০৯:২০ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে পূর্ববতী নির্বাহী আদেশ বাতিল হওয়ার পরে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার লক্ষ্যে নতুন দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে আদেশে স্বাক্ষর করার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ছিল। তাই আমরা নতুন করে কিছু সমন্বয় করছি।’
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার জানান, নতুন আদেশগুলোর মধ্যে একটি ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা ঠেকাতে চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে
অন্য আদেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অযোগ্য ব্যক্তিদের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এর আওতায় বিদেশি সরকারের পক্ষে লবিং করা সম্ভাব্য বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে এখনো হোয়াইট হাউস নির্বাহী আদেশ দুটি প্রকাশ করেনি সম্পূর্ণরূপে। মিলার বলেন, ‘বহু বছর ধরেই মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে আসছে।
অনেকেই পর্যটকের পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসে, তারা উল্লেখ করে যে ডিজনিল্যান্ড বা কোনো জাতীয় উদ্যান দর্শন করার উদ্দেশ্যে এসেছেন। কিন্তু প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো এখানে সন্তান জন্ম দেওয়া, যাতে সেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়ে যায়।’
তার দাবি, এভাবে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিক সন্তানের মাধ্যমে পরিবার পরে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা, এমনকি ভবিষ্যতে ভোটাধিকারসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা ভোগের সুযোগ পেতে পারে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি
এর আগে, ২০২৫ সালের প্রথম দিনেই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে লক্ষ্য করে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটের মাধ্যমে সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।
মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে উল্লেখ রয়েছে, যে সকল ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ বা নাগরিকত্ব লাভ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারাধীন আছেন তারা যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নাগরিক।
দিনের পর দিন, ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন। তার দাবি, ১৪তম সংশোধনী মূলত গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের দাসপ্রথা থেকে মুক্ত হওয়া মানুষের শিশুর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এটি গৃহযুদ্ধের ঠিক পরপরই করা হয়েছিল। এটি ছিল দাসদের সন্তানের জন্য।’
বিশ্লেষকদের ধারণা, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্পের এই নতুন আদেশ যুক্তরাষ্ট্রে একটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক পুনরায় উস্কে দিতে পারে। কারণ, এর আগে একই ধরনের আদেশের বিরুদ্ধে সারা আমেরিকাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আইনি লড়াইয়ে নেমেছিল। একসঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিলেন শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষরা।
আরও পড়ুন: শাহজালাল রুমিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান হয়নি: রাশেদ খাঁন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন