প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কমেছে। এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। চলতি বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫২ হাজার ৭৫৬ জন।
সোমবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মিলনায়তনে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশে পৌঁছে। ২০২৪ সালে পাসের হার কিছুটা বেড়ে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ হয়েছে। ২০২৫ সালে আবার কমে তা ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। আর এ বছর বড় পতন ঘটে পাসের হার নেমে এসেছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে।
এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪৬৩ জন এবং বহিষ্কৃত ১০ জন।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবার গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। ২০২২ সালে অকৃতকার্য হয়েছিল ১৮ হাজার ৪৭০ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে ৩২ হাজার ৫৫৩ জন হয়েছে। ২০২৪ সালে কিছুটা কমে ২৪ হাজার ৯২৫ জন হয়েছে, কিন্তু ২০২৫ সালে তা আবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ২৫৭ জনে। চলতি বছর এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন।
শুধু এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২২ সালে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল ১৪ হাজার ১৯৪ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ২৮ হাজার ৭৯১ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ।
মানবিক বিভাগের ফলাফলেও বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবার তা কমে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশে এসেছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে গত বছর পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এবার সেটি কমে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে মানবিক বিভাগে। গত বছর এটি ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ ছিল। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে।
জিপিএ-৫ কমেছে। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৭ হাজার ৭৮৭ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা কমে ১১ হাজার ৪৫০ জনে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে ১১ হাজার ৪০২ জন এবং ২০২৫ সালে ১১ হাজার ৮৪৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন, যার মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ২৭৫ জন ও ছাত্র ৪ হাজার ১২৩ জন।
পাহাড়ি জেলাগুলোতেও ফল বিপর্যয় ঘটেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাহাড়ি জেলাগুলোতে পাসের হারে বড় পতন সূচিত হয়েছে। কক্সবাজারে গত বছর পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এবার তা কমে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ হয়েছে। রাঙামাটিতে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ হয়েছে। খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ হয়েছে। বান্দরবানে ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরেও পাসের হার কমেছে। গত বছর মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবারে তা কমে ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ হয়েছে। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ হয়েছে। মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে কমে ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
২০২৬ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮টিতে। গত বছর এটি ছিল ১ হাজার ১৬৪টি। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২১৯টি থেকে কমে গিয়ে ২১৮টি হয়েছে।
সর্বমোট চলতি বছরের এসএসসি ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার, জিপিএ-৫ ও শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়সহ প্রায় সকল সূচকেই অবনতি সাধিত হয়েছে। একই সঙ্গে অকৃতকার্য ও এক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থার মান এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন