০৬:৩৮ পি.এম
প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে এবার সারা দেশের ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই তথ্য জানিয়েছেন। আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এসব তথ্য তুলে ধরেন। মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী পাঠ্যক্রমের বাইরেও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে এমন বহুমুখী কর্মকাণ্ড শুরু করা হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে আড়াই মাসব্যাপী চলা এই প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছেলে ও ১১ লাখের বেশি মেয়ে শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।
তৃণমূল তথা গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে শিক্ষার্থীরা এখন ঢাকার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, আগামীতে এই সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। শিশুদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত করতে সংবাদমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: সামান্তা শারমিনের পদাবনতি: পুনর্গঠিত এনসিপিতে কার স্থান কোথায়?
শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন সংস্কারের কথা তুলে ধরে, উপদেষ্টা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘স্পোর্টস’ (ক্রীড়া) ও ‘কালচার’ (সংস্কৃতি) নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের মধ্যে টিম স্কিল, ডিসিপ্লিন ও ইন্টারপার্সোনাল স্কিল তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করা।
এছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে। এই কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা পুথিগত বিদ্যার বাইরের আনন্দঘন পরিবেশে শিখে যাবে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সবার জন্য ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’ বা কারিগরি শিক্ষা তাত্ত্বিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। যা অষ্টম শ্রেণি থেকে ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবহারিক রূপ পাবে।
তিনি আরও জানান, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতায় ইতিমধ্যে ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী ও ২৪ হাজার শিক্ষকের সমন্বয়ে ১২ হাজার টিম অংশগ্রহণ করেছে। এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী সেখানেও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেরা ১০০টি টিমকে মূল্যায়ন ও পুরস্কৃত করবেন। একই অনুষ্ঠানে একযোগে দেশের ২৯ হাজার ৬৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ও ফিজিক্যালি বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তায় এবং বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী জাতি বিনির্মাণের ইতিবাচক উদ্যোগ, যেমন—বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, গণশিক্ষা ও শিশু-কিশোরদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। সরকার একটি সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চায় না, বরং এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, নৈতিকতা ও বলিষ্ঠ চরিত্র সৃষ্টি হবে। এই লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গার্লস গাইড, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিতর্ক, বিজ্ঞান উৎসব ও নতুন কুঁড়ির মতো দেশব্যাপী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমিয়ে আনতে দুই মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হলো ৩৫ বাংলাদেশি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন