০৯:৪৩ এম
দিনের কর্মব্যস্ততা, বিভিন্ন চিন্তা এবং ক্লান্তির পর, রাতের ঘুম মানুষের শরীর ও মনের জন্য একটি প্রশান্তির আশ্রয়। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য ঘুম কেবল শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য নয়; বরং ঘুমানোর আগে কিছু সুন্নত আমল পালনের মাধ্যমে এই বিশ্রামটিও সওয়াব ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি উজ্জ্বল উপায়ে পরিণত হতে পারে।
এর মধ্যে অন্যতম হলো—অজু করে ঘুমানো।
রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে এক চমৎকার জীবন পদ্ধতি শিখিয়েছেন, যেখানে ঘুমানোর মতোธรรมিক কাজও আল্লাহর স্মরণ ও সুন্নতের মাধ্যমে ইবাদতে পরিণত হতে পারে। শয্যায় যাওয়ার আগে অজু করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল, যা বান্দাকে পবিত্র অবস্থায় রাত কাটানোর সৌভাগ্য এনে দেয়। এর সাথে ফেরেশতার দোয়ার বিশেষ ফজিলতও রয়েছে, যা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
আরও পড়ুন: মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান
অজু করে ঘুমানো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তুমি তোমার শয্যায় যাবে, তখন নামাজের অজুর মতো অজু করবে। এরপর ডান কাতে শুয়ে পড়বে...।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৭)
অজু করে ঘুমালে ফেরেশতা দোয়া করেন
পবিত্র অবস্থায় রাত কাটানোর অন্যতম বড় ফজিলত হলো—বান্দার জন্য ফেরেশতার দোয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় রাত কাটায়, তার সঙ্গে একজন ফেরেশতা রাতযাপন করেন।
আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সে যখন জাগ্রত হয়, তখন ফেরেশতা বলেন—হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দাকে ক্ষমা করুন; কারণ সে পবিত্র অবস্থায় রাত কাটিয়েছে।’ (সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস: ১০৫১)
কী অসাধারণ সৌভাগ্য! মানুষ যখন গভীর ঘুমের অচেতন অবস্থায় থাকে, তখনও তার জন্য একজন ফেরেশতা আল্লাহর কাছে তার ক্ষমার প্রার্থনা করছেন। একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় আর কী হতে পারে!
অজু করে ঘুমানোর সঙ্গে আল্লাহর স্মরণ
শুধু অজু নয়, ঘুমানোর আগে আল্লাহকে স্মরণ করাও মহানবী (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) শয্যায় যাওয়ার সময় বিভিন্ন দোয়া ও জিকির শিক্ষা দিয়েছেন। বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে শয্যায় যাওয়ার সময় অজু করে ডান কাতে শোয়া এবং একটি বিশেষ দোয়া পড়তে শিখিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি: ২৯ অক্টোবর ২০২৬
এরপর বলেছেন, ‘যদি তুমি ওই রাতে মারা যাও, তবে তুমি ফিতরাতের ওপর মৃত্যুবরণ করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭১০)
রাতে হঠাৎ জেগে গেলে দোয়া কবুলের সুসংবাদ
অজু ও আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে রাত কাটানোর আরেকটি চমৎকার ফজিলত হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে মুসলিম পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর জিকির করতে করতে রাত কাটায়, অতঃপর রাতে জেগে উঠে দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো কল্যাণ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে তা দান করেন।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৪২)
অতএব, মাঝরাতে হঠাৎ যদি ঘুম ভেঙে যায়, তবে আবার ঘুমিয়ে না পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা কত মূল্যবান! হতে পারে, সেই মুহূর্তটিই আপনার জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ দোয়া কবুলের কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন: সউদী সরকার নিরলসভাবে সারা পৃথিবীতে কুরআনের খেদমত করে যাচ্ছে: রাষ্ট্রদূত
অজু অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়
অজু শুধু বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম নয়; এটি একজন মুসলিমের আত্মিক পবিত্রতারও একটি উপায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কিন্তু তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের ওপর তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৬)
অজুর সঙ্গে ঘুমের অন্যান্য সুন্নত
ঘুমানোর আগে শুধু অজু করাই নয়, রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও কিছু আমল শিক্ষা দিয়েছেন। যেমন—
আরও পড়ুন: চন্দ্রপাড়া দরবারে অসচ্ছলদের সহায়তা ও ওরসের তারিখ ঘোষণা
১. বিছানা ঝেড়ে নেওয়া।
২. ডান কাতে শোয়া।
৩. মাসনুন দোয়া পড়া।
৪. আয়াতুল কুরসি পাঠ করা।
আরও পড়ুন: মসজিদুল হারামে এক ইমামের পেছনে জামাতের ১০০ বছর পূর্ণ
৫. সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়া।
৬. তাসবিহে ফাতেমি পাঠ করা।
৭. আল্লাহর নাম স্মরণ করে ঘুমানো।
অতএব, রাতের নীরবতায় যখন পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে, তখন একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার এটি একটি অপূর্ব সময়। হয়তো কয়েক মিনিটের সেই অজুই হবে আপনার রাতের সবচেয়ে মূল্যবান আমল; হয়তো সেই পবিত্র অবস্থায় ঘুমানোই এনে দেবে ফেরেশতার দোয়া, আল্লাহর রহমত এবং অন্তরের প্রশান্তি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন