০৯:৩১ এম
সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হচ্ছে জুমার দিন। আল্লাহ তাআলা এই বিশেষ দিনটিকে অন্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
সুতরাং জুমার দিনে মুমিনের হৃদয়ে মমতা ও হৃদ্যতার অপার্থিব একটি সুখ ফুটে ওঠে। পারস্পরিক সৌহার্দ-সম্প্রীতি ও ভালোবাসার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। এ দিনের কিছু নির্দিষ্ট ইবাদত ও আমল রয়েছে, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে প্রাপ্ত হয়েছে। নিম্নলিখিতভাবে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো—
১. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন।
আরও পড়ুন: মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে মসজিদুল হারামে নামাজ ও কাবা শরিফের তাওয়াফ অব্যাহত
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০៦৮)
জুমার দিনে এই সুরা তিলাওয়াত করার একটি কারণ হলো এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের কথা এবং কিয়ামতের দিন সবাইকে সমবেত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এসবই হবে জুমার দিনে। এই কারণে এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মৃতিযোগ করা হয়।
২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।
কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)
আরও পড়ুন: আমিরাতে শুরু হলো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব
৩. জুমার নামাজ আদায় করা: ইসলামের যেসব ফরজ বিধান আছে, এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো জুমার নামাজ। আরাফার দিবসের পর জুমার দিনে সবচেয়ে বেশি মানুষ একসঙ্গে সমবেত হয়। যারা জুমার নামাজকে অবহেলা করে কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাআলা তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেন।
৪. গোসল করা: এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে। সালিম (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে।
(তিরমিজি, হাদিস: ৪৯২)
৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা: অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি নিশ্চিত যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করা উচিত। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০)
আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া: জুমার দিনের ফজিলত লাভের জন্য এই আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত।
৭. ইবাদতে মশগুল থাকা: ইমাম জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াত করা উচিত।
৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে এক অনর্থক কাজ করেছে। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪০১)
৯. সুরা কাহফ পড়া: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বলা হয়েছে, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত হবে।’ (আত-তারগিব, হাদিস: ৭৩৫)
আরও পড়ুন: সত্য গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে যে বিষয়গুলো
১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা: নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে জানা যায়, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজ এবং জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ এই দুইটি সুরা পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১৩)
কিছু বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা পড়তেন।
১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা: আবু জার (রা.) থেকে বলা হয়েছে, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, পবিত্রতা অর্জন করে, তার উত্তম পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার নামাজে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুই ব্যক্তির মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস: ১০৯৭)
১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো: ওমর (রা.) জুমার দিনে দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: মুমিনের জন্য জান্নাতে সুখের আবাস নিশ্চিত করতে নেক কাজের তাগিদ
১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা: এদিন মহান রবের কাছে গুনাহ মাফের বর্ষণ হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, যদি কোনো মুসলিম পবিত্র হয়ে জামে মসজিদে হাঁটতে থাকে, তারপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে তার নামাজ ওই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে, যদি সে ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বাঁচে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)
১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা: জুমার দিনে কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বলা হয়েছে, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করাটা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৮৩)
জুমার দিনে কিংবা রাতে যে মারা যায়, তার জন্য কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে, এটা এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না, এটা নিশ্চিত নয়।
১৫. বেশি বেশি দোয়া করা: বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বলা হয়েছে, নবী (সা.) বলেছেন, জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেন, সে মুহূর্তটি অত্যন্ত স্বল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫৮)
আরও পড়ুন: স্বামীর চাকরি ও মানসিক শান্তির জন্য শাহজালাল (রহ.) মাজারে স্ত্রীর চিঠি
বেশিরভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে মাগরিবের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন