প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বজুড়ে স্পোর্টস সম্প্রচারের চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য চব্বিশ ঘণ্টার ক্রীড়া টেলিভিশনের ধারণা নিয়ে কাজ করা ইএসপিএনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল রাসমুসেন এখন আর আমাদের মাঝে নেই। ৯৩ বছর বয়সে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু ঘটে। ইএসপিএন জানিয়েছে, পারকিনসন রোগের জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে।
বিল ১৯৭৮ সালে চাকরি হারানোর পর তার ছেলে স্কট রাসমুসেনের সঙ্গে মিলে ২৪ ঘণ্টার একটি ক্রীড়া টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন। সীমিত অর্থ এবং প্রায় ৯ হাজার ডলারের ক্রেডিট কার্ড ঋণ নিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগটি পরের বছর জন্ম দেয় ইএসপিএনের।
ইএসপিএনের ধারণার শুরু হয় ১৯৭৮ সালের এক শুক্রবার বিকেলে। কানেটিকাটের মহাসড়কে যানজটে আটকে অবস্থায় বিল এবং তার ছেলে স্কট কেবল টেলিভিশনে সার্বক্ষণিক খেলাধুলা দেখানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল শুধুমাত্র কানেটিকাটের স্থানীয় খেলাধুলা সম্প্রচার করার। কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা বদলে যায়। তারা ভাবতে শুরু করেন, কেন একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ক্রীড়া নেটওয়ার্ক গড়া হবে না? অনেকেই তখন সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে, ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচারের জন্য যথেষ্ট খেলাধুলা কোথায় পাওয়া যাবে? তবে বিল ছিলেন নিজের ধারণার ব্যাপারে দৃঢ়।
অবশেষে গেটি অয়েলের বিনিয়োগ, এনসিএএর সঙ্গে সম্প্রচার চুক্তি এবং অ্যানহয়জার-বুশের বিজ্ঞাপন চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পায়। ১৯৭৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় ইএসপিএনের সম্প্রচার শুরু হয়। প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৪ লাখ বাড়িতে পৌঁছে যায় নতুন এই নেটওয়ার্ক। উদ্বোধনী সম্প্রচারের অন্যতম প্রধান অনুষ্ঠান ছিল ‘স্পোর্টসসেন্টার’, যা পরবর্তীতে ক্রীড়া সংবাদ পরিবেশনের একটি পরিচিত অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে।
প্রতিষ্ঠার সময় নেটওয়ার্কটির নাম ছিল ‘এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড স্পোর্টস প্রোগ্রামিং’, পরে এটি সংক্ষিপ্ত হয়ে ইএসপিএন হয়। বিল রাসমুসেন ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী। তার উদ্যোগের ফলে ক্রীড়া সম্প্রচারের পাশাপাশি কলেজ বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠান সম্প্রচারের পথও খুলে যায়।
যদিও ইএসপিএনের সঙ্গে তার সক্রিয় সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তিনি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা থেকে সরে দাঁড়ান। পরবর্তী সময়ে ইএসপিএনের মালিকানায় বড় পরিবর্তন আসে এবং বিলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ভূমিকা ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়।
ইএসপিএন থেকে সরে যাওয়ার পরও ক্রীড়া সম্প্রচার ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাসমুসেন। বিভিন্ন ক্রীড়া সম্প্রচারস্বত্ব ও গণমাধ্যম উদ্যোগে পরামর্শক হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। ১৯৯৯ সালে ইএসপিএনের ২০ বছর পূর্তির সময় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার পুরোনো দূরত্ব কমতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি তাকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিভিন্নভাবে সম্মান জানায়।
২০২৫ সালে তিনি স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। রাসমুসেনের মৃত্যুকে স্মরণ করে ইএসপিএনের চেয়ারম্যান জিমি পিটারো বলেছেন, তার উদ্ভাবনী চিন্তা, পরিশ্রম এবং উদ্যোক্তা মানসিকতার প্রভাব প্রতিষ্ঠানটির সংস্কৃতিতে এখনো বিদ্যমান।
ইএসপিএনের প্রবীণ উপস্থাপক ক্রিস বারম্যানও রাসমুসেনকে ‘আমাদের জর্জ ওয়াশিংটন’ হিসেবে স্মরণ করেছেন। রাসমুসেন ২০১৯ সালে প্রকাশ্যে জানান যে, তার পারকিনসন রোগ ধরা পড়েছিল কয়েক বছর আগে। এরপর তিনি পারকিনসন রোগীদের জন্য কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
১৯৩২ সালের ১৫ অক্টোবর শিকাগোতে জন্ম নেওয়া রাসমুসেন ডিপাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন। পরবর্তীতে তিনি রেডিও এবং টেলিভিশনে কাজের মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার শুরু করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন