০৬:১১ এম
ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে জ্বর, সর্দি এবং কাশির প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে অনেকেই এই ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকেন।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের সংক্রমণ বেশির ভাগ সময় ভাইরাসের কারণেই হয় এবং সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই এ সমস্যাগুলি নিজে থেকেই সেরে যায়। তাই অযথা অ্যান্টিবায়োটিক বা কফ সিরাপ সেবন করার পরিবর্তে সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা সবচেয়ে নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জ্বর হলে প্রয়োজনে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। এটি শরীরের তাপমাত্রা কমানোর পাশাপাশি মাথাব্যথা, হাত-পা এবং শরীরের ব্যথাও কিছুটা উপশম করতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতিরেকে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়, কেননা ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এই সকল ওষুধ কার্যকর নয়।
আরও পড়ুন: যমুনার বুকে চায়না বাঁধের রূপালী উপাখ্যান
সর্দির কারণে নাক যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কুসুম গরম পানির ভাপ নেওয়া প্রয়োজনীয় এবং উপকারী হতে পারে। এতে শ্বাস নেওয়াটা সহজ হয়, মাথাব্যথা কমে এবং বুকের জমে থাকা কফ বের হতে সহায়তা করে। কাশি বা গলা খুশখুশে ভাব কমাতে কুসুম গরম পানি বা লবণ মিশ্রিত গরম পানিতে কুলকুচি করাও উপকারী।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের নির্দেশানুসারে গলার লজেন্সও ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও, আদা, গোলমরিচ অথবা হলুদ দিয়ে তৈরি গরম পানীয় প্রদাহ কমাতে এবং গলার অস্বস্তি দূর করতে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
জ্বরের সময় শরীরে পানিশূন্যতার দেখা দিতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, স্যুপ, ডাবের পানি অথবা ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পানের উপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি যথেষ্ট বিশ্রাম নেওয়া, হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরা এবং ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা ও বাতাস চলাচল উপযোগী করার মাধ্যমেও দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে ফলমূল, শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, জ্বর বা সর্দি-কাশি হলে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয় অথবা শ্বাসকষ্ট, তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বারবার বমি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা অথবা উচ্চ তাপমাত্রা অনুভূত হয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন: ‘ভালোবাসি’ বললেই কি যথেষ্ট? সম্পর্কে ৫টি বিষয়ও জরুরি
সঠিক সময়ে চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিলে অধিকাংশ ভাইরাসজনিত জ্বর ও সর্দি সাধারণত কোনো জটিলতা ছাড়াই ভালো হয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন