ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির ফলে রেকর্ড পতন, পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন


চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির ফলে রেকর্ড পতন, পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কমেছে। এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। চলতি বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫২ হাজার ৭৫৬ জন।

সোমবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মিলনায়তনে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।

আরও পড়ুন: ত্যাগীদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি মোঃ ফারুক আলীর

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশে পৌঁছে। ২০২৪ সালে পাসের হার কিছুটা বেড়ে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ হয়েছে। ২০২৫ সালে আবার কমে তা ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। আর এ বছর বড় পতন ঘটে পাসের হার নেমে এসেছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে।

এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪৬৩ জন এবং বহিষ্কৃত ১০ জন।

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবার গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। ২০২২ সালে অকৃতকার্য হয়েছিল ১৮ হাজার ৪৭০ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে ৩২ হাজার ৫৫৩ জন হয়েছে। ২০২৪ সালে কিছুটা কমে ২৪ হাজার ৯২৫ জন হয়েছে, কিন্তু ২০২৫ সালে তা আবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ২৫৭ জনে। চলতি বছর এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন।

শুধু এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২২ সালে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল ১৪ হাজার ১৯৪ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ২৮ হাজার ৭৯১ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

মানবিক বিভাগের ফলাফলেও বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবার তা কমে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশে এসেছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে গত বছর পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এবার সেটি কমে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে মানবিক বিভাগে। গত বছর এটি ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ ছিল। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে।

জিপিএ-৫ কমেছে। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৭ হাজার ৭৮৭ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা কমে ১১ হাজার ৪৫০ জনে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে ১১ হাজার ৪০২ জন এবং ২০২৫ সালে ১১ হাজার ৮৪৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন, যার মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ২৭৫ জন ও ছাত্র ৪ হাজার ১২৩ জন।

পাহাড়ি জেলাগুলোতেও ফল বিপর্যয় ঘটেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাহাড়ি জেলাগুলোতে পাসের হারে বড় পতন সূচিত হয়েছে। কক্সবাজারে গত বছর পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এবার তা কমে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ হয়েছে। রাঙামাটিতে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ হয়েছে। খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ হয়েছে। বান্দরবানে ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: ফেনীতে যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিলেন ১০০-এরও বেশি নারী-পুরুষ

চট্টগ্রাম মহানগরেও পাসের হার কমেছে। গত বছর মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবারে তা কমে ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ হয়েছে। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ হয়েছে। মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে কমে ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮টিতে। গত বছর এটি ছিল ১ হাজার ১৬৪টি। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২১৯টি থেকে কমে গিয়ে ২১৮টি হয়েছে।

সর্বমোট চলতি বছরের এসএসসি ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার, জিপিএ-৫ ও শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়সহ প্রায় সকল সূচকেই অবনতি সাধিত হয়েছে। একই সঙ্গে অকৃতকার্য ও এক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থার মান এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠেছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে চোরাই ল্যাপটপ ও একডজন মোবাইল ফোন সহ গ্রেফতার ২

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৫ পি.এম


কাউখালীতে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

পিরোজপুরের কাউখালীতে ইতিমধ্যে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোঃ সাব্বির আহমেদ রুমনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে কাউখালী থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে পুলিশের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে। গ্রেপ্তারকৃত সাব্বির আহমেদ রুমন উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের মেঘপাল গ্রামের মোঃ খাইরুজ্জামানের ছেলে। তিনি কাউখালী থানার জিআর মামলা নম্বর ৯৩/২৩-এর এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে পরিচিত। কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সাব্বির আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতের সাজা রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। পুলিশ জানায়, সাজাপ্রাপ্ত আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডন গ্রেপ্তারের পর এবার অন্য আসামিদের নিয়ে প্রশ্ন নীলা চৌধুরীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


ডন গ্রেপ্তারের পর এবার অন্য আসামিদের নিয়ে প্রশ্ন নীলা চৌধুরীর

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হক গ্রেপ্তার হওয়ার পর এবার মামলার অন্য আসামিদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, ডনকে কোনোভাবেই জামিন না দেওয়া উচিত।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে যুক্তরাজ্য থেকে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘ডনকে প্রশ্রয় দেয় কে? কেন এসব কথা সামনে আসছে না? কেন অন্যরা এখনো ঘরে বসে আছে, কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না?’

রোববার (৯ আগস্ট) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক হন আশরাফুল হক ওরফে ডন হক। তিনি সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি। ডনের গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করলেও মামলার অন্য আসামিরা এখনো বাইরে থাকার কারণেই হতাশা প্রকাশ করেছেন সালমান শাহর মা।

নীলা চৌধুরীর অভিযোগ, ডন বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দিয়েছেন এবং সালমান শাহ ও তার পরিবারকে নিয়ে নানান কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আসামি হওয়ার পরও ডন বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে চলাফেরা করেছেন।’ তার প্রশ্ন, ‘এতদিনেও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি?’

সালমান শাহর মা বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা ছিল, ছেলের হত্যার বিচার পাব। আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার হবে। সেটা হয়নি। এখনো মূল আসামিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার একটাই চাওয়া, কোনোভাবেই যেন ডন জামিন না পায়। সে ইমন (সালমান শাহ) হত্যার সঙ্গে জড়িত। তাকে এজন্য শাস্তি পেতেই হবে।’

কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নীলা চৌধুরী। তিনি ডনের সঙ্গে সালমান শাহর বন্ধুত্বের দাবিও নাকচ করেন। তার ভাষ্য, ‘ডন একসময় সালমানের আশ্রয়ে তাদের বাসায় থাকতেন। পরে তার আচরণ নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।’

নীলা চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, ‘সালমান শাহ জীবিত থাকা অবস্থায় ডন তার কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিতেন।’ তার ভাষায়, ‘স্বার্থ ছাড়া এমন মানুষ কখনো প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না।’

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানান আলোচনা ও জল্পনা চলছে। মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পরে গত বছর আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন গত বছরের অক্টোবরে।

মামলার পর ডনের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার অভিযোগও করেছিলেন নীলা চৌধুরী। তিনি জানান, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডন তাকে হুমকি দিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে যেতে বলেছিলেন।’ একসময় যে ব্যক্তি তাদের পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সাহস পেতেন না, তিনি কীভাবে তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার সাহস পেলেন-এ প্রশ্নও তোলেন নীলা।

তার অভিযোগ, ‘ডনের পেছনে কারও না কারও প্রশ্রয় রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ডনকে প্রশ্রয় দেয় কে, কেন ডিপজলকে বলে দিতে হয়? ডিপজল কেন বলবে সে বিমানবন্দরে? আগে থেকেই তো এরা চোখের সামনেই হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। যে কারণে সাহস বেড়েছিল।’

নীলা চৌধুরীর ধারণা, ‘কেউ ডনকে আশ্বস্ত করেছিল এবং বিমানবন্দর দিয়ে তাকে দেশের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করা হতে পারে।’ তাই ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

সবশেষে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘এখনো মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন।’ প্রধান আসামি সামিরাসহ সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে নন, চারপাশেই আছেন।’ তার একমাত্র প্রত্যাশা, সালমান শাহ হত্যার বিচার যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনা যুবক বরিশালে প্রেমের টানে, সামাজিক রীতি মেনে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২২ পি.এম


চীনা যুবক বরিশালে প্রেমের টানে, সামাজিক রীতি মেনে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন

প্রেমের টানে চিনের নাগরিক বাই জিন সিং বাংলাদেশি তরুণী অর্চনা ডাকুয়াকে বিয়ে করতে বরিশাল পৌঁছেছেন। हाल ही में, দুই পরিবারের সম্মতিতে সামাজিক এবং ধর্মীয় রীতি মেনেই উপজেলার হারতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কনে বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এদিকে, চীন থেকে প্রেমের টানে উজিরপুরে এসে বাংলাদেশি তরুণীকে বিয়ে করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই নবদম্পতির ছবি এবং বিয়ের খবর শেয়ার করে তাদের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় তরুণীর এই বিয়ের ঘটনা এখন পুরো এলাকায় আলোচনা ও কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হারতার বাসিন্দা অমল ডাকুয়ার বড় মেয়ে অর্চনা ডাকুয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্কের পরে চীন থেকে উজিরপুরে আসেন বাই জিন সিং। এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিদেশি বরকে একনজর দেখার জন্য কৌতূহলী মানুষের ভিড়ও দেখা যায়। বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির দুই মানুষের এই মিলন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

কনের বাবা অমল ডাকুয়া বলেন, 'মেয়ের বিয়েতে আমরা খুশি। দুই পরিবারের সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। মেয়ের নতুন জীবনের জন্য আমাদের শুভকামনা। তারা যেন সুখে-শান্তিতে সংসার করতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।'

কনের মা আরতী ডাকুয়া বলেন, 'মেয়ের বিয়ে হয়েছে, এতে আমরা আনন্দিত। মেয়ের সিদ্ধান্ত ও তাদের সম্পর্কের বিষয়ে আমরা জানতাম। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হওয়ার কারণে আমরা খুশি। মেয়ের ভবিষ্যৎ জীবন যেন সুন্দর হয়, সেটাই চাই।'

স্থানীয় বাসিন্দা রানা মণ্ডল বলেন, 'ভালোবাসার কোনো সীমানা নেই- এই বিয়ের মধ্য দিয়ে সেটিই যেন প্রমাণিত হয়েছে। ভিন্ন দেশের দুজন মানুষ একে অপরকে ভালোবেসে নতুন জীবন শুরু করেছেন, এটা সত্যিই আনন্দের বিষয়।'

মিঠুন বলেন, 'চীন থেকে একজন মানুষ ভালোবাসার টানে উজিরপুরে এসেছেন—বিষয়টি আমাদের এলাকার জন্য আনন্দের ও ব্যতিক্রমী ঘটনা। নবদম্পতির জন্য আমরা সবাই শুভকামনা জানাই।'

এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভিন্ন দেশের মানুষের এমন বিয়ে এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না। তাই বিয়েটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি আনন্দও দেখা গেছে। তাদের প্রত্যাশা, ভালোবাসার এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুন্দর ও সুখের হবে।'

হারতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার জানান, 'বিষয়টি আমি শুনেছি। সামাজিকভাবে চীনা যুবক ও বাংলাদেশি ওই তরুণীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোবিন্দ অবশেষে পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৪ পি.এম


গোবিন্দ অবশেষে পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন

বলিউডের ৯০-এর দশকের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দ এবং তার স্ত্রী সুনীতা আহুজার দাম্পত্যজীবন সংবাদ শিরোনামে উঠেছে বহুবার। বিশেষ করে বিভিন্ন সময়ে একাধিক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে গোবিন্দর প্রেমের সম্পর্ক ও পরকীয়া নিয়ে সুনীতার খোলাখুলি বক্তব্য বিনোদনপাড়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নব্বইয়ের দশকে এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে গোবিন্দর পরকীয়া জড়ানোর অভিযোগ তুলেছিলেন তার স্ত্রী। দীর্ঘদিনের এসব গুঞ্জন ও স্ত্রীর মন্তব্যের জবাবে অবশেষে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর কাছে মুখ খুলেছেন এই বলিউড তারকা।

গোবিন্দ তার বক্তব্যে স্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি সাফল্য ও মনোযোগ পাওয়ার জন্য নিজের মানুষকে নিয়ে প্রকাশ্যে কটু কথা বলার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন যে, সুনীতা অতীতেও তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কথা বলেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এও স্মরণ করিয়ে দেন, তিনি যখন কাজের ব্যস্ততায় ঘরের বাইরে থাকতেন, তখন সুনীতা একাই পরিবারের সব দায়িত্ব সামলেছেন এবং সন্তান ও আত্মীয়দের বড় করে তুলেছেন। স্ত্রীর প্রতি কৃতিত্ব দিয়ে গোবিন্দ বলেন, সে আমাকে অনেক ভালোবাসা থেকেই গালমন্দ করে, আর আমি সেটি ভালোবাসার সঙ্গেই মেনে নিই। তার মতে, ওপরওয়ালা যাকে যে স্থানে বসিয়েছেন এবং যে ভূমিকা দিয়েছেন, তারা না থাকলে তারা আজকের এই সফল জায়গায় পৌঁছাতে পারতেন না। তাদের পরিবারের অনেক সন্তান আজ বড় হয়েছে, সেসবের ওপর সুনীতার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং সে তাদের প্রতি সব সময়ই সদয় ছিল।

নিজের বিষয়ে স্ত্রীর এমন মন্তব্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গোবিন্দ ইঙ্গিত দেন যে, জনসমক্ষে এসব কথা বলার পর থেকেই সুনীতা সবার নজর কাড়তে শুরু করেছেন। গোবিন্দ বলেন, অনেক বিষয় অধরা থেকে যায়—যা কখনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। যদি তিনি বাইরে থেকে শুধু ওই বিষয়গুলোর একটি আভাস দেন, তবে কি দূরত্ব তৈরি করতে মিথ্যা কলঙ্ক লেপন করার কোনো প্রয়োজন ছিল? মানুষ প্রায়ই এটাকে একটি পালানোর পথ হিসেবে দেখে। সফলতা পাওয়ার জন্য নিজের মানুষদের সম্পর্কে খারাপ কথা বলা কি সত্যিই খুব জরুরি? এটি কিছুটা সহজ হলেও সুনীতা তা কৌশলগতভাবে করে। সে হয়তো দুটি ভালো কথা বা প্রশংসা করে, আর এরপর একটি সমালোচনা ছুড়ে দেয়। গোবিন্দ এই পুরো ব্যাপারে ভালোবাসার কথাই বেশি দেখতে পান।

অভিনয়জীবনের সেই সোনালি দিনগুলোতে সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে বলতে গিয়ে গোবিন্দ জানান, সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে তার চমৎকার বোঝাপড়া ও ভালোবাসার সম্পর্কের কারণেই তখন গানগুলো এতটা সফল হতো। শ্রীকৃষ্ণের নামানুসারে তার নাম ‘গোবিন্দ’ রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি তার প্রয়াত মা নির্মলা দেবীর একটি উপদেশের কথা স্মরণ করেন। তার মা সব সময় বলতেন, নাম যেহেতু গোবিন্দ, তাই চারপাশে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে সব সময় হাসিখুশি থাকতে ও জীবনকে উপভোগ করতে হবে। সুনীতার অভিযোগ প্রসঙ্গে মায়ের একটি মন্তব্যের স্মৃতিচারণ করে গোবিন্দ বলেন, সুনীতা যখনই তাকে কিছু বলত, তখন তার মা বলতেন—‘সুনীতা, তোমার কারণেই সে শুটিং শেষ করে অন্য কোনো নায়িকার সঙ্গে দেখা না করে সরাসরি বাড়ি ফিরে আসে।’

পরকীয়া বা দাম্পত্যে বিশ্বস্ততার বিষয়টি টেনে এনে ‘পার্টনার’ খ্যাত এই অভিনেতা বলেন, বিবাহিত হলেই যে মানুষ অন্য কারও সঙ্গে প্রেমে জড়াবে না—এমনটি নয়। তিনি রসিকতা ও প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতের সুর মিলিয়ে বলেন, ৩৪ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি এতটাই নিষ্পাপ ছিলেন যে এখন ভেবে নিজেরই লজ্জা লাগে। তিনি যোগ করেন, পুরুষরা মাঝেমধ্যে এমন কিছু বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে যা পরবর্তীতে তাদের অনুশোচনার কারণ হয়, আর নারীরা পরিবারের কথা ভেবে শক্ত অবস্থান নিতে পারেন। ২১ থেকে ৩৪ বছর বয়সের মধ্যে তার জীবনে কী ঘটছিল, তা বুঝতে তার বহু বছর সময় লেগেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে গোবিন্দ জোর দিয়ে দাবি করেন, তৎকালীন জনপ্রিয় সব নায়িকাদের সঙ্গে তার সম্পর্কের ভিত্তি ছিল নিছকই গাঢ় ভালোবাসা ও সম্মান। গোবিন্দ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আপনি তার যেকোনো নায়িকার সঙ্গে দেখা করে দেখতে পারেন। অন্য কোনো নায়কের কথা জিজ্ঞেস করলে তারা হয়তো লাজুক হেসে বলবে—‘হ্যাঁ, উনি আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন।’ কিন্তু যখন তার কথা জিজ্ঞাসা করবেন, তখন তাদের চোখ দিয়ে ভালোবাসার জল গড়িয়ে পড়বে। তিনি মনে করেন, একজন নারীর চোখের এই ভালোবাসার জল কখনো কেনা যায় না, এটি অন্তরের গভীর থেকে আসে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন গোবিন্দ ও সুনীতা আহুজা, যখন গোবিন্দ ইতিমধ্যেই বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছেন। ক্যারিয়ারটির ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় প্রায় দুই বছর তারা নিজেদের বিয়ের খবর গোপন রেখেছিলেন। পরবর্তীতে তাদের প্রথম কন্যাসন্তান টিনা আহুজা জন্ম নেওয়ার পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের কথা প্রকাশ করেন। এই দম্পতির ইয়াশবর্ধন আহুজা নামে এক ছেলেসন্তানও রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%