ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাকিস্তানের কাছে হারের স্বাদ নিয়ে বাংলাদেশে পা রাখল অস্ট্রেলিয়া


পাকিস্তানের কাছে হারের স্বাদ নিয়ে বাংলাদেশে পা রাখল অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে পরাজয়ের হতাশা নিয়েই বাংলাদেশ সফরে এসেছে। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে ঢাকায় পৌঁছায় সফরকারীদের প্রথম বহর। আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে যাচ্ছেন তারা। এরপর আরও কিছু ক্রিকেটার আলাদা ফ্লাইটে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

৫টা ২৩ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অস্ট্রেলিয়া দলের প্রথম গ্রুপ অবতরণ করে। সফরে তারা সাদা বলের দুটি সিরিজে অংশ নেবে। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী ৯ জুন প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১১ ও ১৪ জুন একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর চট্টগ্রামে যাবে দুই দল টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল এই সফরে পূর্ণ শক্তির দল নামায়নি। তারা বিশ্রাম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, স্টিভেন স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মার্কাস স্টয়নিসকে দলে রেখেছে না।

বিশেষ করে ম্যাক্সওয়েল ও স্টয়নিসের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তারা চোটমুক্ত হলেও টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পাননি। অন্যদিকে স্টিভেন স্মিথও টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে নেই, যা তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

অস্ট্রেলিয়া এই সফরে কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কে সুযোগ দিয়েছে। ওয়ানডে দলে প্রথমবার ডাক পেয়েছেন পেস অলরাউন্ডার লিয়াম স্কট এবং টি-টোয়েন্টি দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিস। তাদের পারফরম্যান্সের দিকেই নজর থাকবে নির্বাচকদের।

বাংলাদেশ সফরের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয় অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের শেষ ম্যাচে তারা ৪ উইকেটে পরাজিত হয়ে শিরোপা হাতছাড়া করে।

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, সিরিজের টিকিট অনলাইনে বিক্রি শুরু হয়েছে। দর্শকেরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

মিরপুরে ম্যাচগুলোর টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ক্যাটাগরি অনুযায়ী। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড ২,৫০০ টাকা, আন্তর্জাতিক গ্যালারি ১,৫০০ টাকা, ক্লাব হাউস ৬০০ টাকা, নর্দার্ন গ্যালারি ৪০০ টাকা এবং ইস্টার্ন গ্যালারি ২০০ টাকা।

বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার এই সিরিজকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অভিজ্ঞ কয়েকজন তারকার অনুপস্থিতি এবং নতুনদের সুযোগ সব মিলিয়ে সিরিজটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে এই লড়াই শুরু হবে মিরপুরে ৯ জুন থেকে।

আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট ঘোষণা এনসিপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট ঘোষণা এনসিপির

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক একটি ছায়া বাজেট উপস্থাপন করেছে। দলটির দাবি হলো, জনকল্যাণ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, যা এ বাজেটের প্রধান লক্ষ্য।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এই ছায়া বাজেটটি ঘোষণা করেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হল ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৬২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বেশি। তবে, বাজেটের ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বাজেটের আওতায় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশে এবং পরবর্তী অর্থবছরে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ছায়া বাজেটের অধীনে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বর্তমান ৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রথম বছরে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা, টিআইএন-এনআইডি-ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস সংযুক্তিকরণ, সম্পদ কর চালু, বন্দর ডিজিটালাইজেশন এবং অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি বাতিলের মতো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। দলটির হিসাব অনুযায়ী এসব উদ্যোগ থেকে অতিরিক্ত ৭৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।

কর কাঠামোতে সংশোধনের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনগুলোর প্রস্তাবও এনসিপি দিয়েছে। সাধারণ করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, নারী ও প্রবীণদের জন্য ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ লাখ টাকা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জাকাতকে আয়কর রিবেট হিসেবে স্বীকৃতি, উত্তরাধিকার কর চালু করা এবং করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে বাজেটে সবচেয়ে বড় বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে দলের পক্ষ থেকে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ, সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, ৫ হাজার কোটি টাকার শিক্ষক মানোন্নয়ন তহবিল এবং ৫ হাজার স্কুল জাতীয়করণের পরিকল্পনার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ বছরে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করে এসএমই ঋণ, যুব উদ্যোক্তা তহবিল এবং ডিজিটাল প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ২৫ শতাংশ বাজেট বৃদ্ধি করে ৫২ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়। এর আওতায় জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা চালু, দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি, ময়মনসিংহ ও বরিশালে আন্তর্জাতিক মানের সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং ৫০০ নতুন জিপিএস-ট্র্যাকড অ্যাম্বুলেন্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি খাতে আধুনিক শস্য বিক্রয় কেন্দ্র, সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সার ভর্তুকি প্রদান এবং ফসল সংরক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও এনসিপি দিয়েছে।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও পরিবেশ খাতে এনসিপি ‘সোলার এনার্জি সোভারেনটি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এ আইনের আওতায় সৌর পণ্যের ওপর আগামী পাঁচ বছর শূন্য শতাংশ কর নিশ্চিত করার আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার কোটি টাকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচির মাধ্যমে এক বছরে ২ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, ৩ হাজার অফ-গ্রিড গ্রামে সৌর মিনি-গ্রিড স্থাপন এবং ৫০ হাজার ডিজেলচালিত সেচপাম্পকে সৌরভিত্তিক শক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।

নারী ও যুব উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার নারী উদ্যোক্তা তহবিল, স্যানিটারি ন্যাপকিনে শূন্য ভ্যাট, ছয় মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতদের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংক খাত সংস্কারে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন, রাষ্ট্রীয় ‘ব্যাড ব্যাংক’ গঠন, সব তফসিলি ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার প্রতিবেদন প্রকাশ এবং পুঁজিবাজারের আকার জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি, দেশীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়ন, সরকারি ব্যয়ের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং পোর্টাল চালু করা, গোপন সম্পদের ওপর বিশেষ কর এবং একটি স্বাধীন বাজেট অফিস প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও ছায়া বাজেটের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা বলেন, তাদের ৭১ দফা সংস্কার প্রস্তাব শুধুমাত্র একটি বিকল্প বাজেট নয়, বরং দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও বিনিয়োগবান্ধব ‘বাংলাদেশ ২.০’ গঠনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক প্রস্তাব, পরিবারের পৌঁছানোর অনুরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ পি.এম


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক প্রস্তাব, পরিবারের পৌঁছানোর অনুরোধ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা গভীর শোক প্রকাশ করেছে। রাজ্যের বিধানসভা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গৃহীত শোকপ্রস্তাবের অনুলিপি তার পরিবারের কাছে পৌঁছানোর জন্য আবেদন জানিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার জন্য কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের সাহায্য চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রধান সচিব সৌমেন্দ্র নাথ দাসের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনারের কাছে পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি বিধানসভার অধিবেশন চলমান অবস্থায় খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। ওই অধিবেশনের কার্যবিবরণীর সংশ্লিষ্ট অংশের একটি অনুলিপি চিঠির সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।

চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে, শোকপ্রস্তাব সংবলিত ওই অনুলিপি যেন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের কাছে পৌঁছানো হয়। কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে অধিবেশন চলাকালে স্পিকার খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন বিধানসভার সদস্যরা।

প্রায় চার মাস পর, ২ জুন তাং ওই শোকপ্রস্তাবের অনুলিপি পৌঁছে দেওয়ার জন্য কূটনৈতিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়।

শোকপ্রস্তাবে খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্বের কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয় যে, তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্বে ছিলেন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।

এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার অবদান তুলে ধরা হয়। শোকপ্রস্তাবে বেগম খালেদা জিয়াকে দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন রাজনীতির একটি প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন ক্লার্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ পি.এম


ভারতে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন ক্লার্ক

ভারতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক এবং ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। তিনি আইপিএল ফাইনালের ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ শেষে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় তার বহনকারী গাড়িটি একটি সেমি-ট্রেলারের সঙ্গে সংঘর্ষে পতিত হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবর অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার সময়ে। দুর্ঘটনার ফলে ক্লার্কের শরীরে আঘাত লেগেছে এবং তার গাড়ির চালকের পায়ে গুরুতর চোট পরেছে, এমনকি তার হাড় ভাঙার আশঙ্কাও রয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করতে গিয়ে ক্লার্ক জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি গাড়ির ভেতরে ঘুমাচ্ছিলেন। আকস্মিকভাবে ধাক্কার কারণে তার ঘুম ভেঙে যায় এবং দেখেন যে গাড়ির সামনে থাকা অংশটি একটি ট্রাকের নিচে ঢুকে পড়েছে। ক্লার্কের ভাষ্যায়, ট্রাকটি ছিল একটি বড় সেমি-ট্রেলার এবং গাড়িটি সেটির নিচে প্রায় ঢুকে যায়।

তিনি আরও জানান যে, দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে ট্রাকের ব্রেক লাইট ঠিকমতো কাজ না করা, যার কারণে চালক সময়ে বুঝতে পারেননি। এর ফলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় মানুষ সবাই দ্রুত সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন বলে ক্লার্ক জানান। তাদের সহযোগিতার ফলে কার্যকরভাবে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হয় এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। এই সহায়তার জন্য তিনি ভারতের সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া ভারতে ক্লার্ক ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা নিয়মিত তার এবং চালকের স্বাস্থ্য খবর নিয়েছেন।

দুর্ঘটনায় গাড়িটি সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাইকেল ক্লার্ক বর্তমানে নিরাপদে দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মে মাসে দেশে ৮৩ ধর্ষণ, মব সহিংসতায় ৩১ জনের মৃত্যু: এইচআরএসএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২২ পি.এম


মে মাসে দেশে ৮৩ ধর্ষণ, মব সহিংসতায় ৩১ জনের মৃত্যু: এইচআরএসএস

আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির এক উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। সদ্যসমাপ্ত মে মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা কিছুটা কমলেও মব জাস্টিস বা গণপিটুনি ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। গত ৩১ দিনে ৬৬টি মব সহিংসতার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ জন। একই সময়ে সীমান্ত হত্যা, শ্রমিক মৃত্যু, সাংবাদিক নির্যাতন এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে রেকর্ড সংখ্যক।

শুক্রবার (৫ জুন) মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত ‘মে-২০২৬’-এর মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই শিউরে ওঠার মতো তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমের সংবাদ, নিজস্ব সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো মব সহিংসতা। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্মীয় অবমাননা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের মতো ঠুনকো অভিযোগে মে মাসে ৬৬টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। এতে ৩১ জন নির্মমভাবে নিহত এবং ৬৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এদিকে, মে মাসে এপ্রিলের তুলনায় রাজনৈতিক সহিংসতা ও হতাহতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এপ্রিলে যেখানে ৯৮টি ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৫৩৩ জন আহত হয়েছিলেন, সেখানে মে মাসে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ২৮৯ জন আহত হয়েছেন। তবে সহিংসতার ধরন ছিল বেশ উগ্র। আধিপত্য বিস্তার, দলীয় কোন্দল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ঘটা এসব সংঘর্ষের অন্তত ৮টি ঘটনায় ১৩৪টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

দেশের সীমান্তগুলোতেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মে মাসে ৬টি আলাদা ঘটনায় ৬ জন বাংলাদেশি নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হয়েছেন ১৪ জন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন এবং আহত হয়েছেন ১ জন।

মে মাসে শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি ছিল বেশ নাজুক। ৫৭টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়েছেন। এর বাইরে কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় আরও ৪১ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এ ছাড়া এই এক মাসে দেশের কারাগারগুলোতে অন্তত ৭ জন বন্দির মৃত্যু ঘটেছে।

মে মাসে দেশে ৩০৫ জন নারী ও কন্যাশিশু ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৭ জনই অবুঝ শিশু ও কিশোরী। গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭ জন এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৭৬ জন। পারিবারিক সহিংসতার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৩ জন নারী, আহত ৩১ জন এবং আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন ৪৫ জন। অন্যদিকে, আলাদাভাবে অন্তত ২১৫টি শিশু বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৫৬টি শিশুর অকাল মৃত্যু ঘটেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৭৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন, হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪২ জন আহত, ১৮ জন লাঞ্ছিত ও ৯ জন সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছেন। একজন সাংবাদিককে আটক এবং দুটি মামলায় আট সাংবাদিককে আসামী করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরাসরি বা পরোক্ষ বাধায় ১০টি সভা-সমাবেশ পণ্ড হয়েছে, যেখানে ৪১ জন আহত হন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ১১টি ঘটনায় ৬ জনকে আটক ও ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সার্বিক মূল্যায়নে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের এই ধারাবাহিকতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার ও হয়রানি নতুন সংকট তৈরি করেছে।’ মানবাধিকার সুরক্ষায় তিনি সরকারকে আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার এবং নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%