্য একটি প্রশান্তির আশ্রয়। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য ঘুম কেবল শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য নয়; বরং ঘুমানোর আগে কিছু সুন্নত আমল পালনের মাধ্যমে এই বিশ্রামটিও সওয়াব ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি উজ্জ্বল উপায়ে পরিণত হতে পারে।

এর মধ্যে অন্যতম হলো—অজু করে ঘুমানো।

রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে এক চমৎকার জীবন পদ্ধতি শিখিয়েছেন, যেখানে ঘুমানোর মতোธรรมিক কাজও আল্লাহর স্মরণ ও সুন্নতের মাধ্যমে ইবাদতে পরিণত হতে পারে। শয্যায় যাওয়ার আগে অজু করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল, যা বান্দাকে পবিত্র অবস্থায় রাত কাটানোর সৌভাগ্য এনে দেয়। এর সাথে ফেরেশতার দোয়ার বিশেষ ফজিলতও রয়েছে, যা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

অজু করে ঘুমানো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তুমি তোমার শয্যায় যাবে, তখন নামাজের অজুর মতো অজু করবে। এরপর ডান কাতে শুয়ে পড়বে...।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৭)

অজু করে ঘুমালে ফেরেশতা দোয়া করেন

পবিত্র অবস্থায় রাত কাটানোর অন্যতম বড় ফজিলত হলো—বান্দার জন্য ফেরেশতার দোয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় রাত কাটায়, তার সঙ্গে একজন ফেরেশতা রাতযাপন করেন।

সে যখন জাগ্রত হয়, তখন ফেরেশতা বলেন—হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দাকে ক্ষমা করুন; কারণ সে পবিত্র অবস্থায় রাত কাটিয়েছে।’ (সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস: ১০৫১)

কী অসাধারণ সৌভাগ্য! মানুষ যখন গভীর ঘুমের অচেতন অবস্থায় থাকে, তখনও তার জন্য একজন ফেরেশতা আল্লাহর কাছে তার ক্ষমার প্রার্থনা করছেন। একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় আর কী হতে পারে!

অজু করে ঘুমানোর সঙ্গে আল্লাহর স্মরণ

শুধু অজু নয়, ঘুমানোর আগে আল্লাহকে স্মরণ করাও মহানবী (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) শয্যায় যাওয়ার সময় বিভিন্ন দোয়া ও জিকির শিক্ষা দিয়েছেন। বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে শয্যায় যাওয়ার সময় অজু করে ডান কাতে শোয়া এবং একটি বিশেষ দোয়া পড়তে শিখিয়েছেন।

এরপর বলেছেন, ‘যদি তুমি ওই রাতে মারা যাও, তবে তুমি ফিতরাতের ওপর মৃত্যুবরণ করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭১০)

রাতে হঠাৎ জেগে গেলে দোয়া কবুলের সুসংবাদ

অজু ও আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে রাত কাটানোর আরেকটি চমৎকার ফজিলত হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে মুসলিম পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর জিকির করতে করতে রাত কাটায়, অতঃপর রাতে জেগে উঠে দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো কল্যাণ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে তা দান করেন।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৪২)

অতএব, মাঝরাতে হঠাৎ যদি ঘুম ভেঙে যায়, তবে আবার ঘুমিয়ে না পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা কত মূল্যবান! হতে পারে, সেই মুহূর্তটিই আপনার জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ দোয়া কবুলের কারণ হতে পারে।

অজু অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়

অজু শুধু বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম নয়; এটি একজন মুসলিমের আত্মিক পবিত্রতারও একটি উপায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কিন্তু তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের ওপর তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৬)

অজুর সঙ্গে ঘুমের অন্যান্য সুন্নত

ঘুমানোর আগে শুধু অজু করাই নয়, রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও কিছু আমল শিক্ষা দিয়েছেন। যেমন—

১. বিছানা ঝেড়ে নেওয়া।

২. ডান কাতে শোয়া।

৩. মাসনুন দোয়া পড়া।

৪. আয়াতুল কুরসি পাঠ করা।

৫. সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়া।

৬. তাসবিহে ফাতেমি পাঠ করা।

৭. আল্লাহর নাম স্মরণ করে ঘুমানো।

অতএব, রাতের নীরবতায় যখন পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে, তখন একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার এটি একটি অপূর্ব সময়। হয়তো কয়েক মিনিটের সেই অজুই হবে আপনার রাতের সবচেয়ে মূল্যবান আমল; হয়তো সেই পবিত্র অবস্থায় ঘুমানোই এনে দেবে ফেরেশতার দোয়া, আল্লাহর রহমত এবং অন্তরের প্রশান্তি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ এম


বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিল্পকলা কেন্দ্র বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট প্রদান করবেন সংসদ সদস্যরা। ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে তাৎক্ষণিক ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে এবার।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের কীভাবে ভোট দেবেন, ব্যালট গ্রহণ ও পূরণের প্রক্রিয়া এবং ভোট গণনা শেষে কিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে, সে সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

ইসি সচিব এই প্রসঙ্গে বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে আগামী ২০ আগস্টের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

তিনি জানান, আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ভোটের শুরুতে নির্বাচনকর্তা, যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ভোট গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের অবহিত করবেন। এরপর ভোট গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হবে।

ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। একটি মুড়ি অংশ এবং অন্যটি মূল ব্যালট পেপার। মুড়ি অংশে থাকবে ক্রমিক নম্বর, ভোটদানকারী সংসদ সদস্যের নাম এবং বিভক্তি নম্বর। এর নিচে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। এরপর ব্যালট পেপার গ্রহণ করে জমা দিতে হবে।

মূল ব্যালট পেপারের ডান পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যাক্ষর অনুযায়ী মুদ্রিত থাকবে। প্রার্থীদের নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যরা পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে তাদের ভোট দেবেন।

ভোট দেওয়ার পর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার জমা দিতে হবে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ব্যালট গণনা শুরু হবে।

ইসি সচিব জানান, মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। গণনার সময়ে কতজন ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ হয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে, তা পরিসংখ্যান করা হবে। এরপর প্রার্থীদের প্রাপ্ত বৈধ ভোটের হিসাব করতে হবে। যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন, তাকে নির্বাচনকর্তা বিজয়ী ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে ফিরে ফলাফল অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%