প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৃষ্টি নামলেই চারপাশের পরিবেশ যেন ছড়িয়ে পড়ে এক শান্ত, স্নিগ্ধ ও আরামদায়ক আবহ। অনেকেরই তখন চোখে ভর করে ঘুম, কাজের তুলনায় বিছানাই যেন বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ‘বৃষ্টি হলেই ঘুম পায়’—এটি নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়; বরং অধিকাংশ মানুষই এই অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, বৃষ্টির দিনে কেন এত বেশি ঘুমের অনুভূতি হয়? এর পিছনে রয়েছে আমাদের শরীর ও মস্তিষ্কের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ।
চলুন দেখে নেওয়া যাক, বৃষ্টির দিনে কেন ঘুম বেশি আসে:
১. সূর্যালোকের অভাব
বৃষ্টির দিনে সূর্য দেখা যায় না বললেই চলে। ওই সময় আলো কমে যাওয়ায় শরীরের ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বা দেহঘড়ি বিঘ্নিত হয়ে পড়ে। ফলে আমাদের ঘুমানোর সময়ের সঙ্গে জাগ্রত থাকার সময় গুলিয়ে যায়, যার ফলে প্রভাব পড়ে আমাদের ঘুমে। কম আলোতে শরীর ঘুমের সংকেত পায়।
২. ঠান্ডা ও আরামদায়ক আবহাওয়া
বৃষ্টির সময় তাপমাত্রা সাধারণত কমে যায়। ঠান্ডা, স্যাঁতস্যাঁতে এবং আরামদায়ক পরিবেশ আমাদের শরীরকে শিথিল করে দেয়, যার ফলে ঘুমের অনুভূতি তৈরি হয়। বিজ্ঞান বলছে, ঠান্ডা পরিবেশে ঘুম ভালো হয়—এবং বৃষ্টি সেটাই এনে দেয়।
৩. বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ
বৃষ্টির টুপটাপ শব্দটি একটি প্রাকৃতিক হোয়াইট নয়েজ। এ ধরনের শব্দ মনকে প্রশান্ত করে, বাইরের বিরক্তিকর শব্দকে চাপা দেয় এবং ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ নিঃসরণে সাহায্য করে।
৪. বাতাসে চাপ ও অক্সিজেনের পরিবর্তন
বৃষ্টির সময় বায়ুচাপ কমে যায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ে। এসব পরিবর্তন আমাদের স্নায়ু ব্যবস্থায় ঘুমের অনুভূতি তৈরি করে। আবার অনেক সময় এ সময় বাতাসে বেশি পরিমাণ ‘নেগেটিভ আয়ন’ থাকে, যা শরীরকে আরাম দেয়।
৫. মানসিক প্রশান্তি ও অলসতা
বৃষ্টির ছন্দ, প্রকৃতির সজল রূপ এবং চারপাশের নীরবতা আমাদের মনকে শান্ত করে। কাজের তাড়া কম থাকলে অবচেতনভাবেই অলসতা ও ঘুম এসে পড়ে। বিশেষ করে ছুটির দিন বা শুয়ে বসে থাকার সময়ে এই ঘুমের অনুভূতি আরও বৃদ্ধি পায়।
বৃষ্টির দিনের ঘুম আসা প্রকৃতির এক মায়াবী ডাক। শরীর ও মন—দুটোই শান্তির খোঁজে থাকে এমন দিনে। তবে কাজ থাকলে একটু সচেতন হলে বৃষ্টির ঘুমঘুম ভাব সামলানো সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন