ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রতারণা মামলায় সোহমের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ


প্রতারণা মামলায় সোহমের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ

প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগে মামলায় জামিন পেতে আগাম আবেদন করেছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক ও টালিউড অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। আদালত ওই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদনে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) সোহমের আইনজীবী যখন আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন, তখন দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে বালুরঘাট জেলা আদালতের অতিরিক্ত ও দায়রা বিচারক মানস বসু ওই জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন।

গত ২১ মে বালুরঘাট থানায় সোহমের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং হত্যার হুমকির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন বালুরঘাটের মঙ্গলপুরের বাসিন্দা প্রযোজক তরুণ দাস।

আরও পড়ুন: অবকাঠামো উন্নয়নে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে : সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী

তার অভিযোগ, ২০১৮ সালে একটি কর্মাশিয়াল বাংলা সিনেমা তৈরির জন্য সোহমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার কাছ থেকে ১৫ লাখ রুপি হাতিয়ে নেন সোহম। তারপর ওই অর্থ ফেরত চাওয়ার সময় সোহম তাকে দিতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, তরুণ দাস তার সিনেমার মুখ্য চরিত্রের জন্য সোহমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সম্মানি হিসেবে তিনি অভিনেতাকে ১৫ লাখ রুপি অগ্রিম দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালে তরুণ বুঝতে পারেন সিনেমাটির কাজ আর এগোবে না। আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে তিনি অভিনেতার কাছে টাকা ফেরত চান, কিন্তু এতে উল্টো হুমকির সম্মুখীন হন।

এ প্রসঙ্গে তরুণ দাস সংবাদমাধ্যমে বলেন, “এতগুলো বছর ধরে টাকা চেয়েও পাইনি। উল্টো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আদালতের আগাম জামিন আবেদন খারিজের নির্দেশে ন্যায়বিচারের আশা দেখছি।”

এ বিষয়ে সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সোহম চক্রবর্তীর আইনজীবী শেখর দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, সোহম সিনেমায় কাজের জন্য সময় দিতে প্রস্তুত ছিলেন কিন্তু অভিযোগকারী সিনেমার কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: জামায়াত নিজেদের কর্মীদের ছাড়া একজন ফকিরকেও ভিক্ষা দেয় না: মীর শাহে আলম

এমন পরিস্থিতিতে আদালতের লিখিত নির্দেশ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন সোহম চক্রবর্তী এবং তার আইনজীবী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“ফিফার দ্বৈত নীতি নিয়ে সমালোচনায় দক্ষিণ আফ্রিকা”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


“ফিফার দ্বৈত নীতি নিয়ে সমালোচনায় দক্ষিণ আফ্রিকা”

ফিফার দ্বৈত নীতির যে তীব্র নিন্দা দক্ষিণ আফ্রিকার, তা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বিতর্ক ফিফার পিছু নিয়েছে। ভিসা ইস্যু, রেফারিকে মাঠে ঢুকতে না দেওয়া এবং অভিবাসন কঠোর নীতির বেড়াজালে বৈশ্বিক এই আসর মলিন হয়ে রয়েছে।

গ্রুপ পর্বে সব দলই তাদের নিজ নিজ ম্যাচে মাঠে নেমেছে। এই অবস্থায় রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বৈত নীতির অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ানকে লাল কার্ডের কারণে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। এই সিদ্ধান্তে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস গভীর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, গত মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের উদ্বোধনী জয়ের ম্যাচে আইসা মান্দির পায়ের পেছনে লাথি মারার জন্য মেসি কোনো ধরনের শাস্তি পাননি। এই বিষয়টি নিয়ে রেফারিংয়ে দ্বৈত নীতি নিয়ে আক্ষেপ করেছেন ব্রুস।

তিনি জানিয়েছেন, থেম্বা জোয়ানকে নিষিদ্ধ করার সঙ্গে আলজেরিয়ার ম্যাচে আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসির ফাউলের বিষয়ে তার মনে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা স্পষ্ট।

ওই সংবাদ সম্মেলনে কোচ হুগো বলেন, ‘আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসির জন্য ভিএআরে নিয়ম এক, আর থেম্বা জোয়ানের জন্য আরেক নিয়ম কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই না মেসি লাল কার্ড পাক। ওর মতো একজন খেলোয়াড় কে মাঠে থাকতে হবে। আমরা সবাই দেখেছি, কতটা অসাধারণ খেলোয়াড়। কিন্তু, তাতে কী আসে যায়?’

থেম্বার লাল কার্ড কঠোর সিদ্ধান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি যুক্তি তুলে ধরেন, থেম্বার করা ফাউলটি আমরা পুনরায় দেখেছি এবং তাতে মনে হয় না যে, এটি লাল কার্ড দেওয়ার মত কঠিন ফাউল ছিল।’

ব্রুস, জোয়ানেকে দেওয়া লাল কার্ড এবং তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার কথাও জানান।

বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্যাম্পে ভূপাতিত করার ঘটনাও ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির প্রলোভনে অনলাইন প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির প্রলোভনে অনলাইন প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২ জন

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের নাম হল— নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মো. রাকিবুল হোসেন (২৬) এবং রংপুরের মো. রনি ইসলাম ওরফে খাজা মোহাম্মদ আলী (১৯)। বুধবার (১৭ জুন) নীলফামারীর সৈয়দপুর থানার কামারপুকুর বাজার এলাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে ৬টি মোবাইল ফোন ও ১২টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়, যা প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।

সিআইডি জানিয়েছে, মামলার ভুক্তভোগী একজন ওমানপ্রবাসী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁর পূর্বপরিচিত একজন ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা বলে যোগাযোগ করেন। পরে ওই ব্যক্তি কথিত অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী খাজা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে তাঁকে যোগাযোগ করিয়ে দেন। পরবর্তীতে রনি ইসলাম খাজা মোহাম্মদ আলী পরিচয়ে মোবাইল ফোন, ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগ করে অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি প্রসেসিং, অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ ও ভিসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন খরচের কথা বলে অর্থ দাবি করেন। ভুক্তভোগী ধাপে ধাপে বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ১,৪৬,৪০০ টাকা পাঠান। পরে আরও অর্থ নেওয়ার জন্য একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও সরবরাহ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা হয়নি। পরে অভিযুক্তদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাঁদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাগনে বাদী হয়ে ২ জুন যাত্রাবাড়ী থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করেন।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, রনি ইসলাম খাজা মোহাম্মদ আলী নামে নিজেকে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত আকর্ষণীয় ভিডিও প্রচার করে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করা হতো।

এছাড়া বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগের জন্য অস্ট্রেলিয়ান নম্বরভিত্তিক ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহৃত হতো, যাতে ভুক্তভোগীরা বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন।

সিআইডির ভাষ্য অনুসারে, রাকিবুল হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গ্রহণ, স্থানান্তর ও লেনদেন ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতেন। তাঁরা পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতে পাঠানো হবে।

এদিকে, বিদেশে চাকরি বা অভিবাসনের সুযোগের কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে সিআইডি থেকে। এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী সংস্থা এবং ভিসা-সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে অ্যাডভোকেসি ডায়লগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে অ্যাডভোকেসি ডায়লগ

‘নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সাহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি, প্রতিরোধ গড়ি, প্রতিকার করি’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে নেত্রকোনায় সরকারী বেসরকারী অংশীদারিত্ব বিষয়ক একটি অ্যাডভোকেসি ডায়লগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই অনুষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে শহরের রাজেন্দ্রপুর ব্র্যাক রিজিওনাল অফিসে অনুষ্ঠিত হয়, যা জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইবারসিটি এর উদ্যোগে সম্পন্ন হয়।

ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো. খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক সদর কর্মকর্তা শারমীন শাহাজাদী, জেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদক আলপনা বেগম, এবং নারী প্রগতি সংঘের ব্যবস্থাপক মৃণাল কান্তি চক্রবর্তী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রতিপাদ্য বিষয়ে প্রতিরোধ ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সারভাইভারদের জন্য দ্রুত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে যৌথ উদ্যোগ নির্ধারণ সম্পর্কে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের রিজিওনাল ম্যানেজার সেলিনা বেগম।

পরে মুক্ত আলোচনা চলে, যেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলার কন্যাশিশুসহ কিশোরী ও নারীদের অনিরাপত্তার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়। এ চিত্রের বেশিরভাগই মাদকসেবীদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে বলে জানা যায়।

এছাড়াও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে সমাজের উঁচু নিচু সকল স্তরেই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা।

প্রতিকার পেতে হলে বক্তারা মনে করেন, মাদকের ভয়াবহতা কমানো এবং সমাজের সকল ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ও শিক্ষক সমাজের সামাজিক সচেতনতা ও মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধ-অবরোধে কি ইরান লাভবান হলো, সিএনএনের বিশ্লেষণে যা উঠে এলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


যুদ্ধ-অবরোধে কি ইরান লাভবান হলো, সিএনএনের বিশ্লেষণে যা উঠে এলো

মনে করা হয়েছিল যে, কয়েক মাসের টানা যুদ্ধ এবং কঠোর নৌ-অবরোধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়েছে। পারস্য উপসাগরের তলদেশে তলিয়ে গেছে দেশের নৌবাহিনী, ধ্বংস হয়েছে বিমানবাহিনী এবং পুরো অর্থনীতি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের ধুলোবালি ও ক্ষত যখন মুছে যেতে শুরু করেছে, তখন এমন একটি অদ্ভুত সমীকরণ সামনে আসছে। চলমান এই যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়েও হয়তো আরও শক্তিশালী ও সুবিধাজনক অর্থনৈতিক অবস্থানে গিয়ে পৌঁছাতে পারে ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) যদি সত্যি কার্যকর হয়, তাহলে তা ইরানের জন্য একটি বড় জ্যাকপট হতে পারে। এই চুক্তির আওতায় বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ইরানের বিশাল অঙ্কের সম্পদ মুক্ত করা হবে, এবং পাশাপাশি দেশটির ওপর থেকে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। তাতে বিপুল পরিমাণ নগদ বিনিয়োগের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তভাবে তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে।

এই চুক্তির সবচেয়ে বড় এবং তাৎক্ষণিক সুফল হলো ইরানের আয়ের মূল উৎস তথা তেল বিক্রির পথ আবার উন্মুক্ত হওয়া। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কারণে ইরান এখন তেল ট্যাংকারে ভাসমান অবস্থায় থাকা কোটি কোটি ব্যারেল তেল কোনো বাধা ছাড়া বিক্রি করতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটি এখন দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করতে সক্ষম হবে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি। তা ছাড়া এত দিন কালোবাজারে চড়া ছাড়ে তেল বিক্রি করতে হলেও, এখন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বৈধভাবে সম্পূর্ণ মূল্যে তেল বিক্রি করতে পারবে তেহরান। গত কয়েক মাস ধরে মার্কিন ব্লকেডের কারণে পারস্য উপসাগর থেকে ইরানের তেল রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তবে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৩৮ লাখ ব্যারেল তেল সফলভাবে রফতানি করেছে ইরান।

তেল বিক্রির পাশাপাশি অন্য একটি বড় স্বস্তি আসছে জব্দ হওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার মাধ্যমে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ আটকে আছে, যা দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই বৈশ্বিক তহবিলের পরিমাণ ১২৪ থেকে ১৬৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যা যুদ্ধপূর্ব ইরানের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। তবে মার্কিন প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি রক্ষা না করা পর্যন্ত এই তহবিলের একটি ডলারও ছাড় করা হবে না।

এর বাইরে যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে এই চুক্তিতে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ইস্পাত এবং পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাসহ বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার বলে দাবি করেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জি-৭ বৈঠকে জানিয়েছেন যে, এই তহবিলটি মার্কিন করদাতাদের টাকায় নয়, বরং বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নে গঠিত হবে। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইরানের আচরণ না দেখে এখনই সেখানে বিনিয়োগ করতে কতটা আগ্রহী হবেন, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ইরানের ব্যাংক এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করতে পারবে। যদিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ভয়ে অনেক বিদেশি ব্যাংক এখনই ঝুঁকি নিতে চাইবে না, তবু এই চুক্তিটি মার্কিন নীতির গত পাঁচ দশকের ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন জোর দিয়ে বলেছে, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধসহ সমস্ত শর্ত মেনে চলতে হবে, অন্যথা নিষেধাজ্ঞা আবার ফিরে আসবে।

সব মিলিয়ে, চুক্তিটি যদি সত্যি টিকে থাকে, তাহলে তা ইরানের আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি ও খাদ্যপণ্যের দাম কমাতে সাহায্য করবে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ইরানের মূল সমস্যা কেবল নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা। ফলে এই বিশাল অর্থ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কতটা কাজে লাগবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েই যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%