ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জনগণের সমর্থন থাকলে দেশ পুনর্গঠনে কোনো বাধাই টিকবে না: প্রধানমন্ত্রী


জনগণের সমর্থন থাকলে দেশ পুনর্গঠনে কোনো বাধাই টিকবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, 'বর্তমান বিএনপি সরকারের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে, বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশটাকে একদিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।'

আজ সকালে গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ডিএনসিসি প্রশাসক: ফুটপাতে ব্যবসার পক্ষে কেউ নেই, সড়ক দখল উচ্ছেদে জনগণের সহযোগিতা জরুরি

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নারীদের ডেকে জানতে চান, 'আপনি ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন? এই কার্ড নিয়ে কী কী উপকার পেয়েছেন?'

এ সময় পারুল আখতার নামে এক নারী মঞ্চে গিয়ে বলেন, 'এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব দূর হয়েছে। আমি আশা করি, আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের এরকম সহযোগিতা করে যাবেন। বিপদে-আপদে সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এখানে ৬০০-এর মতো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আমি জানি, আরও অনেক পরিবার আছে, যারা এখনও কার্ড পায়নি। তবে আগামীতে তারাও পাবে। সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে সকল পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।'

তিনি আরও বলেন, 'আজ মা-বোনদের কাছে শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে সংসারের কাজগুলো গুছানোর জন্য একটু হলেও তাদের সুবিধা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন।'

আরও পড়ুন: সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে: মীর শাহে আলম

তারেক রহমান বলেন, 'দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের প্রত্যেক মা ও প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সকলের সাহায্য, সমর্থন ও সহযোগিতা বর্তমান সরকারের প্রয়োজন।'

বিএনপি সরকারকে পাশে থাকতে দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা সকলে যদি সরকারকে সহযোগিতা করে পাশে থাকেন, তাহলে আমরা আস্তে আস্তে সারাদেশেই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা সমাজে বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব। ধীরে ধীরে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে আমাদের নারীরা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও তারা শক্তিশালী হবে।'

দেশের সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে ভালো থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা দেশের সকল নাগরিক এবং সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। আমরা ধৈর্যশীল হলে এই বাংলাদেশকে আমাদের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।'

আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: আইজিপির দায়িত্ব থেকে দ্রুত সরে যাওয়া উচিত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান যে ধর্মের অনুসারীই হই, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য সকল ধর্মের মানুষ মিলে শান্তিতে বসবাস করার। কাজেই বর্তমান ও ভবিষ্যতেও ধর্মীয় ভেদাভেদ না করেই চলতে চাই। সবাইকে মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই আমরা।'

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা একটি কথা বলে থাকি, "করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"। এবার আরেকটি কথা বলতে চাই, 'করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ"। আগামী দিনে সবাই যাতে একটু ভালো থাকতে পারি, সবাই যাতে একটু ভালোভাবে চলতে পারি সেটিই হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি এবং আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।'

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা।

এরপর প্রধানমন্ত্রী গৌরনদী থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি সেখানে ত্রিশ গোডাউনের বধ্যভূমি-সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

আরও পড়ুন: উল্লাপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, প্রধান অতিথি এম আকবর আলী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একটি ছোট্ট সেতুর অপেক্ষায় কয়েক গ্রামের মানুষ, স্বাধীনতার পরও সাঁকোই ভরসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ পি.এম


একটি ছোট্ট সেতুর অপেক্ষায় কয়েক গ্রামের মানুষ, স্বাধীনতার পরও সাঁকোই ভরসা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের দক্ষিণ চর হাজীপুর মাঝি বাড়ি থেকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মাস্টার বাজার পর্যন্ত যাতায়াতের পথে আজও উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছায়নি। স্বাধীনতার এত বছর পরেও ব্রহ্মপুত্র নদের একটি শাখা খালের ওপর একটি ছোট সেতুর অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ হলো, হোসেনপুর উপজেলার অংশে খালের ওপর একটি সেতু না থাকায় প্রতিদিন কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। জরুরি অসুস্থ রোগী পরিবহনেও দেখা দেয় চরম ভোগান্তি।

এলাকাবাসী জানান যে, জিনারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ ফসলি জমি খালের ওপারে। কৃষকদের উৎপাদিত ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য মাঠ থেকে ঘরে তুলতে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সোমবার(১৩ জুলাই) সরেজমিনে কথা হলে সাবেক গ্রাম সরকার আবেদ আলী বলেন, "স্বাধীনতার পর থেকে আমরা শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি। একটি ছোট্ট সেতুর অভাবে কয়েকটি গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট করছে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।"

স্থানীয় কৃষক মোসারফ বলেন, "আমাদের জমি খালের ওপারে। ধান, পাটসহ সব কৃষিপণ্য এই সাঁকো দিয়ে আনা-নেওয়া করতে হয়। এতে সময়, শ্রম ও খরচ অনেক বেড়ে যায়। অনেক সময় কৃষিপণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।"

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুম বলেন, "এটি শুধু একটি গ্রামের নয়, কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রাণের দাবি। একটি সেতু হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। আমরা দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।"

ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এনামুল হক মাঝি বলেন, "এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ সহ্য করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে দ্রুত এই স্থানে একটি সেতু নির্মাণ সম্ভব। আমরা অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ চাই।"

ক্ষুদে শিক্ষার্থী আশিক বলে, "প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে খুব ভয় লাগে। বর্ষাকালে আরও বেশি ভয় হয়। আমরা চাই এখানে একটি ভালো সেতু হোক, তাহলে নিরাপদে স্কুলে যেতে পারব।"

স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে সেতু নির্মাণের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।

এলাকাবাসীর দাবি হলো, একটি ছোট্ট সেতুই বদলে দিতে পারে কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা। সহজ হবে শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান। সভার চলাকালে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, সড়ক নিরাপত্তা, বাজার তদারকি, বল্য বিবাহ, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার মানোন্নয়ন সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার, ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইব্রাহিম মোল্লা, ২নম্বর নদমূলা-শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবা উদ্দিন আরিফ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, ৭ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আঃ রহমান, শাহাবুদ্দিন সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম, সাংবাদিক শাহজাহান হোসেন, তরিকুল ইসলাম সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সভায় বক্তারা উপজেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে এতিম কন্যার বিয়ের আয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


পিরোজপুরে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে এতিম কন্যার বিয়ের আয়োজন

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে সরকারি শিশু পরিবারে সুহানি আক্তার নামে এক এতিম কন্যার বিয়ের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন ও সমাজ সেবা অধিদপ্তর।

গতকাল রোববার রাতে পিরোজপুর সরকারি শিশু পরিবার ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় কনের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কনে সুহানি আক্তারকে বরের হাতে তুলে দেন এবং নবদম্পতির সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।

সরকারি শিশু পরিবার সূত্রে জানা যায়, পিতৃমাতৃহীন সুহানি আক্তার ২০১৫ সালে সরকারি শিশু পরিবারে আশ্রয় পান। সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামের রাকিব শেখের সঙ্গে এক লাখ এক টাকা দেনমোহরে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, সমাজসেবা অধিদপ্তর পিরোজপুরের উপপরিচালক মো. ইকবাল করিম, সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক শাবানা খানমসহ জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।

এ বিয়েকে কেন্দ্র করে সরকারি শিশু পরিবারে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে বসবাসরত এতিম ও দুস্থ শিশুরা তাদের সহপাঠীর নতুন জীবনের সূচনাকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। হাসি, শুভেচ্ছা ও আবেগে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শিশু পরিবার ক্যাম্পাস।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অভিভাবকহীন শিশুদের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। এ সময় তারা ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের জন্য জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুদানের আরএসএফ নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালোকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৩ পি.এম


সুদানের আরএসএফ নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালোকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত

সুদানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেত্তি) এবং তার দুই ভাইসহ ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। যা রবিবার আদালতে মনোনীত কাউকে উপস্থিত না রেখে করা হয়।

আদালত মূলত এক আঞ্চলিক গভর্নরকে হত্যার পাশাপাশি যুদ্ধকালীন সময়ে সংঘটিত নৃশংসতার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই রায় প্রদান করে। এই রায় পশ্চিম দারফুরের রাজধানী এল জেনেইনায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা দায়ের করার পর দেওয়া হয়।

২০২৩ সালের জুনে, আরএসএফ যোদ্ধারা পশ্চিম দারফুরের গভর্নর খামিস আবাকারকে আটক করে তাদের স্থানীয় সদর দপ্তরে নিয়ে গিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, আঞ্চলিক কমান্ডার আবদুল রহমান জুমা বারকাল্লাহর উপস্থিতিতে তাকে সেখানে হত্যা করা হয়।

এই হত্যার পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় যে, তার মরদেহ বিকৃত করা হচ্ছে। পোর্ট সুদানের আদালতের বিচারক এক বিবৃতিতে জানান, মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেত্তি), তার ভাই আবদেলরহিম দাগালো ও আল-কনি হামদান দাগালোসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক কমান্ডার আবদুল রহমান জুমা বারকাল্লাহ, সাবেক ডেপুটি গভর্নর এল-তিজানি আল-তাহির কারশুম, আরএসএফের বর্তমান রাজ্য কমান্ডার ইদ্রিস হাসান হারুন, কিছু আরব গোত্রপ্রধান এবং আরএসএফ-সমর্থক এক কর্মী। আদালত ১৬ জন আসামিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস এবং নিষিদ্ধ যুদ্ধকৌশল ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

এছাড়া, আদালত আরএসএফের সব সম্পদ সুদানের সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এতে করে দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ প্রদানের কথা জানানো হয়।

বিচারক মন্তব্য করেন যে, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। পাশাপাশি সুদানের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার কারণে এসব অপরাধ রাজনৈতিক ক্ষমার আওতায়ও এসে না। আদালতে একটি রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, পরিকল্পিতভাবে সম্পত্তি ধ্বংস ও লুটপাট এবং বেসামরিক মানুষ, আবাসিক এলাকা, স্কুল ও উপাসনালয়ের ওপর হামলার জন্য আরএসএফ প্রধান হেমেত্তি আইনগতভাবে দায়ী।

অন্যদিকে, আবদেলরহিম দাগালোকেও এল জেনেইনা শহর অবরোধ পরিকল্পনা, বাসিন্দাদের ওপর কঠিন পরিস্থিতি চাপিয়ে দেওয়া, বেসামরিক লোকজনকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার এবং মাসালিত জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যায় অংশগ্রহণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত আল-কোনি দাগালোকে এল জেনেইনায় হামলায় সহায়তা প্রদান করার কারণে দোষী সাব্যস্ত করেছে। বিচারকের মতে, তিনি জানতেন যে, আরএসএফ বাহিনী সেখানে নৃশংসতা চালাচ্ছে, তবুও হামলায় সহযোগিতা করেছিলেন। আবদুল রহমান জুমা বারকাল্লাহকে মাসালিত অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পরিকল্পিত হামলার সময় আরএসএফ ও তাদের মিত্র মিলিশিয়াদের নেতৃত্ব দেবার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সহিংসতা বেড়ে গেলে মাসালিত সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ এল জেনেইনা ও পশ্চিম দারফুরের অন্যান্য অঞ্চল ছাড়তে বাধ্য হয়ে পূর্ব চাদের সীমান্তে আশ্রয় নিতে গিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%