০২:০৯ এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার সফরকালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, পাশাপাশি দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করেন। এছাড়া নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলা ও পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন এবং চকরিয়ায় বিশাল জনসভা ও কক্সবাজারে সুধী সমাবেশে অংশ নেন।

শনিবার (১৩ জুন) জুড়ে তার সফর চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সংঘর্ষ, আহত ১০
উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সুধী সমাবেশের সময়, প্রধানমন্ত্রী রাত ৯টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারের হোটেল লং বিচের সুধী সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি সংসদ সদস্য (এমপি) শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন এমপি লুৎফুর রহমান কাজল। এই সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি আলমগীর ফরিদ এবং অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বৈঠক
সভায় কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের বিকাশ, নিরাপদ নগরী গড়ার জন্য একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী এসব দাবির বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

জনসভায়, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, দেশের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে কক্সবাজারের ৪টি আসন বিএনপির ঘরে গেছে এবং এজন্য কক্সবাজারবাসীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি দাবি করেন যে, কক্সবাজারের লবণচাষীরা লবণের ন্যায্যমূল্য পান না, এবং বিষয়টি নিয়ে খুব দ্রুত সময়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বলা হয়েছে যে, লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করা হবে।
সন্ধ্যায় যখন তিনি চকরিয়া জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন, তখন সরকারপ্রধান বাজেট নিয়ে বলেন, সরকারের বাজেট ঘোষণাকে দেশের বিশিষ্টজনেরা স্বাগত জানান। তবে কিছু মানুষ এর বিরোধিতা করছেন। তিনি বললেন, বাজেটে মানুষের প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং নিত্যপণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে প্রবেশ, উপকূলে তাণ্ডবের আশঙ্কা

বিরোধীদল বাজেট নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন করেন, সিগারেট ও মদের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে বিরোধীদের ক্ষোভ হতে পারে কিনা।
নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দেশের দরিদ্র নারীদের আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান শুরু করেছে সরকার। তিনি দেশের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট করার ঘোষণা দেন এবং বলেন, বাজেটে স্বাস্থ্য সেবার জন্য যে ব্যবস্থা রয়েছে, যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলেন তারা দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে সচেতন নন।

আরও পড়ুন: জাতীয় সাঁতারে পদকজয়ীদের প্রাইজমানি বাতিল
সরকারের বাজেট জনগণের পক্ষে বলেও তিনি মন্তব্য করেন এবং জনগণের শক্তিকে সরকারের শক্তি বলে উল্লেখ করেন।
তার সফরের বিভিন্ন অংশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, কক্সবাজারের নারী এমপি শামীম আরা স্বপ্না এবং সরকারের আরও অনেক মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। চকরিয়া শহীদ আবদুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনালে বক্তৃতা চলাকালীন সময় হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বিকাল সাড়ে ৫টায় পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যা পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি দেশের ও জনগণের স্বার্থে কথা বলে এবং পেকুয়া পৌরসভা গঠন করতে সকলের সহায়তা করার জন্য আহ্বান জানান।
নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার সময় তিনি বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। চকরিয়া উপজেলা বিভক্ত করে নতুন মাতামুহুরি উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে গত ৭ মে।
আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে অপসারিত হলো ইমাম হোসেনের পিঠের দুই কেজির টিউমার
শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করার সময়, তিনি ওই শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদান করেন।
বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন। তিনি মালুমঘাটের রিংভং এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, যা আগামী ৫ বছরে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
সাফারি পার্ক পরিদর্শনের সময়, প্রধানমন্ত্রী কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে পার্কে ঘুরে বিভিন্ন প্রাণী ও জীব বৈচিত্র্য দেখেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিএনপির সরকারের ৫ বছরে সারদেশের ২০ হাজার খাল খনন করা হবে।
আরও পড়ুন: কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুমুল মারামারি, পুলিশ মোতায়েন
সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং সেখানে অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন।
সার্বিকভাবে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কক্সবাজারের মানুষ এবং রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন