০৪:০৮ পি.এম
ইউরোপ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছানোর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্লোভাকিয়ায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
একই সঙ্গে তিনি ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনাও উপভোগ করেন। মোদি এসব রীতির সংস্কৃতি ও ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং একে অনন্য ঐতিহ্য হিসেবে প্রশংসা করেন। তবে পুরো অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে রুটি ও লবণ দিয়ে মোদিকে স্বাগত জানানোর বিষয়টি।
কালের কণ্ঠ জেনেছে, স্লাভিক সংস্কৃতিতে অতিথিকে রুটি ও লবণ দেওয়া একটি প্রাচীন ঐতিহ্য।
সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সম্মানিত অতিথি এবং নবদম্পতিকে স্বাগত জানাতে এই খাবার পরিবেশন করা হয়।
এই রীতি আতিথেয়তা, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক। পাশাপাশি এটি আয়োজক ও অতিথির মধ্যে বিশ্বাস ও ভালো সম্পর্কের বন্ধন বোঝায়।
আরও পড়ুন: বিএনপির ডাক, সরকার পতনের একদফা আন্দোলন: ২৮ অক্টোবর
এই রীতিতে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় আয়োজকের পক্ষ থেকে।
ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা তরুণীরা একটি বড় গোল রুটি পরিবেশন করেন। রুটিটি রাখা থাকে ‘রুশনিক’ নামে ঐতিহ্যবাহী সূচিকর্মের নকশা করা একটি কাপড়ের ওপর। মূলত সুতি বা লিনেনের কাপড়ের ওপর এই নকশা করা হয়।
রুটির পাশে ছোট একটি পাত্রে লবণ রাখা হয়। আবার কখনো রুটির ওপরেই লবণের ছোট বাটিটি বসানো থাকে।
অতিথি রুটি থেকে একটি টুকরো ছিঁড়ে তাতে লবণ লাগিয়ে খান। এটি আয়োজকের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক।
আরও পড়ুন: হুথি অবস্থানে এক দিনে ১৩০০ বিমান হামলা, হতাহত ৪৪০ জন
বিয়ের পরও নবদম্পতিকে রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বর-কনে রুটি ছিঁড়ে লবণ দিয়ে একে অপরকে খাওয়ান। এটি তাদের ভালোবাসা ও নতুন সম্পর্কের প্রতীক। আবার নতুন বাড়িতে ওঠার সময় বা কোনো বিশেষ সম্মানিত অতিথিকে স্বাগত জানাতেও রুটি ও লবণ নিয়ে যাওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে।
স্লাভিক ভাষায় ‘খ্লেবোসোলস্তভো’ (রুটি-লবণ) শব্দটি আজও ব্যবহৃত হয়। এটি অতিথিদের প্রতি আন্তরিক আতিথেয়তা, উদারতা ও সৌহার্দ্য প্রকাশ করতে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় শব্দ এটি।
স্লাভিক সংস্কৃতিতে রুটিকে পবিত্র খাবার ও জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রুটি পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি এবং কখনো খাবারের অভাব না হওয়ার শুভকামনার প্রতীক।
অন্যদিকে, অতীতে লবণ ছিল খুবই মূল্যবান ও দামি একটি পণ্য। তাই লবণ বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা এবং সম্পর্কের স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, লবণ অশুভ শক্তি, কুদৃষ্টি ও অকল্যাণ দূরে রাখতেও সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ৮ নভেম্বর
এদিকে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছানোর পর এক্সে এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘ব্রাতিস্লাভায় আমাকে রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে। এটি স্লোভাকিয়ার সংস্কৃতি এবং তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের সুন্দর পরিচয়।’
এক্সে দেওয়া আরেকটি পোস্টে মোদি স্লোভাকিয়ার মিয়াভা অঞ্চলের লোকনৃত্য দল ‘কোপানিচিয়ারিক’-এর পরিবেশনার কিছু অংশ শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের লোকজ ঐতিহ্য একটি দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।’
তিনি আরো বলেন, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্লোভাকিয়া সফরে এসে সেখানকার ভারতীয় সম্প্রদায়ের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ভালোবাসায় তিনি মুগ্ধ। তার মতে, এ ধরনের আন্তরিকতা দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করে এবং ভারত-স্লোভাকিয়া বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার সন্ধ্যায় তিন দিনের সফরে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছান। রবার্ট ফিকোর আমন্ত্রণে তিনি এই সফর করছেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার। ১৯৯৩ সালে দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর থেকে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম সফর।
আরও পড়ুন: জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করতে আহ্বান ল্যানসেটের
সফরকালে মোদি প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অটোমোবাইল শিল্প, রেলওয়ে উন্নয়নসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পাবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর ভারত ও স্লোভাকিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে এবং সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন