০১:৪৫ পি.এম
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় একটি বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনাটি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ২০টি জুতার বাড়ি দিয়ে মীমাংসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই দুপুরের সময় উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের হারিয়াকাহন গ্রামের প্রায় ৩০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী নারী বাড়িতে একা থাকাকালে মহব্বত আলী খাঁ (৪৫) নামে একই গ্রামের একজন তার বাড়িতে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী নারীর চিৎকার শুনে তার মা এবং স্থানীয়রা আসার সময় অভিযুক্ত পালিয়ে গেছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার এবং স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে যে, ঘটনাটি পুলিশকে না জানিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ১২ জুলাই রাতে ইউপি সদস্য মালেকের বাড়ির উঠানে একটি সালিশ বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে গৌরীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব, ইউপি সদস্য মিল্টন, আরশেদ আলী, মালেক ও অন্যান্য স্থানীয় মাতব্বর উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, র্যালি ও সমাবেশ
সালিশ বৈঠকে অভিযুক্ত মহব্বত আলী খাঁকে ২০টি জুতার বাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই শাস্তি কার্যকর করার পর তাকে মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং পুরো বিষয়টি সেখানে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগীর এক স্বজন জানায়, প্রথমে অভিযুক্তকে সাতটি জুতার বাড়ি, জুতার মালা পরিয়ে এলাকা চষানোর মতো আরও কিছু শাস্তির আলোচনা হয়, কিন্তু পরে কয়েকজনের হস্তক্ষেপে শুধুমাত্র ২০টি জুতার বাড়ি দিয়েই বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি এ ঘটনায় অভিযুক্তের স্বজনদেরও প্রভাব ছিল। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সালিশে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সালিশ বোর্ডে উপস্থিত থাকা ইউপি সদস্য আরশেদ আলী বলেছেন, তিনি আইন সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং চেয়ারম্যানের ডাকে সেখানে গিয়েছিলেন। গৌরীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব জানিয়েছেন, অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন যে, এ ধরনের অপরাধ সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করার উপায় নেই। তবে বলেন, উভয় পক্ষের সম্মতিতে সালিশটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলেন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রাচীন রামাগাড়ী কাচারীঘরের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ, বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্য
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না মন্তব্য করেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুসারে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের বিচার গ্রামের সালিশে করার কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার পর তিনি থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া, কেন এ ধরনের সালিশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে তলব করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন