০২:৫৯ পি.এম
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির শরীরের মরদেহ সাতক্ষীরার নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। এ সময় স্বজনদের মধ্যে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে, তাদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের মরদেহ বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার অ্যাম্বুলেন্সে করে তার বাড়িতে পৌঁছায়। তার মরদেহ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়ে তার দুই মেয়ে এবং স্ত্রী। বাবা-মায়ের আহাজারির মাঝে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একই সময়ে, আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে নাহিদুল ইসলামের মরদেহও তার বাড়িতে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় ৫৬০ বোতল ফেনসিডিলজাতীয় সিরাপসহ আটক ১
নিহতের বাবা আফসার আলীর একটিই চাওয়া, তিনি চাইছেন সরকার যেন তার নাতনী দুটির জন্য পড়াশোনা করার ব্যবস্থা করে। বোন দুটি বলছে, তাদের একমাত্র ভাই শফিকুল আর নেই, এখন তাদের দেখার জন্য কেউ নেই। মেয়ে দুটি লেখাপড়া করতে পারে এবং সংসার চালাতে পারে, সে জন্য সরকারের দৃষ্টি সেদিকে যেন থাকে। ঋণের বোঝা মাথার ওপর, সরকার যেন তাদের বাঁচার ব্যবস্থা করে।
নিহতের মেয়ে তামান্না আকতার বৃষ্টি জানাচ্ছে, তাদের লেখাপড়া এবং সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তার বাবা। এখন বাবা নেই, তাদের জীবনধারণের বিষয়টি সরকারের কাছে দেখার দাবি জানাচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ফারুক হোসেন মিঠু জানাচ্ছেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে এদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার দাবি তার।
নিহতের মেয়ে দুটির জন্য ভালুকা চাঁদপুর আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আবু হানিফ বাবলু জানিয়েছেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং সরকারের চাকরির ব্যবস্থা করার দাবি করছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ভারতে পালানোর সময় ছাত্রলীগ নেতা তাওহীদুল ইসলাম বুখারী আটক
গত ১১ মে লেবাননের নাবাতিহ জেলার জেবদিন এলাকায় একটি বাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।
বাংলাদেশ দূতাবাস নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনাসহ লেবানন থেকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছে। তাছাড়া মরদেহ দাফন-কাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকার চেক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। রবিবার জোহরের নামাজের পর তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন