০৬:৩৫ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রজনন হরমোন এবং বন্ধ্যাত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফ্লোরিডা রহমান বলেছেন, বন্ধ্যাত্ব নিয়ে অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই চিকিৎসা নিতে ভুল করেন। আবার অনেকে দালালের খপ্পরে পড়ে পাশের দেশে বা অন্যত্র চলে যান। এই পরিস্থিতিতে আমরা মানুষকে জানাতে চাই যে, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা সম্ভব। রোগীদের সচেতন করার আগে আমরা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, বাস্তবতা হচ্ছে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আমেরিকার আইভিএফের সফলতার হার ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু প্রচার করা হয় পাশের দেশে সফলতার হার ৯০ শতাংশ। প্রশ্ন হচ্ছে, গভর্ধারণের এই সফলতার হার কীভাবে সম্ভব।
এছাড়া, তিনি বলেছেন, ইসলাম ধর্মে স্পার্ম দান করা হারাম। ধর্মীয় অনুশাসনের কারণে দেশে এটি করা যায় না, তবে পাশের দেশে এটি সম্ভব। এই কারণে তাদের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় সফলতার হার আমাদের তুলনায় কিছুটা বেশি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভার ভিউ হোটেলে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, তিনি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা ও সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের কীনোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রেখেছিলেন।
লুমিনা আইভিএফ অ্যান্ড ফার্টিলিটি কেয়ার লিমিটেড-এর উদ্যোগে এবং এসকেইএফ ফার্মাসিউটিক্যালস-এর আয়োজনে এই সেমিনারে দেশের বন্ধ্যাত্ব ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করেছেন।
সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘এডভান্সমেন্টস ইন অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজিস’। এখানে আধুনিক আইভিএফ চিকিৎসা, বন্ধ্যাত্ব ব্যবস্থাপনা, প্রजनন স্বাস্থ্যসেবার নতুন প্রযুক্তি এবং রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রজনন হরমোন এবং বন্ধ্যাত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রওশন আরা এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. উম্মুল খায়ের মাহমুদা।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী অঞ্চলের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা, প্রজনন চিকিৎসা এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকরা অংশ নেন।
আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত সব দম্পতির আইভিএফ চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীকে সফলভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব এবং সাধারণত মাত্র ১০-১৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে আইভিএফ প্রয়োজন হয়। রোগীর বয়স, বন্ধ্যাত্বের কারণ, ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর গুণগত মান এবং ভ্রূণের মানের উপর নির্ভর করে আইভিএফ চিকিৎসার সাফল্যের হার প্রতি চক্রে গড়ে ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করলে সফলভাবে সন্তান লাভের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলায় তিন দিনব্যাপী আম মেলার উদ্বোধন আয়োজন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী মেলার উদ্বোধন করেন।
জেলা প্রশাসক তার বক্তৃতায় বলেন, দেশের কৃষি অর্থনীতিতে আম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফল। দেশে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের চাহিদা ব্যাপক। এই চাহিদা আরও বৃদ্ধি করতে হলে কৃষকদের নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং উন্নত পরিচর্যার মাধ্যমে আমের গুণগত মান বহুগুণে বৃদ্ধি করা সম্ভব।
জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে মঞ্চের সামনে জেলা কৃষি অধিদপ্তর আয়োজিত মেলায় ১১টি স্টলে ২ শতাধিক বিভিন্ন জাতের আমসহ অন্যান্য বিভিন্ন জাতের ফল প্রদর্শন করা হয়।
পরে, মঞ্চে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনাইন বিন জামান।
এসময়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বিপ্লব কুমার মজুমদার, জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম জাকারিয়াসহ কৃষি অফিসের কর্মকর্তাসহ কৃষক ও কৃষানীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান যে, তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্দেশ্য হলো দেশীয় ফল সবার কাছে পরিচিত করা এবং পাশাপাশি উন্নত জাতের ফল চাষাবাদে কৃষকরা উপকৃত হবে। মেলায় হর্টিকালচার থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলের চারা ও আচার প্রদর্শন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, জেলা মুকসুদপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে নারকেল গাছের চারা ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে, আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবিরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আয়শা সিদ্দিকা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছালাম খান।
বক্তারা বলেন, উন্নত জাতের এ চারা ও সার বিতরণের ফলে বিনামূল্যে অঞ্চলের কৃষকরা দারুণভাবে উপকৃত হবেন।
এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের ফলজ উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারেকুল ইসলাম রাজু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান মিন্টু, উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ রুহুল কুদ্দুস আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায়, উন্নত জাতের ফসল ও ওষুধি বৃক্ষের আবাদ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
উপজেলার মোট ৩৬০ জন কৃষক ও উপকারভোগীর মাঝে ১ হাজার ৮শ উন্নত জাতের নারকেল গাছের চারা ও প্রয়োজনীয় সার বিতরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে এবার সারা দেশের ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই তথ্য জানিয়েছেন। আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এসব তথ্য তুলে ধরেন। মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী পাঠ্যক্রমের বাইরেও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে এমন বহুমুখী কর্মকাণ্ড শুরু করা হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে আড়াই মাসব্যাপী চলা এই প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছেলে ও ১১ লাখের বেশি মেয়ে শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।
তৃণমূল তথা গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে শিক্ষার্থীরা এখন ঢাকার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, আগামীতে এই সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। শিশুদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত করতে সংবাদমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন সংস্কারের কথা তুলে ধরে, উপদেষ্টা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘স্পোর্টস’ (ক্রীড়া) ও ‘কালচার’ (সংস্কৃতি) নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের মধ্যে টিম স্কিল, ডিসিপ্লিন ও ইন্টারপার্সোনাল স্কিল তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করা।
এছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে। এই কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা পুথিগত বিদ্যার বাইরের আনন্দঘন পরিবেশে শিখে যাবে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সবার জন্য ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’ বা কারিগরি শিক্ষা তাত্ত্বিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। যা অষ্টম শ্রেণি থেকে ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবহারিক রূপ পাবে।
তিনি আরও জানান, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতায় ইতিমধ্যে ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী ও ২৪ হাজার শিক্ষকের সমন্বয়ে ১২ হাজার টিম অংশগ্রহণ করেছে। এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী সেখানেও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেরা ১০০টি টিমকে মূল্যায়ন ও পুরস্কৃত করবেন। একই অনুষ্ঠানে একযোগে দেশের ২৯ হাজার ৬৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ও ফিজিক্যালি বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তায় এবং বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী জাতি বিনির্মাণের ইতিবাচক উদ্যোগ, যেমন—বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, গণশিক্ষা ও শিশু-কিশোরদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। সরকার একটি সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চায় না, বরং এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, নৈতিকতা ও বলিষ্ঠ চরিত্র সৃষ্টি হবে। এই লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গার্লস গাইড, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিতর্ক, বিজ্ঞান উৎসব ও নতুন কুঁড়ির মতো দেশব্যাপী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমিয়ে আনতে দুই মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ